কর্ণফুলী পেপার মিলে দুই হাজার টন কাগজ অবিক্রীত

আগের সংবাদ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ: ফটক আটকালেই শাস্তি

পরের সংবাদ

শীতের আগেই কমেছে গ্যাসের চাপ

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২২ , ৯:২১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২২ , ৯:২২ পূর্বাহ্ণ

# ভোগান্তিতে রাজধানীবাসী

শীত আসার আগেই রাজধানীতে গ্যাসের চাপ কমে গেছে। গ্যাস না পাওয়ায় বাসাবাড়ি, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, সিএনজি ফিলিং স্টেশনে মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় যানবাহনের চালক ও যাত্রীরাও বিপাকে পড়েছেন। দিনে দুইবার গ্যাস নিলেও সিলিন্ডার ভরছে না। গ্যাসের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয় চালকদের। গত দুই সপ্তাহ ধরে গ্যাসের চাপ সবচেয়ে কম হওয়ায় ভোগান্তি বেড়েছে।

এদিকে, গ্যাস সমস্যা প্রসঙ্গে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, গ্যাস কম পাওয়ায়, কম সরবরাহ হচ্ছে। এ কারণে পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ কম থাকায় নগরবাসী ঠিকমতো গ্যাস পাচ্ছেন না। তিতাস বেশি গ্যাস পেলে সরবরাহ বাড়বে।

রাজধানীর তেজগাঁও, মগবাজার, মালিবাগ, কুড়িল, বাড্ডা, উত্তর বাড্ডা, রামপুরা, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ কম। এসব এলাকাতেই সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সংখ্যা বেশি। ফিলিং স্টেশনগুলো গ্যাস দেয়া শুরু করার ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা আগেই সিএনজিচালিত যানবাহনের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। কিন্তু গ্যাস নেয়ার পরেও চালকদের গোমড়া মুখে ফিরে যেতে হয়। সিএনজি চালক লোকমান জানিয়েছেন, আগে দিনে একবার গ্যাস নিলেই সারাদিন গাড়ি চালাতে পারতেন। সিলিন্ডার পূর্ণ করে গ্যাস নিতে পারতেন। কিন্তু এখন গ্যাসের চাপ কম থাকায় দিনে দুইবার গ্যাস নিয়েও সিলিন্ডার ভরছে না। লাইনে গ্যাসের চাপ কম থাকায় অল্প গ্যাস নিয়েই চলতে হচ্ছে। সিএনজি চালক জাহাঙ্গীর জানান, আগে ৩০০ টাকার গ্যাসে সিলিন্ডার ভরত। এখন গত দুই সপ্তাহ ধরে ১২০ টাকার বেশি গ্যাস নেয়া যাচ্ছে না। পাম্পে আসলেই শুনি গ্যাসের চাপ কম।

চলতি মাসের প্রথম দিকেও সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো প্রতিদিন ২ থেকে আড়াই লাখ টাকার গ্যাস বিক্রি করতো। এখন তা ১ লাখে বা তারও নিচে নেমে এসেছে। প্রগতি সরণি এলাকায় গ্যাসের চাপ না থাকায় ৩টি সিএনজি ফিলিং স্টেশন বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকছে। এসটি পাওয়ার নামের একটি ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের ন্যূনতম চাপ রয়েছে। তাই এখানেই যানবাহনের ভিড় বেশি। লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও শান্তি নেই। ট্রাফিক পুলিশ এসে যানবাহন চালকদের রাস্তা ছাড়তে বলে, না ছাড়লে জরিমানা গুণতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন পিকআপ চালক আনিছ।

এদিকে রাজধানীর মিরপুর, আগারগাঁও, কাফরুল, জোয়ার সাহারা, কুড়িল, বাড্ডা, খিলগাও, রামপুরা, মগবাজার, মোহাম্মদপুর, পশ্চিম ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, লালবাগ, আজিমপুর, কামরাঙ্গীরচর, যাত্রাবাড়ীসহ বেশিরভাগ এলাকার বাসিন্দারা রান্নার জন্য গ্যাস না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে আছেন। দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাস না থাকায় রান্না হয় না। গভীর রাতে সামান্য গ্যাস আসলেই রান্না শুরু হয়। গত দুই সপ্তাহ ধরে গ্যাসের সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। গ্যাসের প্রাপ্যতা সংকটের কারণে শিল্প প্রতিষ্ঠানেও উৎপাদন কমেছে বলে জানা গেছে।

তিতাসের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. শবিউল আওয়াল জানিয়েছেন, লাইনে গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তিতাস কম গ্যাস পাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করতে পারছে না। পাইপ লাইনে গ্যাসের চাপ কম থাকায় নগরবাসী ঠিকমতো গ্যাস পাচ্ছেন না।

তিতাস বেশি গ্যাস পেলে সরবরাহ বাড়বে। গত ৩ মাস ধরে এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় সবারই সমস্যা বেড়েছে। ভবিষ্যতে কী অবস্থা হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়