যানজট নিরসনে গুরুত্ব দিন

আগের সংবাদ

সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ : বাংলার ফুটবলে এসেছে সুদিন

পরের সংবাদ

মূর্তি ভাঙছে : নিশ্চয় পূজা আসছে

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২২ , ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২২ , ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

মৌলবাদী ও উগ্রপন্থিরা দেশের বিভিন্ন স্থানে মূর্তি ভাঙছে এবং মন্দিরে হামলা চালাচ্ছে। বুঝলাম, নিশ্চয়ই হিন্দু সম্প্রদায়ের কোনো পূজা আসছে। প্রতি বছর পূজার আগে মূর্তি ভাঙা শুরু হয়। তাই খবর নিয়ে জানলাম, চারিদিকে আলোকিত মুগ্ধতা ছড়িয়ে ঋতু পরিক্রমায় ¯িœগ্ধতা ও কোমলতা নিয়ে ঋতুর রানি শরতের আগমন ঘটেছে। শরতের আগমনের অর্থ হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় শারদীয় দুর্গোৎসব সমাগত। তাইতো বাংলাদেশে মূর্তি ভাঙার মহোৎসব শুরু হয়েছে। এখন আর বাংলাদেশের হিন্দুদের পঞ্জিকায় পূজার তারিখ দেখতে হয় না। মূর্তি ভেঙে ও মন্দিরে হামলা চালিয়ে মৌলবাদীরাই জানিয়ে দেন, দুর্গাপূজা আসছে। তাই বর্তমানে পূজা মানে দেশের প্রতিটি হিন্দুর শুরু হয় আতঙ্ক। কখন জানি কোনদিক থেকে হামলা শুরু হয়। কোন ইকবাল আবার কোথায় ওঁৎপেতে আছে দেব-দেবীর পায়ের তলায় ধর্মগ্রন্থ রেখে ৫ দিন ধরে সারাদেশে মন্দির ও মূর্তি ভাঙার মহোৎসব শুরু করার জন্য। নীরব থেকে তামাসা দেখবে সরকার, সরকারি দল, জাসদ, বাসদ, কমিউনিস্ট পার্টিসহ বিভিন্ন দলের লাখ লাখ নেতাকর্মীরা। বিএনপি-জামায়াত ও ইসলামী দলগুলোর কথা আর বললাম না। অবশ্যই একেবারে চুপ থাকে না। হামলায় শত শত হিন্দুর বাড়িঘর, দোকান, সম্পদ লুট, নারীদের ইজ্জত নেয়াসহ কয়েকজন হিন্দু মারা যাওয়ার পর বিভিন্ন দলের বিশাল বিশাল নেতাদের সম্প্রীতির বক্তব্যে কান জ¦ালা-পালা করে।
ভাইয়েরা আমার, আজ যে ঘটনা ঘটেছে, তা হলো একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। বিশ্বে বাংলাদেশ সেরা অসাম্প্রদায়িক দেশ। প্রয়োজনে বুকের রক্ত ঢেলে দেব, তবুও এ দেশে কোনো সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঘটতে দেব না, না, না। বড় বড় মন্ত্রীরা ভারতে গিয়ে বলেন, বাংলাদেশে হিন্দুরা খুব খুব সুখে আছে। একেবারে মায়ের কোলে যেভাবে শিশুরা শুয়ে থাকে। যাকে বলে মন্ত্রী মহোদয়ের ভাষায় একেবারে বেহেশত। কোনোদিন একফোটাও সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটেনি। কিছু দুষ্ট লোক বানিয়ে বানিয়ে খবর ছাড়ে, যা একরত্তিও সত্যি নয়।
তাহলে এত এত সাম্প্রদায়িক হামলাগুলো কী সবই মিথ্যা? রামু থেকে নাসিরনগর, কুমিল্লা, রংপুর, ভোলা, শাল্লা, মুরাদনগর, নড়াইল এবং উত্তম বড়–য়া থেকে টিটু রায়, রসরাজ, বিপ্লব বৈদ্য, ঝুমন দাস, আকাশ সাহা। এসবই কী সবই মিথ্যা? ২০২১ সালের ১৩ অক্টোবর দুর্গাপূজার অষ্টমীর দিন থেকে কুমিল্লার নানুয়ার দীঘির উত্তরপাড় পূজামণ্ডপে হনুমানের হাঁটুর ওপর কুরআন শরিফ রাখা নিয়ে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের ১৩ জেলায় সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীরা যে তাণ্ডব চালিয়ে কয়েকজনের প্রাণ সংহার করেছে, মন্দির ভেঙেছে, মূর্তি ভেঙেছে, হিন্দুদের হৃদয় ভেঙেছে, মন ভেঙেছে, তা কী সবই মিথ্যা?
এই যে বাবু, বেশি বাড়াবাড়ি করবেন না কিন্তু, কইয়া দিলাম। ঝুমন দাস, রুমা সরকার হতে চান? তাহলে ওরা বর্তমানে যেখানে আছে, আপনার জায়গাও সেখানেই হবে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের বিষয়টিও মনে রাখবেন। ফেসবুক আছে, তাও ভুলবেন না।
ঠিক আছে। একটু হুঁশিয়ারে থাকবেন। পূজার সময় স্বেচ্ছাসেবক রেখে পাহারা দেবেন। পুলিশও থাকবে। চিন্তা করবেন না। আচ্ছা স্যার, একটা বিষয় বুঝলাম না। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশে কেন পূজার পাহারায় পুলিশ থাকবে ? এ প্রশ্ন শুনে স্যার আমার দিকে চোখ গোল গোল করে তাকিয়ে সামনে থাকা পাজেরোতে উঠে চলে গেলেন।

গোপাল নাথ বাবুল : দোহাজারী, চট্টগ্রাম।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়