ইতালিতে জাতীয় নির্বাচন আজ, উদ্বিগ্ন অভিবাসীরা

আগের সংবাদ

অপহরণের কথা বললেন রহিমা বেগম

পরের সংবাদ

রণক্ষেত্র ইডেন কলেজ (ভিডিও)

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২ , ৫:৫৮ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২ , ৭:৪০ অপরাহ্ণ

আবারো উত্তপ্ত ইডেন কলেজ। অনেকদিন ধরেই শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ও সম্পাদকের সম্মেলন ঘিরে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছিল ঢাকার প্রসিদ্ধ এই বিদ্যাপিঠে। রবিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে তুমুল মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কলেজ ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত দশ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে কথা বলা নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। ইডেন কলেজের অডিটোরিয়ামের সামনে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় আধাঘণ্টা ধরে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে।

আহত ইডেন কলেজ ছাত্রলীগ নেত্রী সোনালী। ছবি: ভোরের কাগজ

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে কলেজ ক্যাম্পাসে।

ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে ক্যাম্পাস থেকে বাহির না করা পর্যন্ত অবস্থান চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগের একটি পক্ষ। অপরপক্ষ গতকালের ঘটনার ভুক্তভোগী পক্ষের অংশকে ক্যাম্পাস থেকে বহিষ্কার করার দাবি জানিয়ে অবস্থান করছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কলেজের দুই নম্বর গেইটের সামনে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিরোধী একটি পক্ষ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা ও সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানার বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দেখা যায়।

তারা ‘রিভা রাজিয়া, মানি না, মানবো না’, ‘রিভা-রাজিয়ার বহিষ্কার চাই, করতে হবে’, ‘রিভা রাজিয়ার ঠিকানা, ইডেনে হবে না’, ‘রিভা-রাজিয়া, ইডেন কলেজের লজ্জা’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

এদিকে ছাত্রলীগের এক কর্মী বলেন, দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত তামান্না জেসমিন রিভাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য কলেজ প্রশাসন অ্যাম্বুলেন্স আনলে রিভার বিদ্রোহীরা অ্যাম্বুলেন্সকে বাধা দেয়। তাদের দাবি রিভা আহত না। সহানুভূতি পাওয়ার জন্য সেই এখন ‘ভণিতা’ করছে। পরে বিদ্রোহীদের তোপের মুখে তাকে অ্যাম্বুলেন্স ছাড়াই ক্যাম্পাস থেকে বের করা হয়।

ছাত্রলীগের এই কর্মী আরো বলেন, পাঁজাকোলা করে তাকে নিয়ে যাওয়ার সময় তার আশেপাশে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও শিক্ষক ঘিরে রেখেছিল। তাকে গেটের বাহিরে বের করার পর উল্লাসে ফেটে পড়ে রিভার বিদ্রোহীরা। এ সময় রিভার কয়েকজন অনুসারীকে হেনস্তা করে গেট থেকে বের করে দেয়া হয়।

এর আগে বেলা সাড়ে ১২টায় কলেজের শহীদ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব ছাত্রীনিবাস প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনে ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌসকে মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা এবং সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানার বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া না হলে গণপদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের ২৫ নেত্রী।

এসময় দাবি মেনে নিতে তারা ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে ২৪ ঘন্টা সময় বেঁধে দেন এবং গতকালের ঘটনা তদন্তের যে গঠিত কমিটি গঠন করা হয়েছে তাও প্রত্যাখান করেন।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকা ২৫ জন নেত্রীই বর্তমান কলেজ ছাত্রলীগ কমিটির সহ-সভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদধারী।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সামিয়া আক্তার বৈশাখি। তিনি বলেন, গতকাল জান্নাতুল ফেরদৌসের ওপর হওয়া হামলায় জড়িতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের নাম আমরা জানতে পেরেছি। তারা হলেন- ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নুজহাত ফারিয়া রোকসানা, আয়েশা সিদ্দিকা মিম, আর্ণিকা তাবাসসুম স্বর্ণা, শিরিনা আক্তার, সোমা মল্লিক পপি, জিনাত হাসনাইন, লিমা ফেরদৌস, আশরাফ লুবনা বিজলী আক্তার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ঋতু আক্তার, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুন্নাহার জ্যোতি এবং ফারজানা ইয়সমিন নীলা।

তিনি আরো বলেন, গতকাল রাতে মারধরের ঘন্টাখানেক আগে সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী পোস্টেড নেতৃবৃন্দরা জান্নাতুল ফেরদৌসের রুমে হামলা চালায়। এসময় তার রুমে থাকা ল্যাপটপ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আত্মসাৎ করে নিয়ে আসে। পরে হামলার সময় সহ-সভাপতি আয়েশা সিদ্দিকা মিম এবং রোকসানা জান্নাতুল ফেরদৌস এবং তার সাথে থাকা ছোট বোনের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে সভাপতির হাতে তুলে দেন। এসময় তারা গলায় স্বর্ণের চেইন, ব্যাগে থাকা নগদ ১৫ হাজার টাকা এবং ছোট বোনের হাতে থাকা আংটিও কেড়ে নেয়।

এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেত্রীরা বলেন, আজকে হওয়া তদন্ত কমিটিতে রাখা হয়েছে নিশি এবং তিলোত্তমাকে। এর আগে যখন রিভার অডিও ফাঁস হয়েছে সেটিরও তদন্ত করতে দেয়া হয়েছে নিশি-তিলোত্তমাকে। তারা সেই তদন্তের কোন রিপোর্ট আমাদের জানায়নি। নিশি আর তিলোত্তমার তদন্ত কমিটি আমরা মানবো না। বারবার অপরাধ করেও কেন্দ্র থেকে ইডেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এবার যদি কোন ব্যবস্থা নেয়া না হয় তাহলে আমরা এখানে উপস্থিত ২৫ জনই গণহারে পদত্যাগ করবো।

সংবাদ সম্মেলন থেকে সাতটি দাবিও জানানো হয়। ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মার্জানা উর্মি দাবিগুলো পড়ে শুনান। দাবিগুলো হলো:
১. জান্নাতুল ফেরদৌসের ওপর হওয়া হামলার সাংগঠনিক জবাব।
২. সাধারণ শিক্ষার্থীদের হেনস্তার সুষ্ঠু বিচার চাই, ক্যাম্পাসের সকল সিসিটিভি ফুটেজ লুকানোর চেষ্টা করা যাবে না।
৩. অধ্যক্ষকে নিয়ে কটাক্ষ করার জবাব।
৪. একচেটিয়া রাজনীতি এবং চাঁদাবাজির রাজনীতি বন্ধ করা।
৫. প্রতিটি শিক্ষার্থীর নিরাপদে থাকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৬. গণহারের প্রায় শতাধিক রুম দখলের হিসাব দেয়া।
৭. জান্নাতুল ফেরদৌসের যেসব অশ্লীল ছবি তোলা হয়েছে তা সকল নেতৃবৃন্দের সামনে ডিলেট করতে হবে এবং তার সকল জিনিসপত্র ফেরত দিতে হবে।

এনজে

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়