সকালের নিউজ ফ্ল্যাশ

আগের সংবাদ

৬ অক্টোবর শুরু ১৭তম জাতীয় ফার্নিচার মেলা

পরের সংবাদ

১০০ ডলার ছাড়াবে না জ্বালানি তেলের দাম

প্রকাশিত: অক্টোবর ২, ২০২২ , ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২, ২০২২ , ১২:০৯ অপরাহ্ণ

চলতি বছরের বাকি মাসগুলোয় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচেই অবস্থান করবে। সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক বহুজাতিক পণ্য বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ট্রাফিগুরা। প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদহার বৃদ্ধির কারণে ক্রেডিট সংকুচিত হচ্ছে।

পাশাপাশি বিনিয়োগ কমায় ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে পণ্যসহ অন্যান্য সম্পদ। এ কারণেই চলতি বছর জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়ানোর সম্ভাবনা নেই।

৩৮তম এশিয়া পেট্রোলিয়াম কনফারেন্সে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান অর্থনীতিবিদ সাদ রহিম জানান, রাশিয়ার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞার কারণে দাম বাড়ার কথা ছিল। কিন্তু সামগ্রিক অর্থনীতিতে শ্লথগতির কারণে বাজারদর নিম্নমুখী চাপের মধ্যেই থাকবে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে গত মার্চে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৩৯ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল, যা কয়েক বছরের সর্বোচ্চ।

তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোয় দাম কমে প্রায় ৮৫ ডলারে নেমেছে। ডলারের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি, ঊর্ধ্বমুখী সুদহার এবং সর্বোপরি মন্দার আশঙ্কা জ্বালানি তেলের চাহিদাকে নিম্নমুখী করে তুলেছে।
বাজারে তারল্য সংকটের কারণে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ডিসেম্বরে রুশ জ্বালানি তেলের ওপর ইউরোপের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তার ওপর জি৭ভুক্ত দেশগুলোর মূল্যসীমা বেঁধে দেয়ার ঘোষণা বাজার সরবরাহ সংকটের উদ্বেগকে আরো ঘনীভূত করছে।

তবে এখন পর্যন্ত বাজার পরিস্থিতিকে নিম্নমুখী বলার পরিবর্তে নতুন নির্দেশনায় এগোচ্ছে বলতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন সাদ রহিম। যদিও অর্থনৈতিক শ্লথগতি পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, মানুষ যতটা গুরুতর ভাবছে ততটা খারাপ অবস্থা এখনো চীনের অর্থনীতিতে তৈরি হয়নি। তবে ইউরোপের জ্বালানি তেল ব্যবহার চাহিদার পরিবর্তে সরবরাহ সংকটের কারণেই বেশি ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে চীন করোনা প্রতিরোধে আরোপিত বিধিনিষেধ উঠিয়ে নিলে আগামী বছর জ্বালানি তেলের চাহিদা ঘুরে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন এ অর্থনীতিবিদ। আর প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নিতে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক যদি সুদহার কমিয়ে আনে বা না বাড়ায়, তবে চাহিদা গতি ফিরে পাবে।

এদিকে জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমে যাওয়াকে ভালো চোখে দেখছে না রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস। জোটসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার সহজেই খাপ খাইয়ে নিতে পারবে।

বিশ্বব্যাপী উত্তোলিত দৈনিক ১০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেলের ৪০ শতাংশই আসে ওপেক প্লাসভুক্ত দেশগুলো থেকে। সরবরাহ নীতির মাধ্যমে জোটটি জ্বালানি পণ্যের দৈনিক বাজারদর নির্ধারণে শক্তিশালী প্রভাব রাখে। জোটটির নেতৃস্থানীয় দেশ রাশিয়া ও সৌদি আরব। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় দেশ দুটির ওপেক প্লাস নেতারা জানিয়েছেন, বর্তমানে ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা পূরণে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত বৈশ্বিক সরবরাহ নিশ্চিত করাই জোটের মূল নীতি, নির্দিষ্ট দামের ওপর নির্ভরশীল থাকা নয়।

জোটের একটি সূত্র জানায়, উপকরণ ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির কারণে জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে উত্তোলকদের লাভের পরিমাণ বাড়ানো প্রয়োজন, যাতে তারা তাদের বাজেটের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে পারে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়