কর রেয়াত সুবিধার পুনর্বিবেচনা প্রসঙ্গ

আগের সংবাদ

মিয়ানমারের উল্টো দোষারোপ

পরের সংবাদ

সাফে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ : জয়ের ধারা অব্যাহত থাকুক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২২ , ১:৪৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২২ , ১:৪৫ পূর্বাহ্ণ

অপ্রতিরোধ্য ছন্দে ও দুর্দান্ত দাপটে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে লাল-সবুজের দেশ। গত সোমবার সন্ধ্যায় নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে মেয়েদের সাফের ষষ্ঠ আসরের ফাইনাল মহারণে স্বাগতিক নেপালকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে এ কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। এর আগে পাঁচটি টুর্নামেন্টেই চ্যাম্পিয়ন ছিল ভারত। সেই ভারতকেই গ্রুপ পর্বে ৩-০ গোলে পরাজিত করে সেমিফাইনালে উঠে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। সাফে মেয়েদের ফুটবলে এটাই সেরা সাফল্য। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম থেকে শুরু করে সর্বত্র সাবিনাদের উচ্ছ¡সিত প্রশংসা হচ্ছে। এই স্রোতে শামিল হয়েছেন স্বয়ং দেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সাবিনা খাতুনের দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দামাল মেয়েদের নিপুণ ফুটবলশৈলীতে আমরাও উল্লসিত। বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে আমাদের প্রাণঢালা অভিনন্দন। বাংলাদেশ মহিলা ফুটবলের বয়স মাত্র দুই দশক। ২০০২ সালে পশ্চিমবঙ্গ মহিলা ফুটবল দলের বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে ঢাকার কমলাপুর স্টেডিয়ামে নারীদের সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। সে সময়ও পুরো টুর্নামেন্টে দাপট দেখিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ পুরুষ দল সর্বশেষ সাফ গেমসে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। দীর্ঘ ১৯ বছর পর অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশ নারী দল। বয়সভিত্তিক দলের সাফল্য থাকলেও জাতীয় নারী দলের প্রাপ্তি শূন্যই ছিল। ২০১৬ সালে ফাইনালে ভারতের কাছে রানার্সআপ হওয়াটাই ছিল সর্বোচ্চ প্রাপ্তি। খেলার মান পড়ে যাওয়া, সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্যোগের অভাব, ক্রিকেটের সাফল্য ইত্যাদি কারণে দেশে ফুটবলের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে। বর্তমানে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান সত্যিই হতাশাজনক। এ অবস্থায় সাফে মেয়েদের সাফল্য নিয়ে আমাদের নতুন করে আশান্বিত করে। ফুটবলে মেয়েদের এই সাফল্য ধরে রাখতে হবে। বলা যায়, দেশের মেয়েরা তাদের প্রতিভা ও সম্ভাবনার বিষয়টি প্রমাণ করেছে। এখন সেই প্রতিভার যথাযথ পরিচর্যা দরকার। তার দায় সরকারের। সেই দিকে খেয়াল রেখে প্রান্তিক পর্যায়ের নারী খেলোয়াড়রাও যাতে পর্যাপ্ত পুষ্টি পান, তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যে চলতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। আশার কথা, সরকারের দিক থেকে নারী খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে অনেক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ক্রীড়ামোদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বেশ কয়েকবার নারী ফুটবল তারকাদের গণভবনে ডেকে সংবর্ধনা, আর্থিক প্রণোদনাসহ বিভিন্ন পুরস্কার দিয়েছেন। এতে করে নতুন প্রজন্মের মেয়েরা ফুটবল খেলতে আরো উৎসাহিত হচ্ছে। তবে এই জয়ের আনন্দে আত্মহারা হলে চলবে না, আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। এই আত্মবিশ্বাসকে কাজে লাগানোর দৃঢ় সংকল্প নিতে হবে। জয়ের ধারা অব্যাহত থাকুক এই প্রত্যাশা ও শুভকামনা আমাদের।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়