প্রশাসনিক সংস্কারের রূপরেখা প্রণেতা এ টি এম শামসুল হক

আগের সংবাদ

টসে হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

পরের সংবাদ

ষষ্ঠীতে দেবীর বোধন আজ

প্রকাশিত: অক্টোবর ১, ২০২২ , ৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২, ২০২২ , ১০:৪৩ অপরাহ্ণ

দুর্গোৎসবে আলোর রোশনাই থাকছে না, নিরাপত্তায় জোর

করোনা মহামারির কারণে গত দুই বছর দুর্গোৎসবের আয়োজনে ছিল বিধিনিষেধের বেড়াজাল। আয়োজনও ছিল সংক্ষিপ্ত। যদিও গত বছর করোনার সংক্রমণ কম ছিল। তবে দুর্গোৎসব চলাকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক সহিংস হামলা হয়। এতে ম্লান হয়ে যায় বর্ণিল ওই আয়োজন। তাই এ বছর মণ্ডপের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকেই যায়।

যদিও সরকার পক্ষ আশ্বস্ত করছে, নিরাপত্তার কোনো ত্রুটি রাখা হবে না। আর শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে কোনো ধরনের নাশকতার আশঙ্কা করছে না পুলিশ প্রশাসন এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ।

এছাড়া দুর্গোৎসবকে ঘিরে সরকারের পক্ষ থেকে রয়েছে বেশ কিছু শর্তও। বিদ্যুৎসহ সব কিছু সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারের যে নির্দেশনা রয়েছে তা বিবেচনায় রেখেই এ বছর পূজায় চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা থেকে বিরত থাকছেন আয়োজকরা। সবমিলিয়ে নির্দেশনা ও শর্ত মেনেই এ বছর অনুষ্ঠিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব।

মূলত আজ শনিবার সন্ধ্যায় বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। চারদিকে উৎসবের আমেজ। পূজা উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্মাণ করা হচ্ছে তোড়ন। পূজাকে কেন্দ্র করে মেলার প্রস্তুতিও চলছে। এরই মধ্যে মন্দির-মণ্ডপে আয়োজক ও কারিগরদের যেন দম ফেলার সময় নেই।

শাঁখারী বাজারের প্রতিদ্ব›দ্বী ক্লাবের উৎপল কুমার ঘোষ ভোরের কাগজকে বলেন, ‘আমাদের ক্লাবের পূজা হয় অস্থায়ী মণ্ডপে। মণ্ডপ সাজানোর কাজ এখনো কিছুটা বাকি। শনিবার সন্ধ্যার আগেই সব কাজ শেষ হবে। প্রতিদ্ব›দ্বী ক্লাব প্রতি বছরই একেকটা থিম নিয়ে পূজার আয়োজন করে। কিন্তু এ বছর কোনো থিম থাকছে না। বিদ্যুৎসহ সব কিছু সাশ্রয়ের কথা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। আলোকসজ্জাসহ পূজার আয়োজকদের প্রতি সরকারের কিছু নির্দেশনাও রয়েছে। আলোকসজ্জা যেহেতু করতে পারছি না, তাই কোনো থিম ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। এ বছর দেবী দুর্গার বন্দনার বিষয়টিকেই আমরা প্রাধান্য দিচ্ছি।’

একই কথা জানালেন নবারুন ক্লাবের অঞ্জন পোদ্দার। তিনি বলেন, ‘গত বছরের অভিজ্ঞতা আমাদের মনে ভয়ের সৃষ্টি করছে। আমরা সরকারের সব ধরনের নির্দেশ ও শর্ত মেনেই পূজা করব। তবে আমরা চাই সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে যেন পূজা অনুষ্ঠিত হয়।’

মণ্ডপের নিরাপত্তার বিষয়ে ক্লাবের এই দুই সদস্য জানান, সরকারের পক্ষ থেকে যে নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে তা তো আছেই, পাশাপাশি তাদের স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমকেও জোরদার করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার সকালে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা জানান, শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে কোনো ধরনের নাশকতার আশঙ্কা তারা করছেন না। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, রাজধানীতে এবার ২৪২টি মণ্ডপে পূজা হবে। এবার কলাবাগান মাঠে অনুমতি না মিললেও কলাবাগান স্টাফ কোয়ার্টার মাঠে আগের মতোই পূজা হবে।

এছাড়া গতকাল শুক্রবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা’র ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সতর্কভাবে মণ্ডপ পাহারা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর এই নির্দেশ দেন দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

পূজার নিরাপত্তা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার ভোরের কাগজকে বলেন, ‘উৎসব উদযাপনের সময় কোনো আশঙ্কা মনে রাখতে চাই না। নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করবে পুলিশ। আমরাও আমাদের দিক থেকে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার জন্য মণ্ডপগুলোকে ২১ দফা নির্দেশনা দিয়েছি। আমাদের দিক থেকে যতটুকু ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব, তা নিচ্ছি। কিন্তু মূল দায়িত্ব তো রাষ্ট্রের।’

ঢাকা মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রমেন মণ্ডল জানান, এবার পূজা নিয়ে তাদের মধ্যে খুব উদ্দীপনা। মেলার আয়োজনও থাকছে। থাকছে আরতি প্রতিযোগিতাও।

এদিকে পঞ্জিকা অনুযায়ী, ১ অক্টোবর শনিবার ষষ্ঠী। তিথি অনুযায়ী ওই দিন সায়ংকালে (সন্ধ্যায়) অনুষ্ঠিত হবে দেবী দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাস। মন্দির ও মণ্ডপে স্থাপন করা হবে বোধনের ঘট। ভক্তের ভক্তি, নিষ্ঠা আর পূজার আনুষ্ঠানিকতায় মাতৃরূপে দেবী দুর্গা অধিষ্ঠিত হবেন মণ্ডপে মণ্ডপে। ২ অক্টোবর সপ্তমী, ৩ অক্টোবর অষ্টমী, ৪ অক্টোবর নবমী এবং ৫ অক্টোবর বিজয়া দশমী।

প্রতি বছর বিভিন্ন বাহনে সপরিবারে শ্বশুরবাড়ি কৈলাস থেকে মর্ত্যলোকে (পৃথিবী) বাপের বাড়ি বেড়াতে আসেন দেবী দুর্গা। দেবী দুর্গা এবার মর্ত্যলোকে আসবেন গজে (হাতি) চড়ে। এর ফল হচ্ছে শস্যপূর্ণ বসুন্ধরা। আর দেবী সপরিবারে স্বর্গালোকে বিদায় নেবেন নৌকায় চড়ে। যার ফল হচ্ছে বন্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যাওয়ার লক্ষণ শুভ না হলেও ভক্তের বিশ্বাস, দেবী মঙ্গলময়ী। তিনি জগতের মঙ্গলই করবেন। সন্তানদের আশীষ দেবেন দুহাত ভরে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশে দুর্গাপূজার সংখ্যা ছিল ৩২ হাজার ১১৮টি। এবার এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ১৬৮টিতে। যা গত বছরের চেয়ে ৫০টি বেশি। ঢাকা মহানগরে পূজার সংখ্যা ২৪২টি, যা গত বছরের চেয়ে ৭টি বেশি। এর মধ্যে সূত্রাপুর থানায় সবচেয়ে বেশি ২৫টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়