দুর্গাপূজার তাৎপর্য

আগের সংবাদ

পাঁচ কারণে বাড়ছে ডেঙ্গু!

পরের সংবাদ

প্রাথমিক শিক্ষক হিসেবে মেধাবীরা কেন থাকছেন না

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২ , ১:২৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২ , ১:২৬ পূর্বাহ্ণ

সারাদেশে মোট ৬৫ হাজার ৫৯৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। এখানে ৪ লাখেরও অধিক পরিমাণ শিক্ষক কর্মরত আছেন। ৪৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগের অপেক্ষায় আছেন। ২০২০ সালের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগবিধি পরিবর্তন হয়ে প্রধান এবং সহকারী শিক্ষকদের স্নাতক যোগ্যতা চাওয়া হয়েছে। আগে মহিলাদের জন্য নিয়োগ যোগ্যতা ছিল এইচএসসি এবং পুরুষদের নিয়োগ যোগ্যতা ছিল স্নাতক। বর্তমানে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই নিয়োগ যোগ্যতা স্নাতক। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে আমরা দেখতে পাচ্ছি অধিকতর যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষকরা নিয়োগ পাওয়ার কিছুদিন পরই অন্যান্য চাকরিতে চলে যাচ্ছেন। চলে যাবেনই না বা কেন? অন্যান্য মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, পরিদপ্তরের নিয়োগ যোগ্যতা হিসেবে যেখানেই স্নাতক চাওয়া হয়েছে সেখানে শুরুতেই একজন কর্মচারী ১০ম গ্রেড পাচ্ছেন। কিন্তু একমাত্র প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রধান এবং সহকারী শিক্ষক নিয়োগবিধিতে যোগ্যতা স্নাতক আর গ্রেড ১৩তম। দেশের চাকরির বাজার দীর্ঘ লাইন থাকবার ফলে অনেক মেধাবীই প্রাথমিকের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ নিচ্ছেন, নিয়োগে এসে যখন দেখছেন, এখানে যোগ্য বেতন গ্রেড এবং সম্মান নেই, ঠিক তখনই অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। বিশ্বায়নের এই যুগে প্রাথমিক শিক্ষার মতো একেবারে শিক্ষার মূল ভিত্তিতে যখন অবহেলা আর অবজ্ঞা দৃশ্যমান, তখন জ্ঞান-বিজ্ঞানে উন্নত জাতির স্বপ্ন দেখা অমূলক। স্নাতক যোগ্যতায় একই ব্যক্তিটি যখন পুলিশের সাব ইন্সপেক্টরে যাবেন, তার শুরুতেই বেতন গ্রেড ১০ম আর প্রাথমিকের শিক্ষক হলে বেতন গ্রেড ১৩তম। একই ব্যক্তিটি স্নাতক যোগ্যতায় ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হলে তার গ্রেড হবে ১০ম আর প্রাথমিক শিক্ষক হলে ১৩তম। একই ব্যক্তিটি স্নাতক যোগ্যতায় মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিকের সহকারী শিক্ষক হলে তার বেতন গ্রেড হবে ১০ম আর প্রাথমিক শিক্ষক হলে তার বেতন ১৩তম। স্নাতক যোগ্যতায় ১৩তম গ্রেড রেখে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়োগবিধি ছাড়া আর কোনো মন্ত্রণালয় বা দপ্তর পরিদপ্তরে নিয়োগবিধি এমন নেই। অতএব প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সবিনয়ে নিবেদন করছি যে, প্রাথমিক শিক্ষাকে প্রকৃতপক্ষে আন্তর্জাতিক মানের করতে হলে গ্রেড বৈষম্য দূর করে এদেশের অন্যান্য ডিপার্টমেন্টের নিয়োগবিধির সঙ্গে মিল রেখে ন্যায্যতার ভিত্তিতেই প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগবিধি সংশোধন করে ১০ম গ্রেড প্রদান করে মেধাবীদের ধরে রাখুন।

মো. জামিল বাসার : শিক্ষক, ধনবাড়ী, টাঙ্গাইল।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়