সাফজয়ী নারী ফুটবলারদের বরণে ছাদখোলা বাস

আগের সংবাদ

তিন লাখ রিজার্ভ সেনাকে ডাকলো রাশিয়া

পরের সংবাদ

সন্তানকে ফিরে পেতে ৪ বছর আদালতে তসলিমা

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২২ , ২:৩০ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২২ , ২:৪৫ অপরাহ্ণ

নিজের গর্ভের সন্তানকে ফিরে ৪ বছর ধরে আদালত, পুলিশ, পিবিআই ও সিআইডির দ্বারে দ্বারে ঘরছি। সন্তানকে জন্ম দিয়েছি ঠিকই কিন্তু আজ পর্যন্ত একটিবারও চোখে দেখতে পেলাম না তাকে। এ দেশের এটা কেমন আইন? চোখের পানি মুছতে মুছতে এমনই হৃদয় বিদারক কথা গুলো বলছিলেন মেহেরপুর সদর উপজেলার দরবেশপুর গ্রামের তসলিমা খাতুন (৩০)।

তসলিমার দাবি সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পরেই ক্লিনিক মালিক ও এক পুলিশ সদস্যের কারসাজিতে প্রথমে মৃত সন্তান হয়েছে বলে জানালেও পরে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে সুজন নামের এক পুলিশ সদস্যের কাছে সন্তানকে বিক্রি করা হয়েছে। তারপর থেকেই চার বছর হতে চললো আজ পর্যন্ত নিজের সন্তানকে চোখেই দেখতে পাননি তসলিমা।

ঘটনাটি ২০১৮ সালের জুলাই মাসের ২২ তারিখের। ওইদিন গভীর রাতেই প্রসব বেদনা শুরু হয় তসলিমার। ভোর হতেই অঝোর ধারায় বৃষ্টি। বৃষ্টি মাড়িয়ে তসলিমাকে নেয়া হয় চুয়াডাঙ্গার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর জন্ম নেয় ফুটফুটে একটি কন্যাসন্তান। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তসলিমাকে জানায়, তার সন্তানটি মৃত ছিল। এরপর টানা দুই দিন জ্ঞান ফেরেনি তার। জ্ঞান ফেরার পর তসলিমা জানতে পারেন, ক্লিনিক মালিক ও স্বজনেরা মিলে তার ওই সন্তান এক দম্পতির কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। সেই সন্তানকে এক নজর দেখতে এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তসলিমা। সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় স্বামীর সাথে তালাক হয়ে যায় তসলিমার। এমন দুরাবস্থায় স্বামীর পরিবারের কাউকেই পাশে পাননি তিনি।

এ ঘটনায় ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে মেহেরপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চুয়াডাঙ্গা ইউনাইটেড ক্লিনিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন তসলিমা। আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) মামলার তদন্তের নির্দেশ দিলে তারা তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে চুয়াডাঙ্গা সদর ফাঁড়ির পুলিশ সদস্য সুজন ইসলাম এবং তার আত্মীয় সরোয়ার হোসেন ওরফে পলাশ ও হীরা খাতুন সন্তানটি দত্তকপত্রের মাধ্যমে গ্রহণ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়। তবে দত্তকপত্রে তসলিমার করা স্বাক্ষরটি জাল বলে দাবি করে তসলিমা নিজেই। আইনি জটিলতায় দীর্ঘ চার বছর নিজের সন্তানকে একনজর দেখতে পারেননি তসলিমা।

তসলিমা বলেন, আমার পেট থেকে জন্ম নেওয়া সন্তানের চেহারা দেখার জন্য আমি চার বছর ধরে চেষ্টা করছি। আইনি জটিলতায় এখনো সম্ভব হয়নি। এ দেশে ন্যায়বিচার পেতে অনেক সময় লাগে। নিজের সন্তানকেও পেতে আদালতের বারান্দায় ঘুরতে হয়। জানিনা আমার সন্তানকে আমি ফিরে পাবো কিনা। আমার ফুফাতো ভাই সদর উপজেলার দরবেশপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য সালাম হোসেন মিলে পরিবারকে জব্দ করে আমার সন্তানটি বিক্রি করে দেন।

অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য সালাম হোসেন বলেন, তসলিমার সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ থাকায় প্রতিহিংসার বশে মামলায় আমার নাম যুক্ত করেছেন। তার সন্তান জন্মের সময় আমি তো ক্লিনিকেই ছিলাম না।

চুয়াডাঙ্গা ইউনাইটেড ক্লিনিকের মালিক রফিকুল ইসলাম বলেন, তসলিমার সন্তানকে তারই পরিবারের সদস্যরা দত্তক দিয়ে থাকতে পারেন। এখানে হয়রানি করার জন্য ক্লিনিকের নামে মামলা করা হয়েছে।

দত্তক নেয়া পুলিশ সদস্য সুজন আলীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোন কেটে দেন তিনি।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আদালতে পিবিআইয়ের দাখিল করা প্রতিবেদনের ওপর নারাজি আবেদন করেন তসলিমা। এরপর ২০১৯ সালে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের দায়িত্ব দেন আদালত। বর্তমানে সিআইডি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

মেহেরপুর সিআইডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছাইয়েদুর রহমান বলেন, তসলিমার সন্তানটি দলিল করে দত্তক দেয়া হয়েছে। সেগুলো সঠিক নাকি বেঠিক, তা জানতে স্বাক্ষর এক্সপার্টের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন এলে আদালতে জমা দেয়া হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়