টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলার মেয়েরা

আগের সংবাদ

ঢাকা থেকে কলকাতা কতদূরে

পরের সংবাদ

অনিরাপত্তা ও সংবর্ধনায় অব্যবস্থাপনা : কর্তৃপক্ষকেই এর দায় নিতে হবে

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২২ , ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২২ , ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বস্তরে সাবিনাদের উচ্ছ¡সিত প্রশংসা হচ্ছে। দেশে ফেরার পর তাদের বরণ করে নেয়ার নানা বর্ণাঢ্য আয়োজন হয়। কিন্তু বিমানবন্দরে সাফ জয়ী নারীদের লাগেজের তালা ভেঙে ডলার, কাপড়চোপড় ও অন্য আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র চুরি হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে এক বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যা খুবই দুঃখজনক। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে গত বুধবার নেপাল থেকে দেশে ফেরে বিজয়ী মেয়েরা। ছাদখোলা বাসে চড়িয়ে বর্ণিল আয়োজনে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় বাফুফে দপ্তরে। হাতে পতাকা ও ব্যানার নিয়ে সেøাগানে সেøাগানে শিরোপা জয়ীদের স্বাগত জানায় হাজারো মানুষ। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে এই চুরির খবরে তোলপাড় শুরু হয় দেশজুড়ে। দুই ফুটবলার কৃষ্ণা রানী সরকার ও শামসুন্নাহারের লাগেজ থেকে চুরি হয় এক হাজার ৩০০ ডলার। এর মধ্যে কৃষ্ণা রানী সরকারের ছিল ৯০০ ডলার। এছাড়া তার ৫০ হাজার টাকা চুরি হয়েছে। আরেকজন খেলোয়াড় শামসুন্নাহার সিনিয়রের ছিল ৪০০ ডলার। এছাড়া মার্জিয়ার কিছু নেপালি রুপি ও দলের ফিজিওর বেশ কিছু জিনিসপত্র চুরি হয়। যারা বিশ্বের দরবারে দেশের মর্যাদা অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তাদের জিনিসপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া খুবই উদ্বেগজনক। সংশ্লিষ্টরা দায় এড়ানোর চেষ্টা করলেও বিষয়টিকে মোটেও হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। আমরা বারবার দেখেছি দেশের কোনো বড় অর্জনের আনন্দ মøান করে দিতে কুচক্রী মহল তৎপর হয়ে ওঠে। এই চুরি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিনা তা অবশ্যই খতিয়ে দেখা দরকার। তদন্ত চলমান থাকলেও এখন পর্যন্ত কে বা কারা কখন লাগেজের তালা ভেঙে অর্থ ও জিনিসপত্র চুরি করেছে সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় বিমানবন্দরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। যারা দায়িত্বে ছিলেন তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। চুরি হওয়া অর্থ ও মালামাল উদ্ধার এবং দোষীদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বোচ্চ পদক্ষেপ দেখতে চাই। চুরির ঘটনা সাফ জয়ের আনন্দকে মøান করেছে। এ ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, কোথায় ঘটল, কীভাবে ঘটল তা তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার বিকল্প নেই। বিমানবন্দরগুলোতে বিশেষ করে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ রকম লাগেজ চুরি, লাগেজ কেটে চুরি, অনিয়ম-দুর্নীতির খবর প্রায়ই শোনা যায়। বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার অবসান ঘটবে কবে? নারী ফুটবলারদের লাগেজ কেটে চুরির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করলে ভবিষ্যতে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে। এমন ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি ঘটবে না। এছাড়া বাফুফের সংবর্ধনায় অব্যস্থাপনাও দুঃখজনক। নেপাল থেকে ঢাকা আসার পর প্রায় ৫ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছাদখোলা বাসে বাফুফে ভবনে আসা সাবিনাদের জন্য সংবাদ সম্মেলনে বসার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। উৎসবে বাফুফের আয়োজনেও কমতি ছিল। নিজেদের আঙিনায় বাড়তি কোনো আলোর ব্যবস্থা পর্যন্ত করা হয়নি। যাদের অর্জন তাদেরই পেছনে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। সাবিনারা পেছনে দাঁড়িয়েই বক্তব্য রাখেন। সোশ্যাল মিডিয়াসহ সর্বস্তরে এ নিয়ে চলছে সমালোচনা। আমরাও এ ঘটনায় নিন্দা জানাই। বাফুফের এমন উদাসীনতা দুঃখজনক। বিজয়ীদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শনে আর যেন ব্যত্যয় না ঘটে সেদিকে সচেতন থাকতে হবে। আমরা চাই অবিলম্বে চুরি হওয়া অর্থ ও মালপত্র উদ্ধার করে নারী ফুটবলারদের কাছে হস্তান্তর করা হোক। পাশাপাশি দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তিও নিশ্চিত করতে হবে। আমরা এমন বিব্রতকর ঘটনা আগামীতে আর দেখতে চাই না।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়