প্রশ্নপত্র ফাঁস : অপরাধীদের ছাড় নয়

আগের সংবাদ

প্রাথমিক শিক্ষক হিসেবে মেধাবীরা কেন থাকছেন না

পরের সংবাদ

দুর্গাপূজার তাৎপর্য

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২ , ১:২৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২ , ১:২৫ পূর্বাহ্ণ

পূজা শব্দটি সম্মান ও শ্রদ্ধা অর্থে ব্যবহৃত। সনাতন ধর্মে পূজা শব্দ মনের মধ্যে একটা পবিত্রতা ও বিশেষভাবের আনয়ন করে। তাই পূজা বলতে শুধু ভালো ভালো খাবার কিংবা ভালো ভালো জামা পরিধান এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এসবের পাশাপাশি এ উৎসবের রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। শারদীয় দুর্গাপূজা শরৎকালীন উৎসব। তাই এ উৎসবের উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য ভিন্ন। অনেকেই অনেক উদ্দেশ্য বা মনোবাসনা নিয়ে দেবীর পূজা করে থাকেন। কিন্তু পূজার উদ্দেশ্য যদি হয় শুধু জড় জাগতিক চাওয়া-পাওয়া, তাহলে পূজার প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়।
পক্ষান্তরে পূজার উদ্দেশ্য যদি হয় একমাত্র ভক্তিচর্চা, তবেই পূজার আসল উদ্দেশ্য সাধিত হয়। ঠিক যেমন কৃষ্ণভক্তি লাভের নিমিত্তে বৃন্দাবনের গোপীগণ কাত্যায়নী দেবীর পূজা করেছিলেন। কাত্যায়নী দেবী দুর্গার ৯টি রূপের মধ্যে (নবদুর্গার) ষষ্ঠ রূপ। গোপীগণের কাত্যায়নী পূজার উদ্দেশ্য ছিল একমাত্র কৃষ্ণভক্তি। অর্থাৎ দুর্গাদেবীর নিকট গোপীগণ কৃষ্ণপ্রেম লাভের পন্থা প্রদানের কৃপা প্রার্থনা করেছিলেন। কোনো প্রকার জড় জাগতিক চাওয়া পাওয়া তাদের উদ্দেশ্য ছিল না। তাই দুর্গাদেবীকে সন্তুষ্ট করার মাধ্যমে যাতে কৃষ্ণপ্রীতি বা কৃষ্ণভক্তি লাভ হয় সেই উদ্দেশ্য হেতু গোপীগণ কাত্যায়নী দেবীর পূজা করেছিলেন। দুর্গাদেবীই পারেন জীবকে কৃষ্ণভক্তি প্রদান করে জীবের দুঃখ দুর্দশা লাঘব করতে। কারণ দুর্গাদেবী হচ্ছেন সুভদ্রা মহারানির অভিন্ন রূপ। এদিকে সুভদ্রা মহারানি হচ্ছেন কৃষ্ণের বোন সেহেতু সুভদ্রারূপী দুর্গা কৃষ্ণেরই ভগ্নি। তাই দুর্গাদেবীর কাছে কৃষ্ণ ভক্তি প্রার্থনা করলে তিনি তা সহজে প্রদান করে থাকেন। সর্বোপরি ভক্তিচর্চা করা, দেহ ও মনে পবিত্রতা আনয়ন এবং সাত্ত্বিকভাবে পূজা করার মধ্য দিয়ে মূলত দুর্গাপূজার প্রকৃত সফলতা নিহিত। পূজার সাত্ত্বিকতা বজায় রেখে পূজা করার বিধান শাস্ত্র বিদিত এবং এতে করে মা দুর্গাও সন্তুষ্ট হন বটে। কিন্তু অতিরঞ্জিত করতে গিয়ে আমরা মাঝে মাঝে পূজার সাত্ত্বিকভাব হারিয়ে ফেলি। যার বদৌলতে আমাদের দুঃখ-কষ্ট ভোগ করতে হয়। মা দুর্গা কৈলাস থেকে মর্ত্যে আসেন বাবার বাড়িতে বেড়াতে। এখানে পাঁচদিন অবস্থান করে পুনরায় কৈলাসে ফিরে যান। এই পাঁচদিন আমাদের পঞ্চ ইন্দ্রিয়কে সংযমের মাধ্যমে সংযত রাখা এবং তার সেবায় নিয়োজিত থাকা।
তাই মর্ত্যলোকবাসীর উচিত পবিত্রতা, সংযম আর সাত্ত্বিকতার মধ্য দিয়ে তাকে মর্ত্যলোকে স্বাগতম বা সম্ভাষণ জানানো। কিন্তু মর্ত্যলোকে মাকে আহ্বান করে এনে যদি আমরা পুনরায় পাপাচার জীবনযাপনে লিপ্ত হই তবে পূজার বৈদিকতা ¤øান হয়ে যায়। তাই পূজা করার মাধ্যমে মায়ের নিকট আমরা এই প্রার্থনা করি, যাতে করে তিনি আমাদের অতীতের সব ভুল-ভ্রান্তি ক্ষমা করে তার কৃপাবারি বর্ষণের মাধ্যমে আমাদের শুদ্ধ করে দেন। তাহলেই ধরা হতে সব জরা ঘুচে ফুটবে নতুন সম্ভাবনার আলো।

সচ্চিদানন্দ কৃষ্ণ দাস সজল : লেখক, সিলেট।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়