সিরিয়ায় নৌকাডুবিতে নিহত বেড়ে ৭১

আগের সংবাদ

ছাপা কাগজে খাবার পরিবেশন শাস্তিযোগ্য অপরাধ

পরের সংবাদ

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ

কমেছে দেশীয় চিংড়ির রপ্তানি

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২২ , ১১:৫৮ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২২ , ১২:০২ পূর্বাহ্ণ

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইউরোপের দেশগুলোতে কমেছে চিংড়ির দাম। সেইসঙ্গে কমেছে রপ্তানি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন খুলনার চিংড়ি ব্যবসায়ীরা। এরই মধ্যে অনেক ব্যবসায়ী লোকসানের মুখে পেশা বদল করেছেন।

রফতানিকারকরা জানিয়েছেন, করোনার কারণে ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চিংড়ি রপ্তানি বন্ধ ছিল। তখন থেকে চিংড়ি ব্যবসায় মন্দা দেখা দেয়। করোনার সংক্রমণ কমলে ২০২১ সালের মার্চ থেকে রপ্তানি শুরু হয়। এর মধ্য দিয়ে আশার আলো দেখেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে চিংড়ি রপ্তানিতে আবারও মন্দা দেখা দেয়। রফতানি সচল থাকলেও ইউরোপের দেশগুলোতে কমেছে চিংড়ির দাম। রফতানি ও চিংড়ির দাম কমে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাত মাস ধরে রাশিয়া ও ইউক্রেনে চিংড়ি রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। ইউরোপের অন্য দেশগুলোতে রপ্তানি ও দাম কমেছে। এতে বিপাকে পড়েন রপ্তানিকারকরা।

খুলনা জেলার মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে রাশিয়ায় রপ্তানি হয়েছিল ৭৩১ টন চিংড়ি। যার দাম পড়েছিল ৫৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রপ্তানি হয় ২৪০ টন, যার দাম ২০ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

২০২০-২১ অর্থবছরে ইউক্রেনে রপ্তানি হয়েছিল ১১৯ টন চিংড়ি। যার দাম ১১ কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রফতানি হয়েছে ২৯ টন, যার দাম তিন কোটি ২১ লাখ টাকা। তবে দুটি দেশেই ফেব্রুয়ারি মাসের পর থেকে চিংড়ি রপ্তানি হয়নি বলে জানিয়েছেন রফতানিকারকরা।

বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে রাশিয়া ও ইউক্রেনে চিংড়ি রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। করোনার মন্দা ধকল কাটিয়ে উঠতে না উঠতে এখন যুদ্ধের ধকল চলছে। চিংড়ির ওপর ধারাবাহিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব চলছে। ফলে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা ভালো নেই। লোকসানের মুখে অনেকে চিংড়ি চাষ ছেড়ে অন্য মাছ চাষ করছেন। অনেকে মূলধন হারিয়ে জীবিকার জন্য পেশা বদলে ফেলেছেন।’

বিএফএফইএ’র পরিচালক মো. রেজাউল হক বলেন, যুদ্ধের কারণে ইউরোপের দেশগুলোর অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সে কারণে ইউরোপে হিমায়িত চিংড়ি রফতানি আগের তুলনায় কমেছে। দামও কমেছে। ফলে এই পেশার লোকজন লোকসানের মুখে রয়েছেন।

খুলনার মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আবু সাঈদ বলেন, যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে চিংড়ি রফতানি খাতে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি রফতানি আয় বাড়াতে তৎপর রয়েছে মৎস্য অধিদফতর। রফতানিকারকরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন সেদিকে খেয়াল রাখছি আমরা। তবে রফতানি পুরোদমে শুরু হলে সংকট কেটে যাবে।

এমকে

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়