বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি ৯ দিন বন্ধ

আগের সংবাদ

ছুরিসহ আটক রাজিব রিমান্ডে

পরের সংবাদ

মেজর দেলোয়ারকে গ্রেপ্তারে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২ , ৪:৪৮ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২ , ৪:৫৪ অপরাহ্ণ

সরকার বিরোধী লাইভ অনুষ্ঠান করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা প্রচারের অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় পলাতক আসামি মেজর (অব) দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তারে পত্রিকায় বিজ্ঞাপ্তি জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আস সামছ জগলুল হোসেনের আদালতে দেলোয়ারের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল প্রতিবেদনের দিন ধার্য ছিল। তবে এদিন আসামি পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি জারির নির্দেশ দেন আদালত। এছাড়া আগামী ১ নভেম্বর মামলাটির পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন আদালত।

অন্যদিকে, এ মামলায় গত ২৭ আগস্ট গ্রেপ্তার আরেক আসামি লাইভ অনুষ্ঠানের সঞ্চালক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরাকে এদিন কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। সংশ্লিষ্ট আদালতের পেশকার শামীম আল মামুন ভোরের কাগজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

২০২০ সালের ১১ অক্টোবর নিউমার্কেট থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অবসরপ্রাপ্ত মেজর দেলোয়ার ও খাদিজাতুল কুবরাকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন উপপরিদর্শক (এসআই) খাইরুল ইসলাম।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বাদী ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর মেজর দেলোয়ার হোসেনের ইউটিউব চ্যানেলে ‘হিউম্যানিটি ফর বাংলাদেশ ওয়াজ লাইভ’ শিরোনামে এক ভিডিও দেখতে পান। সেখানে সঞ্চালক খাদিজাতুল কুবরার উপস্থাপনায় মেজর দেলোয়ার হোসেন (অব:) তার বক্তব্যে বাংলাদেশ বৈধ গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাতের বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।

মেজর দেলোয়ার তার বক্তব্যে বলেন, ‘ধর্ষণের বিচার চেয়ে লাভ নাই, বাংলাদেশে কোনো পুলিশ বাহিনী নেই, যারা আছেন তারা ভারতীয় দালাল ও তাদের কাজ হলো ভারতের তাবেদার সরকারকে রক্ষা করা। আমরা শীঘ্রই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই সরকারের পতন ঘটিয়ে নতুন দেশপ্রেমিক সরকার আনব। আর মাত্র এক মাস সময় আছে সামনে। ৭ ই নভেম্বর সিপাহী বিপ্লবের দিনই এই তাবেদার সরকারের পতন ঘটানো হবে। ফ্যাসিস্ট সরকারের ভয় হলো ক্ষমতা হারানো। আর এ কারণেই তারা টাকা পয়সা দিয়ে দালাল শ্রেনীর লোকজনকে হাত করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। দেশের এই বিশৃঙ্খল অবস্থানের সামরিক পর্যায়ে হস্তক্ষেপ করে গণতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতায় আনতে হবে।’

এছাড়া আরও উল্লেখ করা হয়, সঞ্চালক খাদিজাতুল কুবরা ও মেজর দেলোয়ার তাদের ইউটিউব চ্যানেল ও ব্যক্তিগত ফেইসবুক পেইজ গুলোতে উল্লিখিত ভিডিওগুলো আপলোড করে বাংলাদেশে চলমান স্থিতিশীল পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তারা তাদের মিথ্যা তথ্যপূর্ণ আলোচনা ইউটিউব, ফেইসবুকে প্রচার করে বাংলাদেশের সাধারণ জনগনকে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে উস্কানি দিয়ে তাদেরকে সরকার বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত করার চেষ্টা করছে। এছাড়া তারা উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রচারের মাধ্যমে সরকার বিরোধী মনোভাব তৈরি করে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে ও বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি দারুণভাবে ক্ষুন্ন করছে। আসামিরা তাই ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫/২৯/৩১/৩৫ ধারার আপনার করেছে।

এরপর মামলাটি তদন্ত করে ২০২২ সালের ১৬ মে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মাজহারুল ইসলাম। আদালত এ চার্জশিট গ্রহণ করে আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারী করেন।সঞ্চালক গ্রেপ্তার হলেও মেজর দেলোয়ার এখনো পলাতক রয়েছেন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়