ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, হাসপাতালে ৫২৫

আগের সংবাদ

সভাপতি মেহ্লাঅং মারমা, সম্পাদক সদ‍স‍্য কুমার তঞ্চঙ্গ‍্যা

পরের সংবাদ

শচীঅঙ্গন ধামে ‘ভৈরবী’ নামে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত: অক্টোবর ৩, ২০২২ , ৬:৫৪ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ৩, ২০২২ , ৬:৫৬ অপরাহ্ণ

হবিগঞ্জের বাহুবলের জয়পুরে অবস্থিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর মাতুলালয় শ্রী শ্রী শচীঅঙ্গন ধামে শারদীয় দুর্গাপূজায় মহা অষ্টমীতে ষষ্ঠবারের মত কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৩ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়ে ১২টায় এ পূজা শেষ হয়।

শ্রীশ্রীশচীঅঙ্গন ধামে কুমারী পূজার জন্য মাতৃভাবের পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে এবছর কুমারী মায়ের আসনে বসানো হয় প্রমা চক্রবর্তীকে। কুমারীর বয়স ১২ বছর হওয়ায় শাস্ত্রীয় নিয়মে ‘ভৈরবী’ নামে তিনি পূজিত হন। পূজা কার্যক্রম পরিচালনা করেন পুরোহিত পান্নালাল গোস্বামী। কুমারি প্রমা চক্রবর্তীর গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার কাটিয়ারা গ্রামে।

কুমারী পূজা উপলক্ষে সোমবার সকাল থেকেই বৃষ্টি উপেক্ষা করে হিন্দু ধর্মপ্রাণ নারী-পুরুষের পদচারণয় মুখর হয়ে উঠে। অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মানুষও কুমারী পূজা দেখতে মন্দির প্রাঙ্গণে ভিড় জমায়।

হিন্দু শাস্ত্রমতে, কুমারী পূজার উদ্ভব হয় কোলাসুরকে বধের মধ্য দিয়ে। কোলাসুর এক সময় স্বর্গ-মর্ত্য অধিকার করায় বাকি বিপন্ন দেবগণ মহাকালীর শরণাপন্ন হয়। সে সব দেবগণের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেবী কুমারী রূপে কোলাসুরকে বধ করেন। এরপর থেকে মর্ত্যে কুমারী পূজার প্রচলন শুরু হয়। পরে কুমারী পূজাকে সর্বজনীন করেন স্বামী বিবেকানন্দ।

পূজা দেখতে আসা ডলি দেব জানান, আগে টেলিভিশনে কুমারী পূজা দেখেছি। আজ বাস্তবে দেখে ভাল লাগছে। এই পূজার মাধ্যমে নারী শক্তির জয় এই কামনা করি। ৭০ বছর বয়সী হরেকৃষ্ণ দেব জানান, এর আগে কোথাও কুমারী পূজা দেখা হয়নি। আজ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর মাতুলালয়ে এসে সেটা দেখার সৌভাগ্য হলো। তাই পরিবারের সবাই মিলেই এই পূজা দেখতে চলে এসেছি।

কুমারি পূজা দেখতে এসে বাহুবলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহুয়া শারমিন ফাতেমা বলেন, প্রথমবারের মত কুমারি পূজা দেখে ভালো লেগেছে। পূজা পরিদর্শনে এসেছিলেন হবিগঞ্জ-১ (বাহুবল-নবীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শাহনওয়াজ মিলাদ গাজী, হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আলমগীর চৌধুরী, বাহুবল মডেল থানার ওসি রাকিবুল ইসলাম, বাহুবল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন লিয়াকত, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহমদ কুটি, বাহুবল মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি নুরুল ইসলাম নূরসহ নেতৃবৃন্দ।

পুরোহিত উপস্থিত পূজার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কুমারী আদ্যাশক্তি মহামায়ার প্রতীক। মূলত নারীকে যথাযথ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করতে কুমারী পূজা করা হয়। তিনি বলেন, দেবীদুর্গা সব নারীর মধ্যে মাতৃরূপে আছেন এ উপলব্ধি সকলের মধ্যে জাগ্রত করার জন্যই কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। ষোলো বছর পর্যন্ত কুমারীর মধ্যে মাতৃভাব প্রতিষ্ঠাই এ পূজার মূল লক্ষ্য। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, কুমারী পূজা হলো এক বিশেষ ধরনের পূজা। যে পূজায় এক কিশোরী কন্যাকে দেবীর আসনে বসিয়ে মাতৃরূপে পূজা-অর্চনা করা হয়। শঙ্খধ্বনি, কাঁসর ঘণ্টা, ঢাকের বাদ্য, উলুধ্বনির মধ্য দিয়ে কুমারী মাকে পুষ্পমাল্য পরিয়ে দেয়া হয়। অষ্টমী তিথির পূজা শেষে হয় কুমারী পূজা।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়