র‍্যাবে সংস্কার প্রয়োজন নেই

আগের সংবাদ

জামিন পেলেন ইমরান

পরের সংবাদ

বাহুবলে শ্রীশ্রীশচীঅঙ্গন ধামে কুমারি পূজা সোমবার

প্রকাশিত: অক্টোবর ২, ২০২২ , ৮:০৫ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২, ২০২২ , ৮:০৫ অপরাহ্ণ

হবিগঞ্জের বাহুবলের জয়পুরে অবস্থিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর মাতুলালয় শ্রীশ্রীশচীঅঙ্গন ধামের সার্বজনীন দুর্গা পূজা মণ্ডপে সোমবার (৩ অক্টোবর) বেলা ১১টায় কুমারি পূজা শুরু হবে। এ উপলক্ষে সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এরআগে গত শনিবার সন্ধ্যায় বোধেনের মাধ্যমে এই তীর্থক্ষেত্রে মাতৃ আরাধানা শুরু হয়।

জানতে চাইলে শ্রীশ্রীশচীঅঙ্গন ধাম পূজা মন্ডপের সভাপতি শ্রী রণধীর চক্রবর্তী জানান, প্রতি বছরের মত এবারো মহাপ্রভুর মায়ের বাড়িতে দুর্গাপূজা হচ্ছে। পাশাপাশি আজ (সোমবার) মহাষ্টমী তিথিতে কুমারি মায়েরও পূজা হবে। কুমারি পূজা উপলক্ষে প্রশাসন সার্বিক নিরাপত্তা দিচ্ছে। এবার শ্রীশ্রীশচীঅঙ্গন ধামে মাধবপুর উপজেলার একটি গ্রামের দ্বাদশবর্ষীয়া কন্যা কুমারিরূপে পূজিতা হবেন।

শাস্ত্রানুযায়ী দুর্গাপূজার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে কুমারী পূজা। অনেক মন্দির, বারোয়ারি বা বাড়ির পূজায় প্রথা মেনে আজও কুমারী পূজা হয়। মূলত দুর্গাপূজার অষ্টমীর দিনই আয়োজিত হয় কুমারী পূজা। ১-১৬ বছর বয়সী কুমারীদের দেবীজ্ঞানে আরাধনা করার প্রথা রয়েছে কুমারীপূজায়। বয়স অনুযায়ী বিভিন্ন নামেও অভিহিত করা হয় কুমারীদের।

কুমারী পূজায় সূচনার নেপথ্যে বিভিন্ন কাহিনি শোনা যায়, যার মধ্যে অন্যতম কোলাসুর বধের কাহিনি। একসময় কোলাসুর স্বর্গ ও মর্ত্য অধিকার করে নেয়ায় বিপন্ন হয়ে পড়ে দেবকূল। সেই সময় দেবতারা মহাকালীর শরণাপন্ন হয়। দেবতাদের কাতর আবেদনে সাড়া দিয়ে দেবী পুনর্জন্মে কুমারীরূপে কোলাসুরকে বধ করেন। তারপর থেকেই মর্ত্যে শুরু হয় কুমারী পূজা।

সনাতন ধর্মে, সম্মানের বিচারে নারীকে শ্রেষ্ঠ আসনে বসানো হয়েছে। সেক্ষেত্রে শাস্ত্রকাররা নারীকে সম্মান ও শ্রদ্ধা জানাতেই এই পূজার কথা বলেছেন। অর্থাৎ হিন্দু শাস্ত্রে নারীকে সম্মান ও শ্রদ্ধার আসনে বসাতে এবং দেবীর কুমারী রূপের আরাধনা করতেই এই পূজার বিধান দেয়া হয়েছে। মনের অন্তরের পশুত্বকে সংযত রেখে নারীকে সন্মান জানানোই কুমারী পূজার প্রধান ও মূল লক্ষ্য।

অন্যদিকে, বৃহদ্ধর্মপুরাণে রামের জন্য ব্রহ্মার দুর্গাপূজোর বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। পুরাণ অনুসারে, সেই সময় ছিল শরৎকাল, দক্ষিণায়ণ, দেবতাদের নিদ্রার সময়। তাই, ব্রহ্মা স্তব করে দেবীকে জাগরিত করেন। দেবী তখন কুমারীর বেশে এসে ব্রহ্মাকে বলেন, বিল্ববৃক্ষমূলে দুর্গার বোধন করতে।

দেবতারা মর্ত্যে এসে দেখলেন, এক দুর্গম স্থানে একটি বেলগাছের শাখায় সবুজ পাতার মধ্যে ঘুমিয়ে রয়েছে একটি তপ্তকাঞ্চন বর্ণা বালিকা। ব্রহ্মা বুঝলেন, সেই বালিকাই জগজ্জননী দুর্গা। এরপেরই বোধন-স্তবে তাকে জাগরিত করেন ব্রহ্মা। দেবী জাগরিত হয়ে বালিকামূর্তি ত্যাগ করে চণ্ডিকামূর্তি ধারন করেন।

কারও কারও মতে আবার প্রাচীনকালে মুনিঋষিরা কুমারীপূজার মাধ্যমে প্রকৃতিকে পূজা করতেন। প্রকৃতি মানে নারী। সেই প্রকৃতিরই আর এক রূপ কুমারীদের মধ্যে দেখতে পেতেন তারা। এই প্রসঙ্গে শ্রী শ্রী ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব বলেছেন, সমস্ত স্ত্রীলোকই ভগবতীর এক একটি রূপ। আর শুদ্ধাত্মা কুমারীতে সেই ভগবতীর প্রকাশ বেশি।

এমকে

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়