প্রতিমায় প্রতিষ্ঠা হলো প্রাণ

আগের সংবাদ

পরিবেশ ছাড়পত্র পেলেন ট্যানারি মালিকরা

পরের সংবাদ

ভোটার হালনাগাদে বাড়ি বাড়ি যান না তথ্য সংগ্রহকারীরা

প্রকাশিত: অক্টোবর ৩, ২০২২ , ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ৩, ২০২২ , ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ

ভোটার তালিকা হালনাগাদ শুরু হয়েছে চলতি বছরের ২০ মে, কিন্তু হালনাগাদ সম্পর্কে তেমন ওয়াকিবহাল নন এলাকাবাসী। মাইকিং এবং লিফলেট বিতরণ করার কথা থাকলেও তেমন কোনো প্রচার-প্রচারণা চোখে পড়েনি রাজধানীসহ দেশের অনেক এলাকায়। এ জন্য অনেকেরই ভোটার হওয়ার যোগ্যতা থাকলেও বিষয়টি তারা একেবারেই জানেন না।

এদিকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহের কথা থাকলেও অনেক এলাকায় তথ্যসংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাধ্য হয়ে নতুন ভোটার হতে ইচ্ছুকরা স্থানীয় কাউন্সিলরের কার্যালয় থেকে নাগরিকত্ব সার্টিফিকেট নিয়ে কেন্দ্রে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটার নিবন্ধন ফরম ও হালনাগাদের কর্মী খুঁজছেন- এমন অভিযোগও রয়েছে। নতুন ভোটার ও তাদের অভিভাবকরা জানিয়েছেন, রাজধানীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভোটার তালিকা হালনাগাদ শুরু হলেও অনেকেই তা জানেন না, লিফলেট বিতরণের মতো কোনো প্রচারণা তারা দেখেননি। এমনকি স্থানীয় মসজিদেও এসব তথ্য প্রচার করা হয়নি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে দু’একবার মাইকিং হলেও বাসাবাড়িতে এমন কেউ আসেননি।

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ কে এম হুমায়ূন কবীর বলেছেন, প্রতিটি এলাকায় ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহের জন্য ইসি বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়েছে। একইসঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রতিটি উপজেলা নির্বাচনী অফিস থেকে মাইকিং করাসহ লিফলেট বিলি করার কথা। এছাড়া ভোটার হালনাগাদ কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। যদি কেউ বাদ যান তাহলে স্থানীয় স্কুল বা মাদ্রাসা কেন্দ্রে এসে ভোটার হতে পারবেন। আগামী ২০২৩ সালের ২৫ জানুয়ারি হালনাগাদ কার্যক্রম শেষ হবে।

এবার নারী ভোটার যেন বাদ না যায়- বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একইসঙ্গে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত বিশেষ এলাকার জন্য তথ্য ফরম পূরণের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে নজর দেয়া, বিশেষ করে তথ্য ফরম পূরণের সময় সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করে অন্তর্ভুক্ত করা ও বিশেষ এলাকার জন্য তথ্য ফরম-২ এর সঙ্গে বিশেষ তথ্য ফরম পূরণ করার নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

এছাড়া এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় নাম স্থানান্তরের আবেদন সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রসহ ভোটার কর্তৃক রেজিস্ট্রেশন অফিসারের কাছে দাখিল করা, মৃত ভোটারের নাম কর্তনের জন্য ফরম-১২ এ তথ্য সংগ্রহকালে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা, কোনোক্রমেই জীবিত ভোটারের নাম মৃত হিসেবে যেন তথ্য সংগ্রহ না করা হয় সেজন্য সতর্ক থাকা, তথ্যসংগ্রহকারী ও শনাক্তকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর সুস্পষ্টভাবে লেখা এবং কোনো ক্রমেই রোহিঙ্গা ও অবাঞ্ছিত ব্যক্তিদের তথ্য যেন সংগৃহীত না হয় সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দিয়েছে ইসি।

তবে বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে জানা গেছে- ভোটার তালিকা হালনাগাদ হচ্ছে এমন তথ্য অধিকাংশই জানেন না। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদীয়া হাউজিং লিমিটেডের বাসিন্দা একজন অভিভাবক নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান, তার ছেলের নাম ভোটার তালিকায় তোলার জন্য তিনি বিভিন্নভাবে খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করেও যখন ব্যর্থ, তখন গৃহপরিচারিকার কাছে কিছু তথ্য পান। সেই অনুযায়ী ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় থেকে নাগরিকত্বের সনদ সংগ্রহ করেন। সেখানে উপস্থিত কয়েকজনের কাছ থেকে জানতে পারেন- ৫ নম্বর রোডে অবস্থিত ডিটারমাইন্ড মডেল স্কুলে নিবন্ধন ফরম দেয়া হচ্ছে। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান- একজন চতুর্থ শ্রেণির নারী কর্মচারী ফরম বিতরণ করছেন। তার কাছ থেকে ফরম নিয়ে তিনি তা পূরণ করে জমা দেন।

জানতে চাইলে চতুর্থ শ্রেণির ওই নারী কর্মচারী বলেন, আসলে বাড়ি বাড়ি যেতে অনেক টাকা রিকশা ভাড়া ও সময় লাগে। তাই সবাইকে স্কুলে আসার জন্য বলা হচ্ছে। ওই স্কুলে ১০ জন শিক্ষক হালনাগাদের কাজ করছেন, যার মধ্যে তিনিও একজন। তবে তাদের স্কুলে এখনো ফরম বিতরণ চলছে এবং আগামী ২০ অক্টোবর ছবি ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেয়া হবে। অনেক ওয়ার্ডে কোনো একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়েও হালনাগাদ কার্যক্রম চলছে বলে অভিযোগ এসেছে। এদিকে রামপুরা হাইস্কুলের একজন শিক্ষক জানান, তারা রামপুরা উত্তর ও দক্ষিণ- এ দুভাগে ভাগ করে কাজ করছেন। সেখানে দুজন সুপারভাইজারের অধীনে ৮ জন শিক্ষক এ কাজে যুক্ত। তিনি ৩০০ ফর্ম পূরণ করেছেন। তবে মাইকিং বা অন্য কোনো ধরনের প্রচার করা হয়েছে কিনা তিনি তা বলতে পারেননি। সেখানে ফরম পূরণ গত ১৩ আগস্ট শুরু হয়। আগামী ২০ অক্টোবর ছবি তোলার দিন ধার্য করা হয়েছে।

প্রচার না করে কীভাবে ভোটার তালিকা হালনাগাদ সফল হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে ইসির যুগ্ম সচিব ও ভোটার হালনাগাদ প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা শায়েদুন্নবী চৌধুরী ভোরের কাগজকে জানান, এ বিষয়টি বিভিন্ন টিভিতে বা বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রচার করা হয়েছে। আবার স্থানীয় নির্বাচনী অফিস থেকে মাইকিং করার কথা। হয়তো তারা করেছে, তবে কম দিন তা করার কারণে সবাই হয়তো জানতে পারেনি। এ বিষয়ে স্থানীয় কাউন্সিলরদেরও অবগত করা হয়েছে। তারাও তথ্য দিতে সহায়তা করছেন। এক একটি ফরম পূরণ করতে তথ্য সংগ্রহকারী স্কুল শিক্ষকদের ৫০ টাকা দেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২০ মে সাভার উপজেলায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। প্রথমে একসঙ্গে ১৪০ উপজেলায় এ কার্যক্রম শুরু হয়, যা চলে ৯ জুলাই পর্যন্ত। এরপর তিন ধাপে অন্যান্য উপজেলায় এ কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়। একইসঙ্গে রাজধানীতেও গত মাসের প্রথমে হালনাগাদ কাজ ওয়ার্ডভিত্তিক শুরু করা হয়। গতবারের মতো এবারো ৩ বছরের তথ্য একসঙ্গে নেবে ইসি। এক্ষেত্রে ২০০৭ সালের ১ জানুয়ারি বা এর আগে যাদের জন্ম, তাদের তথ্য নেয়া হচ্ছে।

এবারের হালানাগাদে ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ ৮৪ লাখ ৯৬ হাজার ৫২৬ জন ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সংস্থাটি। বর্তমানে ইসির সার্ভারে ১১ কোটি ৩২ লাখ ভোটারের তথ্য রয়েছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়