শিক্ষায় মহাসংকেত বাজছে, দায় কাদের?

আগের সংবাদ

স্নোডেনকে রাশিয়ার নাগরিকত্ব দিলেন পুতিন

পরের সংবাদ

তীর্থযাত্রী নিয়ে নৌকাডুবি : দুর্ঘটনা কি আমাদের অনিবার্য নিয়তি

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২ , ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২ , ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ

আবারো নৌকাডুবি, প্রাণহানি ও যাত্রী নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে। গত রবিবার পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে শিশু ও নারীর সংখ্যা বেশি। এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন ৬৫ জন। প্রতিনিয়ত নৌকাডুবিতে এভাবে মানুষের মৃত্যু ঘটছে। নদীতে ঝুঁকি নিয়ে নৌকা-ট্রলার চলাচল করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও উদাসীন। কর্তৃপক্ষ দায়ভার এড়াতে পারে না। জানা গেছে, হতাহতরা সবাই শুভ মহালয়া উপলক্ষে বটেশ্বরী মন্দিরে যাচ্ছিলেন। মন্দিরে যেতে হলে করতোয়া নদী পাড়ি দিয়ে যেতে হয়। মন্দিরে মহালয়া উপলক্ষে প্রতি বছরই অনেক বড় অনুষ্ঠান হয়। আশপাশের প্রায় সব জেলা থেকে প্রচুর পুণ্যার্থী আসেন। এ সময় নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী ছিল। এ কারণে মাঝ নদীতে পৌঁছানোর পর যাত্রীর চাপে নৌকা ডুবে যায়। এ সময় কিছু মানুষ সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও বেশিরভাগ যাত্রীই এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। রাতে প্রচুর বৃষ্টিতে নদীর পানি বেড়ে যাওয়াতেই প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েছে। নৌকাটিতে দেড় শতাধিক যাত্রী ছিল। দেশের যোগাযোগ, যাতায়াত ও ব্যবসা-বাণিজ্যের বড় একটা মাধ্যম হচ্ছে নৌপথ। বিশেষ করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ক্ষেত্রে। নৌপথে যাতায়াত ব্যবস্থা এখন উন্নত হলেও এ ক্ষেত্রে সার্বিক ব্যবস্থা খুব উন্নত, তা বলা যাবে না। নৌপথে বড় জাহাজ ছাড়াও ছোট ছোট ট্রলার ও ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলাচল করে। দেখা যায়, প্রায়ই নৌকা-ট্রলারগুলো দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাইয়ের কারণে বোদার এ ঘটনা ঘটেছে। নানা সময় দুর্ঘটনা-পরবর্তী তদন্ত প্রতিবেদনে বিষয়গুলো উঠে এলেও সমাধানে কার্যকর কোনো পদক্ষেপই নেয়া হয় না। বোদার দুর্ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন হবে। তদন্ত কমিটির সুপারিশ আর আলোর মুখ দেখবে কি না সন্দেহ আছে। লাশের মিছিল আর অসহায় স্বজনের কান্নায় নৌপথে বাতাস ভারি হয়ে ওঠার দৃশ্য এ দেশ বারবার দেখে আসছে। গত সাত দশকে দেশে ২ হাজার ১২২টি নৌদুর্ঘটনায় সরকারি হিসাবে ৬ হাজার যাত্রী নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় ২০ হাজার মামলা হয়েছে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ১৪১টি। আমরা মনে করি, নৌনিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড, বিআইডব্লিউটিএর সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠন করা প্রয়োজন। সরকারকে নৌদুর্ঘটনাগুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নৌ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়কে পুনর্বাসন কাজে এগিয়ে আসতে হবে। নৌচলাচলের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ নৌরুটগুলো চিহ্নিত করা প্রয়োজন এবং এর তীরবর্তী লোকালয়গুলোয় উদ্ধার কর্মীদের টাস্কফোর্স গঠন করে এদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। অগণিত মানুষের নিরাপদ যাতায়াত ও সুষ্ঠু ব্যবসা-বাণিজ্য অব্যাহত রাখতে নৌপথের দিকে নজর দিতে হবে জরুরিভিত্তিতে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়