বিয়ের ৩ মাস পর রাবি ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার

আগের সংবাদ

প্রাণ ফিরে পাক রামগড়ের পর্যটন খাত

পরের সংবাদ

রহিমা বেগমের তথ্যে অসংগতি, তদন্তে পুলিশ

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২ , ১২:১৫ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২ , ১২:১৫ অপরাহ্ণ

নিখোঁজের ২৯ দিন পর উদ্ধার হওয়া খুলনার দৌলতপুরের রহিমা বেগম (৫২) এর কথায় অসংগতিপূর্ণ নানা তথ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

তারা বলছেন, তিনি কিছু লুকাচ্ছেন এবং সত্য গোপন করছেন বলে প্রাথমিকভাবে তাদের কাছে মনে হচ্ছে।

রহিমা বেগমের কাছ থেকে অনেক প্রশ্নের সদুত্তর পাওয়া যাচ্ছে না বলেও জানান তারা।

এ অবস্থায় তিনটি বিষয় সামনে রেখে রহিমা বেগমের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

তাদের ভাষ্যমতে, রহিমার নিখোঁজের সঙ্গে পরিবারের কেউ জড়িত কি না; আসামিদের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না এবং জমি নিয়ে বিরোধ নাকি অন্য কোনো কারণে এ ঘটনা—এসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত ২৭ আগস্ট রাতে দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশার বাসার উঠানের নলকূপে পানি আনতে গিয়ে নিখোঁজ হন রহিমা বেগম। এ ঘটনায় তাঁর মেয়ে আদুরী আক্তার থানায় অপহরণের মামলা করেন। সন্তানেরা ময়মনসিংহের ফুলপুরে এক নারীর মরদেহকে নিজের মায়ের বলে দাবি করার এক দিন পর ফরিদপুরের বোয়ালমারী থেকে তাঁকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, গত রোববার খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. আল আমিনের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে রহিমা বেগম বলেন, ২৭ আগস্ট তিনি পানি আনতে বাসার নিচে যান। এ সময় অনেক লোক বাড়িতে ঢোকে। আসামি পলাশ, মহিউদ্দিন, কিবরিয়া তার মুখ চেপে ধরেন। মোবাইল নিয়ে নেন। তাকে কোলে তুলে নিয়ে যান। এরপর তার আর কিছু মনে নেই। জ্ঞান ফেরার পর তাকিয়ে দেখেন, সাইনবোর্ডে পার্বত্য চট্টগ্রাম লেখা। এরপর তিনি রেলস্টেশনে গিয়ে ঢাকা আসেন। ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর হয়ে ফরিদপুরের বোয়ালমারীর সৈয়দপুর গ্রামে কুদ্দুস মোল্লার বাড়ি যান।

তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, জবানবন্দিতে রহিমা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া, পোশাক-আশাকের কথা কিছুই বলেননি। অথচ আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার আগে সন্তানদের সামনে রহিমা পিবিআইয়ের কাছে দাবি করেন, অপহরণের পর কিবরিয়া, মহিউদ্দিনসহ কয়েকজন তার কাছ থেকে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন এবং বাড়াবাড়ি না করার হুমকি দেন।

পিবিআই ও নগরের পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, রহিমার বক্তব্যে অনেক বিষয়ই ধোঁয়াশা তৈরি করেছে। তিনি স্বজনদের মোবাইল নম্বর মনে রাখতে পারেননি। অথচ ২৮ বছর আগের ভাড়াটের বাড়ি গেলেন। এটি সন্দেহ তৈরি করেছে। কেন থানায় যাননি, তার উত্তরও সন্তোষজনক নয়। সঙ্গে ব্যাগভরা কাপড়চোপড় আবার পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে আসা—সবকিছুই সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে।

কর্মকর্তারা আরও বলেন, অপহরণের দিন ওই বাড়ির পাশের সিসিটিভি ফুটেজে রহিমা বেগমকে একবার বের হয়ে আবার বাড়িতে যেতে দেখা গেছে। কয়েকজন মানুষের একসঙ্গে বাড়িতে ঢোকার বা বের হওয়ার দৃশ্য দেখা যায়নি।

এমকে

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়