রোহিঙ্গা সংকট কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়

আগের সংবাদ

চট্টগ্রামে মণ্ডপে মণ্ডপে উৎসবের আমেজ

পরের সংবাদ

গজে চড়ে সুখ-সমৃদ্ধি নিয়ে মর্ত্যে এলেন দেবী

প্রকাশিত: অক্টোবর ২, ২০২২ , ৮:৪৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২, ২০২২ , ৮:৪৪ পূর্বাহ্ণ

ভক্তের কল্যাণে প্রতি বছর কৈলাস থেকে মর্ত্যলোকে আসেন দেবী দুর্গা। গজে (হাতি) চড়ে সপরিবারে দেবী দুর্গা এলেন মর্ত্যে। শাস্ত্রমতে, গজ হচ্ছে জ্ঞান এবং সমৃদ্ধির প্রতীক এবং দেবীর উৎকৃষ্টতম বাহন। তাই দেবীর আগমন বা গমন গজে হলে মর্ত্যলোক ভরে ওঠে সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধিতে। পূর্ণ হয় ভক্তের মনোবাঞ্ছা। পরিশ্রমের সুফল পায় মর্ত্যলোকবাসী। অতিবৃষ্টি বা অনাবৃষ্টি নয়; ঠিক যতটা প্রয়োজন ততটা বর্ষণ। পূজার নিরাপত্তা নিয়ে যখন চারদিকে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তখন দেবীর এই আগমনী বার্তা যেন ভক্তদের মনে এনে দিল কিছুটা স্বস্তি।

ষষ্ঠী তিথিতে গতকাল শনিবার বেলতলায় বিহিতপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয় বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। পঞ্জিকা অনুযায়ী, মহাষষ্ঠীর সকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুর্গা দেবীর ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ এবং ষষ্ঠিবিহিত পূজা। সন্ধ্যায় হয়েছে দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাস। সকাল থেকে ঢাকের বাদ্যি, কাঁসর ঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে মুখরিত ছিল মন্দির ও মণ্ডপ প্রাঙ্গণ।

কোভিড-১৯ সংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণ করেই ঢাকা রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ষষ্ঠী পূজা। সকাল সাড়ে ৭টায় দেবীর ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ এবং সায়ংকালে ছিল দুর্গা দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাস। দুই পর্বে বিভক্ত অনুষ্ঠান অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত হয়েছে।

যুগ যুগ ধরে সব অশুভ শক্তি, রোগ, শোক ও বিপদ থেকে মুক্তি পেতে দেবতা থেকে শুরু করে সাধারণ ভক্ত- সবাই আরাধনা করেছেন দেবী দুর্গার। সৃষ্টির সূচনালগ্নে যখন অসুররা স্বর্গরাজ্য দখল করে দেবতাদের সেখান থেকে বিতাড়িত করছিলেন; তখন অসুর বিনাশ করে দেবতাদের স্বর্গ রাজ্য ফিরিয়ে দিয়েছিলেন দেবী দুর্গা। তারও অনেক পরে ত্রেতা যুগে লঙ্কার রাজা রাবন যখন সীতাকে হরণ করে নিয়ে যান তার রাজ্যে, তখন স্ত্রীকে উদ্ধারের জন্য দশরথ পুত্র শ্রীরাম চন্দ্র বন্দনা করেছিলেন দেবী দুর্গার। ভক্তদের বিশ্বাস দেবী দুর্গা মমতাময়ী। মঙ্গলময়ী। জগজ্জননী। বিঘ্ন, রোগ, পাপ, ভয় ও শত্রু হতে তিনি রক্ষা করেন।

সরেজমিন দেখা দেছে, শাঁখারী বাজার, তাঁতী বাজার ও সূত্রাপুর এলাকার অস্থায়ী মণ্ডপের সাজসজ্জার কাজ গতকাল সন্ধ্যায়ও কিছুটা বাকি ছিল। বাকি কাজ দ্রুত শেষ করতেই ব্যস্ত ছিলেন সংশ্লিষ্টরা। মণ্ডপের সামনে ভিড় করেছেন শিশুসহ বিভিন্ন বয়সি মানুষ। মণ্ডপের সামনে পাতা চেয়ারেও অনেকে বসে দেখছেন পূজার আয়োজন। বেশি উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে শিশুদের মাঝে। বেলুন, বাঁশি, ভেপু বাজিয়ে তারা মেতেছিল পূজার আনন্দে। মন্দির ও মণ্ডপকে কেন্দ্র করে বসা মেলার স্টলগুলোও সাজিয়ে নিতে ব্যস্ত ছিলেন দোকানিরা। এই মেলায় মুখোরোচক খাবারের পাশাপাশি থাকছে প্রসাধনী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা পণ্যের পসরা।

এদিকে করতোয়ায় নৌকাডুবিতে সনাতন সম্প্রদায়ের ৬৯ জনের প্রাণহানির ঘটনায় পঞ্চগড়ে অনাড়ম্বরভাবে উদযাপিত হচ্ছে দুর্গাপূজা। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের বোদা উপজেলা কমিটির সভাপতি পরেশ চন্দ্র রায় জানান, দুর্গোৎসব চলাকালে কালো ব্যাচ ধারণ, মণ্ডপে মণ্ডপে শোক ব্যানার টানানো এবং আজ দেশের সব দুর্গাপূজা মণ্ডপে বিশেষ প্রার্থনার সিদ্ধান্তও নিয়েছ বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ।

মহাসপ্তমীতে আজ রবিবার সকালে হবে নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপন, ষোড়শ উপচারে অর্থাৎ ১৬টি উপাদানে দেবীর পূজা। উৎসবের দ্বিতীয় দিন সকালে ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার চক্ষুদান করা হবে। সকালে দেবীকে আসন, বস্ত্র, নৈবেদ্য, স্নানীয়, পুষ্পমাল্য, চন্দন, ধূপ ও দ্বীপ দিয়ে পূজা করবেন ভক্তরা। আজ থেকে ভক্তরা প্রতিমা দর্শন করতে মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড় করবেন। এদিকে পূজার্চনা, মণ্ডপ সজ্জার পাশাপাশি মণ্ডপের নিরাপত্তা বিষয়েও সজাগ রয়েছেন আয়োজকরা।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়