পাহাড়ি জাতিসত্তাকে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি

আগের সংবাদ

বাহাত্তরের সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন

পরের সংবাদ

গণতন্ত্র মঞ্চের মতবিনিময়

কোনো দলের অধীনেই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২২ , ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২২ , ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো রাজনৈতিক দল প্রমাণ করতে পারেনি যে তারা ক্ষমতায় থাকলে তাদের অধীনে নির্বাচন হলে সেটা গ্রহণযোগ্য হয়। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অধীনে নয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে করতে হবে। গণতন্ত্র মঞ্চ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেছেন বক্তারা। গতকাল বুধবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এ সভা হয়।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার শাসন ব্যবস্থা বদলের রূপরেখা নিয়ে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভা করে গণতন্ত্র মঞ্চ। সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল, গণঅধিকার পরিষদের সদস্যসচিব নুরুল হক প্রমুখ।

সভায় বলা হয়, স্বাধীনতার মাধ্যমে অর্জিত সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীকে একক ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। ফলে যে সরকারই ক্ষমতায় যায়, তারা স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে। স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। এই স্বৈরাচারী সরকারের আওতায় মদদে কিছু মানুষ লুটের মাধ্যমে অতি ধনী হয়ে যাচ্ছে। ফলে স্বৈরাচারী সরকারের প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সুবিধাভোগী দেশি-বিদেশি অতি ধনীরা মরিয়া হয়ে ওঠে অগণতান্ত্রিক সরকারকে টিকিয়ে রাখতে।

স্বাধীনতার পরও গণতন্ত্রের লড়াই শেষ হচ্ছে না উল্লেখ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ৫০ বছরে একটা সূত্র দেখা যাচ্ছে, কোনো রাজনৈতিক দল প্রমাণ করতে পারেনি যে তারা ক্ষমতায় থাকলে তাদের অধীনে নির্বাচন হলে সেটা গ্রহণযোগ্য হয়। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন শুধু সেই কয়টা, যখন অন্য আরেকটা সরকার ক্ষমতায় ছিল। সেই সরকার নির্বাচিত নয়, মনোনীত।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে, কিন্তু চারদিকে আমরা অবনতি দেখতে পারছি। আমরা মহাসংকটের মধ্যে আছি। এই সংকট কারো একার পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। সম্মিলিতভাবে এর সমাধান করতে হবে। এ জন্য একটি রাজনৈতিক সমঝোতা ও ঐক্য প্রয়োজন। যার মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক উত্তরণ ঘটবে। এ জন্য কেবল একটি সুষ্ঠু নির্বাচন যথেষ্ট নয়। নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পথের সূচনা হতে পারে।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, যারা ক্ষমতায় যায়, তারাই স্বৈরাচারী হয়। কারণ, এখানে যে ক্ষমতা ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে, সেটা স্বৈরাচারী ক্ষমতাকে বারবার জন্ম দেয়। এই ক্ষমতা কাঠামোতে ন্যূনতম জবাবদিহি নেই। সব ক্ষমতা একজন ব্যক্তির হাতে। যিনিই প্রধানমন্ত্রী হন, তার হাতেই সমস্ত ক্ষমতা চলে যায়। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষের রক্তের ওপর দাঁড়িয়েছে যে রাষ্ট্র, ১৯৭২ সালে সংবিধানে এই ক্ষমতা রাখা হলো। মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সংবিধানের ক্ষমতাকাঠামো পরিষ্কারভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়