পূজার আনন্দে ছন্দপতন

আগের সংবাদ

নারী এশিয়া কাপ: টানা তিন জয়ে সবার ওপরে ভারত

পরের সংবাদ

বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে সয়াবিন বিক্রি

প্রকাশিত: অক্টোবর ৫, ২০২২ , ১২:৪৩ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ৫, ২০২২ , ১২:৪৪ অপরাহ্ণ

সরকারের পক্ষ থেকে দাম বাড়ানোর ঘোষণার আগের দিন থেকেই সয়াবিনের দামে চলে নানা টালবাহানা। বাড়তে থাকে দাম। ক্ষেত্রবিশেষে বাজার থেকে উধাও হয়ে যায় তেল। কিন্তু দাম কমানোর ক্ষেত্রে থাকে নানা অজুহাত। এবার ব্যবসায়ীদের অজুহাত বেশি দামে কেনার কারণে সরকার নির্ধারিত দামে তারা সয়াবিন তেল বিক্রি করতে পারছেন না। এবার সয়াবিন তেলের দাম ১৪ টাকা কমানোর ঘোষণায়ও বাজারে এর দাম কমেনি।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৪ টাকা কমিয়ে ১৭৮ টাকা নির্ধারণ করার ঘোষণা এলেও দেশবাসীকে এখনো বাড়তি দামেই কিনতে হচ্ছে রান্নার এই অপরিহার্য উপকরণটি। গতকাল মঙ্গলবার থেকে নতুন দাম কার্যকরের যে ঘোষণা তেল বিপণন কোম্পানিগুলো দিয়েছে, তার কোনো স্বাক্ষর নেই বাজারে। প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর তেল বাজারজাতকারী কোম্পানিগুলোর মোর্চা বাংলাদেশ ভেজিটেবল ওয়েল রিফাইনার্স এন্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৪ টাকা আর খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৭ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে জানায়, নতুন এই দাম কার্যকর হবে মঙ্গলবার (গতকাল) থেকে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বোতলজাত এক লিটার তেল বিক্রি করতে হবে ১৭৮ টাকায়- যা এতদিন ছিল ১৯২ টাকা। আর পাঁচ লিটার বোতলের দাম হবে ৮৮০ টাকা- যা এতদিন ছিল ৯৪৫ টাকা। খোলা সয়াবিন তেলের নতুন দাম হবে ১৫৮ টাকা- যা এতদিন ছিল ১৭৫ টাকা। কিন্তু বাজারে পুরোনো দামেই বিক্রি হচ্ছে সয়াবিন।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মুদি দোকানি ইমন বলেন, বর্তমানে যে সয়াবিন তেল রয়েছে, এগুলো সব আগের দামে কেনা। নতুন দামে এখনো তেল দোকানে আনা হয়নি। যে কারণে ১৭৮ টাকা দরে বিক্রি করলে লোকসান গুণতে হবে। গত ২৩ আগস্ট যখন তেলের দাম লিটারে ৭ টাকা বাড়ানো হয়, সে সময় ব্যবসায়ীরা আগের কম দামে কেনা তেলের দাম বাড়িয়ে দেন সঙ্গে সঙ্গে। এই চিত্র তারও আগে দেখা গেছে। এমনও দেখা গেছে দাম বাড়ানোর ঘোষণা আসার ১০ দিনেও ক্রেতারা নতুন দামে তেল কিনতে পারেননি। মায়ের দোয়া স্টোরের কাইয়ুম জানান, নতুন কোনো দামের নির্দেশনা তারা পাননি। এজন্য আগের দরে সয়াবিন তেল বিক্রি করছেন।

মায়ের দোয়া স্টোরে তেল কিনতে আসা ফয়েজ বলেন, তেলের দাম কমলেও বাজারে সেটার প্রভাব পেলাম না। আগের দামেই তেল কিনতে হলো। অথচ দাম বাড়লে সঙ্গে সঙ্গে সেটার প্রভাব পড়ে।

মিরপুরের ৬০-ফিট সড়কে জেনারেল স্টোরের দোকানি আবুল মিয়া বলেন, তেলের দাম এক লিটার ১৯২ টাকা। ঘোষণা তো ১৭৮ টাকা, ১৪ টাকা কেন বেশি দেব এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, নতুন দামের তেল এখনো সরবরাহ করা হয়নি। কোম্পানির প্রতিনিধি তেল দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। পুরনো সয়াবিন তেলই বিক্রি করতে হচ্ছে। ক্রেতারা নতুন দামের তেল চাচ্ছেন, কিন্তু দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ নিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হচ্ছে।

এদিকে পাইকারি বাজার কারওয়ান বাজারের চিত্রও একই। এই বাজারে তেলের ডিলার বিপ্লব কুমার সাহা বলেন, পাইকারি বাজারে এখন তেল সরবরাহে ঘাটতি নেই। চাহিদামতো তেল এখন পাওয়া যাচ্ছে। তবে তেলের নতুন দাম ঘোষণার পর এখনো তেল আসেনি। সাধারণত দাম নির্ধারণের তিন-চার দিন পর নতুন দামের থেকে তেল সরবরাহ শুরু করেন মিল মালিকরা। তখন নতুন দামে তেল বিক্রি করা যাবে। খোলাবাজার তো বটেই এমনকি সুপার শপেও নতুন দাম কার্যকর হতে দেখা যায়নি। সেখানকার বিক্রেতারা এসব বিষয়ে কথাই বলতে চান না। একাধিক বিক্রেতা বলেছেন, তাদের কোম্পানি থেকে যে মূল্য তালিকা দেয়া হয়েছে, সেই দামেই তারা তেল বিক্রি করতে বাধ্য।

এমকে

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়