রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খুনোখুনির নেপথ্যে কারা?

আগের সংবাদ

শারদীয় দুর্গোৎসব কাল শুরু, প্রস্তুতির ব্যস্ততা তুঙ্গে

পরের সংবাদ

ঘরে ফিরে সংবর্ধনায় সিক্ত চ্যাম্পিয়ন মেয়েরা

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২২ , ৯:০৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২২ , ৯:০৬ পূর্বাহ্ণ

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী ফুটবলারদের ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নিয়েছে নিজ নিজ জেলা। ময়মনসিংহ, রাঙ্গামাটি, রংপুর এবং টাঙ্গাইলের গোপালপুর ও সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে গতকাল এসব সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়। এর পাশাপাশি ছিল ছাদখোলা গাড়িতে ফুটবলকন্যাদের নিয়ে শোভাযাত্রা। মানুষের এত ভালবাসা পেয়ে মেয়েরা অভিভূত বলে জানান।

ময়মনসিংহেও ছাদখোলা গাড়িতে ৮ নারী ফুটবলারকে সংবর্ধনা

ময়মনসিংহ থেকে রুহুল আমীন খান জানান, ময়মনসিংহ জেলা শহরের অদূরে গারো পাহাড়ের পাদদেশে অজপাড়া গাঁ কলসিন্দুরের সানজিদা-মারিয়া মান্ডারা জয় করে নিয়েছে এবারের সাফ ফুটবল মঞ্চ। এই ফুটবলকন্যাদের বিজয়ের আনন্দে ফুটবল ফেডারেশন ময়মনসিংহ জেলা শাখা শিরোপাজয়ী ৮ নারী ফুটবলারকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নিয়েছে নিজ জেলা ময়মনসিংহে।

দুপুর ১২টার দিকে ময়মনসিংহ কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের সড়কে ফুটবল ফেডারেশনের নেতা নারী ফুটবলারদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। তাদের অভিনন্দন জানানোর জন্য সড়কে আগে থেকেই ভক্ত-সমর্থকরা উপস্থিত হন। সড়কের দুপাশে দাঁড়িয়ে ফুটবলারদের শুভেচ্ছা জানান তারা। পরে নারী ফুটবলারদের ছাদখোলা গাড়িতে করে ময়মনসিংহ নগরীর সার্কিট হাউজে নিয়ে যাওয়া হয়। নগরীর শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন পার্কের বৈশাখী মঞ্চে ৮ ফুটবলারকে যৌথভাবে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও ফুটবল ফেডারেশনের উদ্যোগে সংবর্ধনা দেয়ার আয়োজন করা হয়। ধোবাউড়া উপজেলার কলসিন্দুর গ্রামের সাফ শিরোপাজয়ী এই ৮ ফুটবলকন্যার জন্য এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর ৪ লাখ টাকা পুরস্কার দেয় ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন।

পাহাড়ের ৫ নারী ফুটবলারকে সংবর্ধনা

রাঙ্গামাটি থেকে নন্দন দেবনাথ জানান, পাহাড়ের ৫ নারী ফুটবলার- আনাই, আনুছিং, রূপনা, ঋতুপর্ণা ও মনিকাকে গতকাল সংবর্ধনা দিয়েছে তাদের স্কুল ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়। তাদের আসার খবরে সকাল থেকে স্কুলে আনন্দের বন্যা বইতে শুরু করে। রাঙ্গামাটির ঘাগড়া বাজারে নারী ফুটবলাররা পৌঁছলে স্কুলের ছেলে-মেয়ে, শিক্ষক ও এলাকাবাসী উল্লাসে ফেটে পড়ে। এ সময় স্কুলের শিক্ষকরা ৫ ফুটবলারকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়। পরে আনন্দ-উল্লাস আতশবাজির ঝলকানি ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে ঘাগড়া বাজার থেকে স্কুলে নিয়ে এসে কেক কেটে তাদের মিষ্টি মুখ করান। এ সময় ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা চন্দ্র দেওয়ান, কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. পারভেজ, ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিনসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে খেলা এই ৫ নারী ফুটবলার বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্ট থেকে বিভিন্ন স্কুলের হয়ে খেলে উঠে আসে। তাদের নিবিড় মমতায় গড়ে তোলেন মঘাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বীর সেন চাকমা। পরে ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয় সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেয়। তাদের গড়ে তোলেন শান্তি মনি চাকমা।

এদিকে বিকালে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ ও রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫ নারী ফুটবলারকে বীরোচিত সংবর্ধনা দেয়। এর আগে বেলা আড়াইটায় তারা ছাদখোলা গাড়িতে করে ঘাগড়া স্কুল থেকে রওনা হন। রাঙ্গামাটি শহর প্রদক্ষিণের পর বিকাল ৫টায় গাড়িবহর রাঙ্গামাটি স্টেডিয়ামে এসে পৌঁছে। সেখানে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ ও রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নগদ অর্থ, ক্রেস্ট ও ফুলেল শুভেচ্ছা দেন খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদার এমপি। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুইপ্রæ চৌধুরী, বিজিবি সেক্টর কমান্ডার অধিনায়ক কর্নেল মো. তরিকুল ইসলাম, রাঙ্গামাটি জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. আশিকুর রহমান, রাঙ্গামাটি পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী, রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. মুছা মাতব্বর প্রমুখ।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাফজয়ী মিডফিল্ডার ঋতুপর্ণা চাকমা বলেন, এত বড় আয়োজন আমাদের মুগ্ধ করেছে। রাঙ্গামাটির মানুষ যে আমাদের এত ভালোবাসে তা আমরা কল্পনা করতে পারিনি। আমরা কৃতজ্ঞ আমাদের শিক্ষক ও কোচদের কাছে। যাদের কল্যাণে আজ আমরা এই অবস্থানে উঠে এসেছি। তিনি বলেন, পাহাড়ের প্রতিটি নারী সুযোগ পেলে তার প্রতিভা গড়ে তুলবে। ঘাগড়া স্কুলকে জাতীয়করণ করে রাঙ্গামাটিতে ফুটবল একাডেমি ও হোস্টেল গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

দীপংকর তালুকদার বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের নারীরা দেখিয়ে দিয়েছে তারা কোনোভাবেই পিছিয়ে নেই। রূপনা চাকমা যেভাবে গোলবার পাহারা দিয়ে দেশের জন্য স্বর্ণ নিয়ে এসেছে তা আমাদের জন্য বড় প্রাপ্তি।

পরে তার পক্ষ থেকে প্রতিটি খেলোয়াড়রকে ৫০ হাজার টাকা এবং দুজন কোচকে ২৫ হাজার টাকা, উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রতিটি খেলোয়াড়রকে ৫০ হাজার টাকা এবং দুজন কোচকে ২৫ হাজার টাকা, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ থেকে প্রতিটি খেলোয়াড়রকে ২ লাখ টাকা করে এবং দুজন কোচকে ২৫ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়। এছ্ড়াা বিজিবি সেক্টর কমান্ডার, রাঙ্গামাটি জোন, রাঙ্গামাটি পৌরসভাসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট ও সম্মাননা দেয়া হয়।

গোপালপুরে কৃষ্ণাকে ফুলেল সংবর্ধনা

গোপালপুর (টাঙ্গাইল) থেকে নজরুল ইসলাম জানান, সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপাজয়ী কৃষ্ণা রানি সরকার এখন তার গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছেন। গতকাল দুপুরে তিনি নিজ উপজেলা টাঙ্গাইলের গোপালপুরে যান। প্রথমে যান তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সুতি ভিএম সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখানে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্র-ছাত্রীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। পরে সেখানে উপস্থিত সবাইকে মিষ্টিমুখ করানো হয়। কৃষ্ণাকে কাছে পেয়ে শিক্ষার্থীরা অটোগ্রাফ নেয়ার জন্য ভিড় জমায়। কৃষ্ণা তার ফুটবলের হাতেখড়ি যে মাঠ, সেখানে কিছু সময় হাঁটাহাঁটি করেন।

আগামীকাল শনিবার কৃষ্ণাকে নাগরিক সংবর্ধনা দেবে গোপালপুর উপজেলা প্রশাসন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্থানীয় সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. পারভেজ মল্লিক জানান, নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কৃষ্ণাসহ জাতীয় নারী ফুটবল দলের কোচ গোপালপুরের কৃতি সন্তান গোলাম রব্বানী ছোটন ও কৃষ্ণা রানি সরকারের কারিগর স্কুল শিক্ষক গোলাম রায়হান বাপনকে সংবর্ধনা দেয়া হবে।

স্বপ্নাকে রংপুরে রাজকীয়ভাবে বরণ

রংপুর থেকে হাসান গোর্কি জানান, সাফ নারী ফুটবলের শিরোপাজয়ী সিরাত জাহান স্বপ্নাকে রাজকীয়ভাবে বরণ করে নিয়েছে রংপুরবাসী। তাদের ভালোবাসায় সিক্ত স্বপ্না বিদেশি ক্লাবে খেলার সম্ভাবনার কথা জানিয়ে বলেন, রংপুরের মানুষ আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে দেখে আমি খুবই আনন্দিত হয়েছি। এভাবে বরণ করে নেয়া আমাকে সামনে ভালো করার জন্য অনুপ্রাণিত করবে। স্বপ্না বলেন, বিদেশি ক্লাবে খেলার জন্য মৌখিকভাবে ৭ জনকে নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে আমার নামও রয়েছে।

গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা থেকে বিমানযোগে সৈয়দপুরে আসেন রংপুরের স্বপ্না, ঠাকুরগাঁওয়ের স্বপ্না রানি ও সোহাগী কিসকু। তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম, ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি মঞ্জুর আহম্মেদ আজাদ, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নাছিমা জামান ববি, স্বপ্নার ফুটবল প্রশিক্ষক হারুন অর রশিদসহ রংপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তারা। বরণের পর তাদের ছাদখোলা জিপে নিয়ে রংপুর নগরী প্রদক্ষিণ করানো হয়।

সকাল থেকেই ঐতিহাসিক পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে অপেক্ষায় ছিল সর্বস্তরের মানুষ। দুপুরে সংবর্ধনা মঞ্চে উপস্থিত হতেই সেøাগানে মুখরিত হয়ে ওঠে সংবর্ধনাস্থল। ফুলেল শুভেচ্ছা আর ফুটবলপ্রেমীদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে ওঠেন ৩ ফুটবলার। রংপুরের সদর উপজেলার সদ্যপুষ্করিণী ইউনিয়নের পালিচড়া জয়রাম গ্রামে জন্ম নেয়া স্বপ্নার ফুটবল খেলা নিয়ে যারা এতদিন বিরোধিতা করতেন তারাও ছিলেন খুশিতে আত্মহারা।

রংপুর জেলা প্রশাসন, বিভাগীয় ও জেলা ক্রীড়া সংস্থা এবং জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুটবলকন্যাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকেও তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক আসিব আহসান, পুলিশ সুপার ফেরদৌস আলী চৌধুরী, জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক চায়না চৌধুরীসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিকালে সদ্যপুষ্করিণীর পালিচড়ায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। এতে বৃহত্তর দিনাজপুর ও রংপুরের নারী ফুটবলাররা অংশ নেন।

শাহজাদপুরে আঁখিকে সংবর্ধনা

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) থেকে মো. আবদুল কুদ্দুস জানান, উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে গতকাল সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে সাফজয়ী নারী ফুটবলার আঁখি খাতুনকে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক মেরিনা জাহান কবিতা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক আজাদ রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও পৌর মেয়র মনির আক্তার খান তরু লোদী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার ভূমি লিয়াকত সালমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহজাদপুর সার্কেল হাসিবুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মুস্তাক আহমেদ, আঁখির বাবা আক্তার হোসেনসহ আরো অনেকে। নিজ এলাকায় আঁখিকে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শাহজাদপুরবাসী।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়