শ্রীনগরে তুচ্ছ ঘটনায় ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত

আগের সংবাদ

ভয়াবহ পথে ইউক্রেন যুদ্ধ

পরের সংবাদ

তিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে আওয়ামী লীগ

প্রকাশিত: অক্টোবর ২, ২০২২ , ৮:১৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২, ২০২২ , ৮:১৬ পূর্বাহ্ণ

রাজপথের দখল নিশ্চিত করা > মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সম্মেলন সম্পন্ন করা > তৃণমূলকে ঐক্যবদ্ধ করা

কয়েক দিন ধরেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় লাঠির মাথায় পতাকা বেঁধে মিছিল সমাবেশ বা দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। গত সোমবার রাজধানীর হাজারীবাগে এমন একটি মিছিলে বিএনপি-আওয়ামী লীগ এবং পুলিশের ত্রিপক্ষীয় সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন। সমাবেশ থেকে ‘বিএনপি যুদ্ধে নেমেছে’ বলে সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন দলটির নেতারা। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনের আগের বছরই রাজনীতি সংঘাতের দিকে এগুচ্ছে- এমন আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকদের অনেকেই। তবে ‘বিএনপির এসব হুমকি-ধমকিসহ সব ষড়যন্ত্র’ খতিয়ে দেখে এবার আটঘাট বেঁধেই মাঠে নামছে ক্ষমতাসীনরা। বিএনপিকে চাপে রাখার কৌশল হিসেবে চলতি মাসেই রাজনীতির মাঠ দখলের পরিকল্পনা করেছে আওয়ামী লীগ। পাশাপাশি কেন্দ্র থেকে তৃণমূলকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগও নিয়েছে দলটি। সেই সঙ্গে সারাদেশে সরকারের উন্নয়ন সাফল্য তুলে ধরে বিএনপির অপপ্রচারের দাঁতভাঙা জবাব দিতে নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মূলত নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন হওয়ার পর থেকেই চাঙ্গা হয়ে উঠে মাঠের রাজনীতি। দিনে দিনে তা সংঘাতের পুরনো পথেই হাঁটা শুরু করেছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ঢাকাসহ সারাদেশে মিছিল-সমাবেশ করছে বিএনপি। সেই সঙ্গে সরকারকে চাপে ফেলতে আন্দোলনের পাশাপাশি কূটনীতিক তৎপরতাও চালাচ্ছে রাজপথের এই বিরোধী দলটি। পাশাপাশি বিগত নির্বাচনের মতোই দলের নেতাকর্মীদের সহিংসতার পথে উসকে দিচ্ছে। এরই মধ্যে সভা সমাবেশগুলোতে লাঠিসোটা দিয়ে আসার জন্য নির্দেশ দিচ্ছে। অবশ্য বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তাদের দলের কর্মীদের কেউ কেউ আত্মরক্ষার্থে এভাবে কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে। তবে এটি তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত নয়। এ অবস্থায় পাল্টা কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগও।

চলতি মাসেই রাজনীতির মাঠ দখল: বিএনপিকে চাপে রাখার কৌশল হিসেবে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করছে ক্ষমতাসীনরা। চলতি অক্টোবর থেকেই রাজনীতির মাঠ দখলের পরিকল্পনা করেছে দলটি। এরই অংশ হিসেবে সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সম্মেলন শুরু করতে সংশ্লিষ্ট নেতাদের বলা হয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগের জেলা নেতাদের ঢাকায় ডাক পড়ছে। এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন আগামী ৪ অক্টোবর। জানা গেছে, এর পরপরই আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক ডাকবেন দলীয় প্রধান। ওই বৈঠকে বিরোধী দলের আন্দোলন মোকাবিলা, দলকে সংগঠিত করা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেবে আওয়ামী লীগ। দলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামী ৫ অক্টোবর শারদীয় দুর্গোৎসবের ছুটি এবং আগামী ৯ অক্টোবর ঈদে মিলাদুন্নবী। এর পর পরই আওয়ামী লীগ কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবে। ঢাকাসহ সারাদেশে সভা-সমাবেশ এবং জনগণকে সম্পৃক্ত করাসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করা হবে।

মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি সম্পন্ন করা : সারাদেশে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক জেলা ৭৮টি। এছাড়া সাড়ে ছয়শর মতো উপজেলা, থানা ও পৌর কমিটি রয়েছে। ইতোমধ্যে ৪৬ জেলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাকি রয়েছে আরো ৩২টি জেলার সম্মেলন। একমাত্র রাজশাহী বিভাগে সবগুলো জেলায় সম্মেলন শেষ হয়েছে। উপজেলা ও পৌর কমিটিগুলোর সম্মেলনও শেষের দিকে। তবে প্রতিদিনই ঢাকা ও ঢাকার বাইরে একাধিক উপজেলা, থানা ও পৌর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যে সবগুলো ইউনিটের সম্মেলন শেষ করে ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় সম্মেলন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ।

তৃণমূলকে ঐক্যবদ্ধ করা: গত ১৩ বছর সরকারে থেকে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে। অনেকের মতে, অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে তৃণমূল আওয়ামী লীগ। জেলা-উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব আসার পথ বন্ধ। এমপি ও স্থানীয় আওয়ামী লীগে দ্ব›দ্ব অব্যাহত। ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে ঠাঁই দেয়া হচ্ছে অনুপ্রবেশকারীদের। এভাবে বিশেষ ব্যক্তির বলয় তৈরি করাসহ নানা কারণে তৃণমূলনির্ভর দলটির সাংগঠনিক অবস্থা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। তৃণমূলের অনেক অভিযোগ জমা হচ্ছে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে। অভিযোগের ভিত্তিতে নেয়া হচ্ছে ব্যবস্থাও। বিএনপির আন্দোলন মোকাবিলা করে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হতে তৃণমূলকে ঐক্যবদ্ধ করার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীরাই আওয়ামী লীগের শক্তি। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে কাজ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আওয়ামী লীগ চায় বিএনপিসহ সব ছোট-বড় রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিক। নির্বাচনে না যাওয়ার জন্য কেউ যেন উসকানি না দেয়।

আওয়ামী লীগের সামনে চ্যালেঞ্জগুলো কি? জানতে চাইলে দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ভোরের কাগজকে বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক টালমাটাল বিশ্বে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা, কর্মসংস্থান নিরাপদ রাখা, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে জনমনে স্বস্তি সমুন্নত রাখাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিতে পারলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমস্যা হবে না। সুতরাং দেশ, জাতি, জনগণ ও দল- সবকিছুর জন্যই এই চ্যালেঞ্জ এখন মুখ্য ইস্যু।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়