দোনেৎস্কের নিয়ন্ত্রণ না আসা পর্যন্ত চলবে রুশ অভিযান

আগের সংবাদ

থানায় জিডি করার তিক্ত অভিজ্ঞতা

পরের সংবাদ

নৌপথ সুরক্ষিত হবে কখন?

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২ , ১:১৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২ , ১:১৭ পূর্বাহ্ণ

বোদায় করতোয়া নদীতে ট্র্যাজেডির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬৮টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ৬৮ লাশের মধ্যে নারী ৩০, পুরুষ ১৭ ও শিশু ২১ জন। খুবই বেদনাদায়ক। গতকাল ৪র্থ দিনেও উদ্ধার অভিযানের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় প্রশাসনের দেয়া তথ্যমতে, এখনো চারজন নিখোঁজ রয়েছেন। প্রতিনিয়ত নৌকাডুবিতে এভাবে মানুষের মৃত্যু ঘটছে। নদীতে ঝুঁকি নিয়ে নৌকা-ট্রলার চলাচল করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও উদাসীন। বোদার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে দুর্গাপূজা ঘিরে এই ঘাট দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষের নদী পারাপার এবারই প্রথম নয়। প্রতি বছরই দুর্গাপূজা ঘিরে এই ঘাটে বিপুল জনসমাগম হয়। সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়নি আগাম প্রস্তুতি। কর্তৃপক্ষ দায়ভার এড়াতে পারে না। গত রবিবার দুপুরে বোদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের আউলিয়া ঘাটে হিন্দু ধর্মাবলম্বী পুণ্যার্থীদের বহনকারী নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। মহালয়া উপলক্ষে আউলিয়া ঘাট থেকে নৌকায় করতোয়া পাড়ি দিয়ে পূর্বপাড়ের বড়শশী ইউনিয়নে ঐতিহাসিক বদেশ্বরী মন্দিরে যাচ্ছিলেন তারা। কিন্তু ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী ওঠায় মাঝ নদীতে নৌকাটি ডুবে যায়। লাশের মিছিল আর অসহায় স্বজনের কান্নায় নৌপথে বাতাস ভারি হয়ে ওঠার দৃশ্য এ দেশ বারবার দেখে আসছে। গত সাত দশকে দেশে ২ হাজার ১২২টি নৌদুর্ঘটনায় সরকারি হিসেবে ৬ হাজার যাত্রী নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় ২০ হাজার মামলা হয়েছে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ১৪১টি। সুষ্ঠু তদন্তে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর রায়কে আহ্বায়ক করে বোদার ঘটনায় পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জানি না এ কমিটির সুপারিশগুলো আলোর মুখ দেখবে কি না? অতীতের ঘটনাগুলো হতাশা ছাড়া কিছু নেই। গোটা দুনিয়ায় সবচেয়ে নিরাপদ হলো নৌপথ। কিন্তু নদীমাতৃক এই দেশে নৌপথকে গত ৫১ বছরেও নিরাপদ করা গেল না। সরকারের পক্ষ থেকে দীর্ঘ নদীপথ সচল করার চেষ্টার কথা বলা হচ্ছে গত ১৪ বছর ধরে। ইতোমধ্যে কিছু নৌপথ যান চলাচলে সচলও হয়েছে। কিন্তু নজরদারি নেই এ পথে; তা আবারো স্পষ্ট হলো গত রবিবারের নৌদুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে। এমনকি নৌদুর্ঘটনা রোধে সামান্যতম নিয়ম-কানুন নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না! আমরা মনে করি, নৌনিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড, বিআইডব্লিউটিএর সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠন করা প্রয়োজন। সরকারকে নৌদুর্ঘটনাগুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নৌ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়কে পুনর্বাসন কাজে এগিয়ে আসতে হবে। নৌচলাচলের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ নৌরুটগুলো চিহ্নিত করা প্রয়োজন এবং এর তীরবর্তী লোকালয়গুলোয় উদ্ধার কর্মীদের টাস্কফোর্স গঠন করে এদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। অগণিত মানুষের নিরাপদ যাতায়াত ও সুষ্ঠু ব্যবসা-বাণিজ্য অব্যাহত রাখতে নৌপথের দিকে নজর দিতে হবে জরুরিভিত্তিতে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়