কলড্রপ হলেই ক্ষতিপূরণ পাবে গ্রাহক

আগের সংবাদ

নড়াইলে প্রতীক বরাদ্দের সময় দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

পরের সংবাদ

আজ কিংবদন্তি সুরস্রষ্টা হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণ দিবস

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২ , ৬:০১ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২ , ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ

বিনোদন ডেস্ক: বাংলা সঙ্গীত জগতে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এক কালজয়ী নাম। অসাধারণ সুর আর স্নিগ্ধ ও মোহনীয় কণ্ঠের ছোঁয়ায় তিনি বাংলা সঙ্গীতভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছেন, হয়ে উঠেন সঙ্গীতের বরপুত্র, হয়ে আছেন সুরের জাদুকর। উপমহাদেশের কিংবদন্তি সুরস্রষ্টা হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। সুরের ভুবনে আজও নক্ষত্র হয়ে জ্বলছেন সংগীতজ্ঞ হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। তিনি ছিলেন সুরের জাদুকর।

তাঁর গাওয়া ‘পথের ক্লান্তি ভুলে’, ‘আয় খুকু আয়’, ‘এই রাত তোমার আমার’, ‘আমায় প্রশ্ন করে নীল ধ্রুবতারা’র মতো অসংখ্য গান আজও শ্রোতাদের মোহবিষ্ট করে রাখে। আজ তাঁর ২৯ তম প্রয়াণ দিবস। ১৯৮৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন কিংবদন্তি এই শিল্পী। ভারতের উত্তর প্রদেশের বারাণসিতে ১৯২০ সালের ১৬ জুন জন্মগ্রহণ করেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়।

পরিবারে সাহিত্য চর্চা হতো বলে, ছোটবেলায় সাহিত্যক হতে চেয়েছিলেন হেমন্ত। সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি সংগীতেরও চর্চা হতো। চারপাশের উৎসাহে এক সময় তিনি গানের প্রতি মনযোগী হন। ১৯৩৩ সালে অল ইন্ডিয়া রেডিওর জন্য সর্বপ্রথম গান রেকর্ড করেন তিনি। কিন্তু গানটি খুব একটা সাড়া ফেলেনি। ১৯৩৭ সালে একই রেডিওর জন্য দু’টি গান রেকর্ড করেন। ওই গানগুলো শ্রোতাপ্রিয়তা পেলে চারদিকে হেমন্তের নাম ছড়িয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি অল ইন্ডিয়া রেডিওতে নিয়মিত গান গাইতে শুরু করেন। হেমন্ত চলচ্চিত্রের গানে সর্বপ্রথম কণ্ঠ দেন ১৯৪১ সালে ‘নিমাই সন্ন্যাসী’ সিনেমায়।

এরপর থেকেই তিনি ভারতীয় বাংলা সিনেমার একজন অপরিহার্য শিল্পী হিসেবে পরিগণিত হন। ১৯৪৪ সালে সর্বপ্রথম ‘ইরাদা’ ছবিতে প্লে-ব্যাক করে হিন্দী গানের শ্রোতাদেরকেও নিজের জাত চিনিয়েছেন হেমন্ত। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় বেশ কিছু রবীন্দ্রসঙ্গীতের রেকর্ড বের করেন। তবে তিনি প্রথম রবীন্দ্রসঙ্গীত গেয়েছিলেন ১৯৪৪ সালে ‘প্রিয় বান্ধবী’ সিনেমাতে। সে সময় তিনিই একমাত্র পুরুষ শিল্পী হিসেবে রবীন্দ্রসংগীত নিয়ে কাজ করতেন।

১৯৫৪ সালে বলিউডি সিনেমা ‘নাগিন’ এর সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন তিনি। এই ছবির গান সেসময় দুই বছর ধরে টপচার্টের শীর্ষে অবস্থান করেছিল এবং এই সিনেমার জন্যই হেমন্ত ১৯৫৫ সালে ‘ফিল্মফেয়ার বেস্ট মিউজিক ডিরেক্টর’ এর পুরস্কার লাভ করেন। এরপর তিনি বাংলা সিনেমা ‘শাপমোচন’ এর সঙ্গীত পরিচালনা করেন। এই ছবিতে তিনি উত্তম কুমারের জন্য চারটি গান করেছিলেন। তারপর থেকে যেন উত্তম কুমারের ছবি মানেই হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গান।

সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁকে ডি.লিট ডিগ্রি প্রদান করা হয়। ১৯৮৮ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মশ্রী’ উপাধীতে ভূষিত করেন, কিন্তু কোনো এক অজানা অভিমানে তিনি এই পদক প্রত্যাখান করেন। ‘আমার গানের স্বরলিপি লেখা রবে, আমি যদি আর নাই আসি হেথা ফিরে’ মৃত্যুর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ঢাকায় এসে এই গানটি শুনিয়েছিলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। বাংলার মানুষের হৃদয়ে যে এই শিল্পীর স্বরলিপি চিরদিনের জন্য খোদাই করা হয়ে গেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না

এমকে

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়