ডেঙ্গুর প্রকোপ : প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজন সচেতনতা

আগের সংবাদ

রুমির প্রেম, প্রজ্ঞা ও দর্শন

পরের সংবাদ

সংযম ও আরাধনায় হোক দুর্গোৎসব

কঙ্কন সরকার

লেখক ও সংগঠক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২২ , ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২২ , ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

বাঙালি সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে শারদীয় দুর্গাপূজা সবচেয়ে বড় পূজা উৎসব। এ পূজায় সর্বজনীনতা দেখা যায়। ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, জাত, কুল নির্বিশেষে সব সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সবারই যেমন অংশ গ্রহণ তেমনই মিলনও হয় মানুষে মানুষে। তাই দুর্গাপূজা হয়ে ওঠে দুর্গোৎসবে। আর আবাহন হয় অসুরের বিনাশে সুরের জাগ্রত করার আহ্বানে। মধ্যযুগের পরে যখন দুর্গাপূজা শুরু তখন থেকে তা রাজা-জমিদারদের পূজা হিসেবেই ছিল। সাধারণের সেথায় অংশগ্রহণ ছিল না। কিন্তু যখন বারোয়ারি থেকে সর্বজনীনতায় রূপ নিল তখন মা দুর্গা সবার পূজিত হয়ে উঠলেন। দুর্গা হচ্ছেন দুর্গতিনাশিনী মঙ্গলদায়িনী।
সেই সত্য যুগ থেকে দুর্গতবস্থা কিংবা সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আহ্বান কিংবা আরাধনা করা হতো। তা ছিল কত সাধনার বিষয়! কিন্তু আজকের পূজায়ও কি সেই সাধনায় আবাহন করে পূজারিরা! অন্যদিকে আজকে যেভাবে পূজার আয়োজন হচ্ছে তা কতটুকুই বা পূজ্য হয়ে ওঠে! পূজার দুটি দিক। এক. অন্তরঙ্গ, দুই. বহিরঙ্গ। অন্তরঙ্গ সাধন, তাৎপর্য জ্ঞাপক আধ্যাত্মিক, আর বহিরঙ্গ পূর্বোল্লিখিত দিকগুলোসহ সামাজিক। উভয়ের সংশ্লেষ, চিন্তার সমন্বয় হলে তবেই হয় পূজা সার্থক। তাই আহ্বান দুর্গাপূজা পূজিত হোক অন্তরঙ্গ আধ্যাত্মিক সংযম আর আরাধনার মাধ্যমে আর তাকে ঘিরে রচিত হোক দুর্গোৎসব তথা মিলনোৎসব। আহ্বানে আরতি হোক, ধুনচি নৃত্য হোক, মাইকে বাজুক পূজার গান, বাজুক চণ্ডীপাঠ। হোক শঙ্খ ধ্বনি, উলুধ্বনি প্রতিযোগিতা। হোক ধর্মাশ্রয়ী নাটক কিংবা পালা। পূজা আয়োজনে অযথা চাকচিক্যের জন্য ব্যয় না করে বা ব্যয় কমিয়ে গাঁয়েরই যে মা বা বাবা চিকিৎসার অভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরছেন, ভালো খাবার পেতে পারেন না তাদের দিকে হাত বাড়িয়ে দেই। অথবা যাদের পোশাক কেনার সামর্থ্য নেই নিজের কিংবা আপনজনদের, তাদের হাতে তুলে দেই নতুন পোশাক। যে শিক্ষার্থী অর্থাভাবে পড়তে পারছে না কিংবা যে বাবা-মা অর্থাভাবে মেয়েকে পাত্রস্থ করতে পারছেন না সেদিকে হাত বাড়াই। পারলে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, চক্ষু চিকিৎসা সেবা ক্যাম্পের আয়োজন করতে পারি। সর্বোপরি, যদিও দুর্গাপূজাকে বলা হয়ে থাকে রাজসিক পূজা তবুও মা তো! উনি ভক্তিপুত আরাধনাই চাইবেন, আড়ম্বর নয়।
বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে আধ্যাত্মিকতা বাদ দিয়ে দুর্গাপূজার রকমারি অনুষ্ঠান চলে। এমনকি প্রতিমার রূপেতেও আনি পরিবর্তন। এতে সাত্ত্বিকভাব কতটা থাকে তা দেখবার বিষয়। আজ পূজার সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে তাতে নিষ্ঠাবান পূজারি কিংবা পুরোহিত সেভাবে বাড়ছে কি! তাই দুর্গাপূজা হোক মনের অসুরকে মনের সুর দ্বারাই প্রতিহত করার আরাধনা। তবে আরেকটি বিষয় না লিখলেই নয়, তা হচ্ছে দেবীর আগমন ও প্রস্থান বিষয়ে। অর্থাৎ কিসে এই মর্ত্যে আসবেন এবং যাবেন কিসে! এর ফলও কী হয় সেটিও ভাববার বিষয়। পঞ্জিকা মতে, মনে করা হয়, দেবী কীসে আসছেন, আর কীসে যাচ্ছেন, তার ওপর নির্ভর করে বাংলার পরিবেশ, প্রকৃতি, সময়কাল- এবারে দেবী দুর্গার আগমন হবে গজে। অর্থাৎ হস্তিতে চড়ে মা দুর্গা পা রাখবেন মর্ত্য।ে এমনই মত শাস্ত্রে। দেবীর গজে আগমনের ফল শস্যপূর্ণ বসুন্ধরা। অর্থাৎ দেবী দুর্গার গজে আগমনের ফলে চারদিকে শস্যের উৎপাদন বেড়ে সুখ, সমৃদ্ধি ও শুভ ফল আসবে, শাস্ত্রে এমনই বলা হয়েছে। অন্যদিকে এবারে দেবীর গমন হবে নৌকায়। যার ফল খুব একটা শুভ নয়। শস্য বৃদ্ধি হলেও জল বৃদ্ধির ফলও রয়েছে গমনে। ফলে বন্যার আশঙ্কা থেকে যায়। পরিশেষে প্রার্থনা প্রসূত আহ্বান দুর্গাপূজা সব মিলে বয়ে আনুক সার্বিক মঙ্গল বার্তা।

কঙ্কন সরকার : লেখক ও সংগঠক, সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়