আইনজীবীর প্রেমে মজলেন জনি!

আগের সংবাদ

আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ূন কবিরকে শোকজ

পরের সংবাদ

এসএসসির প্রশ্নফাঁস

কুড়িগ্রামে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে শোকজ

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২২ , ৯:২২ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২২ , ১০:২৪ অপরাহ্ণ

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপক কুমার দেব শর্মাকে শোকজ নোটিশ দেয়া হয়েছে। শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক।

এ ঘটনায় তার দায়িত্ব অবহেলা রয়েছে মর্মে কেন তিনি সঠিক দায়িত্ব পালন করেননি তার উপযুক্ত জবাব চেয়ে গত ২০ সেপ্টেম্বর চিঠি দেয় জেলা প্রশাসন।

চলমান এসএসসি পরীক্ষায় নেহাল উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষার দিন এবং ইংরেজি প্রথমপত্র পরীক্ষার দিন ৬টি বিষয়ের প্রশ্নপত্রের প্যাকেট গোপনে নিয়ে তার কোচিংয়ের শিক্ষক যোবায়ের, সোহেল, হামিদুল ও রাসেলকে দিয়ে হাতে লিখে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন এলাকায় টাকার বিনিময়ে সরবরাহ করতেন।

বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে তিনি ইংরেজি প্রথমপত্র পরীক্ষা শুরুর আগে কেন্দ্রে গিয়ে জানতে পারেন অফিস কক্ষ রেখে ভবনের দ্বিতীয় তলায় প্রশ্নপত্র খোলা হয়েছে সেদিন। বিষয়টি জেনেও চেপে যান ইউএনও।

এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার দেব শর্মা বলেন, ওইদিন কেন্দ্রে গিয়ে একটি প্রশ্ন দোতলায় দেখেছি। তাদের বলা হয়েছে এরপর থেকে যেন অফিসে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খোলেন তারা।

অন্যদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ভূরুঙ্গামারী থানায় মামলা দায়ের করেন কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা উপজেলা মৎস্য অফিসার আদম মালিক চৌধুরী। মামলায় নেহাল উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষকসহ এক কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায় ভুরুঙ্গামারী থানা পুলিশ।

আটক ব্যক্তিরা হলেন- ওই কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান, ইংরেজি শিক্ষক রাসেল মিয়া, ইসলাম শিক্ষার শিক্ষক যোবায়ের হোসেন, কৃষি বিষয়ের শিক্ষক হামিদুর রহমান, বাংলা বিষয়ের শিক্ষক সোহেল আল মামুন এবং স্কুলের পিয়ন সুজন।

একই ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেনকে দায়িত্ব দেয়া হলে শুক্রবার তিনি যোগদান করেছেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ঘটনার তদন্ত করেছেন দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর ফারাজ উদ্দিন তালুকদারকে প্রধান এবং উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (উমা) প্রফেসর মো. হারুন অর রশিদ মণ্ডল, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক মো. আক্তারুজ্জমানকে সদস্য করে করা তদন্ত কমিটি।

কারণ দর্শানো নোটিশের বিষয়ে কথা বলতে ভুরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলা ছিল। এ কারণে ইউএনওকে গত ২০ সেপ্টেম্বর কারণ দর্শানো চিঠি দেয়া হয়েছে। তিনদিনের মধ্যে জবাব চাওয়া হয়েছে।

এমকে

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়