আহত ঋতুপর্ণা, মাথায় ৩ সেলাই

আগের সংবাদ

মিয়ানমার ইস্যুতে আমাদের সেনাবাহিনী প্রস্তুত

পরের সংবাদ

বিএনপির সমাবেশে গয়েশ্বরের হুঁশিয়ারি

মাত্র রিহার্সেল, ফাইনাল খেলায় এখনো নামিনি

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২২ , ৬:১৭ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২২ , ৮:১৭ অপরাহ্ণ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আন্দোলনে জোয়ার শুরু হয়েছে, জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে না দিয়ে ঘরে ফিরে যাবো না। মাত্র রিহার্সেল, ফাইনাল খেলায় এখনো নামিনি। আন্দোলনে যারা রক্ত দিয়েছেন তাদের রক্ত বৃথা যাবে না। রক্ত দিয়েই গণতন্ত্র উদ্ধার করবো।

আজ বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মিরপুর ৬নং কাঁচাবাজার সংলগ্ন সড়কে দলীয় সমাবেশে এসব কথা বলেন বিএনপির এই সিনিয়র নেতা।

মিরপুরে বিএনপি’র সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

সমাবেশে গয়েশ্বর বলেন, জনগণ ভোটের মাধ্যমে যাদের দায়িত্ব দেবে তারাই দেশ চালাবে, যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় তাদের কাছে কোনো দাবি করে লাভ নেই। আজ জনগণের একটাই দাবি সরকারের পদত্যাগ। শান্তিপূর্ণ কমসূচি দিয়ে কিছু হবেনা। সবার হাতে মোটা লাঠি থাকতে হবে, নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য। ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশ্য বলেন, নেতাকমীদের ওপর যারা হামলা করেছে সেসব অপরাধীদের জনসম্মুখে হাজির করেন তা না হলে জনগণের কাঠগড়ায় আপনাদের বিচার হবেই। পাল্টা আঘাত শুরু করলে পালানের জায়গা পাবেন না।

বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, লড়াই করে দেশ স্বাধীন করেছি। কাউকে আর স্বৈরাচারী কায়দায় শেষ শোষণ করতে দেবো না। আমাদের এই আন্দোলন ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য না, এই আন্দোলন জনগণকে শৃঙ্খলমুক্ত করার আন্দোলন।

প্রশাসনের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, এখনো সময় আছে জনগণের কাতারে আসেন, সব অন্যায় মাফ হয়ে যাবে। ভয় পাবেন না, বিএনপি ক্ষমতায়
গেলে কারও চাকরি যাবে না। কোন পুলিশ সরকারকে টিকিয়ে রাখতে কাজ করে আর কারা বাধ্য হয়ে বিএনপির বিপক্ষে যায় তা আমাদের জানা আছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিশ্বকে আহ্বান জানাই গণতন্ত্র উদ্ধারে পাশে থাকুন। আমাদের ক্ষমতা এনে দিতে হবেনা। কে ক্ষমতায় আসবে তা জনগণই ঠিক করবে। হাসিনার সব খেলা শেষ। সাহায্য আনতে গিয়ে পায়নি। রাতে ভোট কাটারও তাদের লোক নাই। তাই নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হলেই বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে। নিশ্চিন্তে ভোট দেয়ার প্রস্তুতি নিন। চিকন লাঠিতে কাজ না হলে মোটা লাঠি নিয়ে রাজপথে নামুন। ওরা পরাজিত হবেই।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ বানচাল করার জন্য অনেক কারসাজি করা হয়েছে, আক্রমণ করা হয়েছে। কারণ বিএনপি জনগণের কল্যাণে কথা বলে। আজকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই। মিডিয়ার মুখে তালা মারতে চায় ওরা। এই স্বাধীন দেশটাকে অন্য জায়গায় বিক্রি করে দেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। এবার রাজপথে ফয়সালা হবে। আন্দোলনের মুখে সরকারের বিদায় নিতে হবে। বুক পেতে দেবো, রক্ত দেবো তবুও এই সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে দেবো না। তাই প্রশাসনকে বলবো নিরপেক্ষ হয়ে যান। না পারলে সরে যান।

এর আগে আজ দুপুর ২টার কিছু সময় পর থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন, লাঠি ও স্ট্যাম্পে জাতীয় পতাকা এবং দলীয় পতাকা টানিয়ে মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমাবেশস্থলে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বেড়ে যায়। সমাবেশস্থলের আশপাশে পুলিশ, র‌্যাবসহ ব্যাপক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

বিএনপির সূত্র জানায়, রাজধানীর উত্তরা, মিরপুর ও বনানীর কর্মসূচিতে হামলার পর থেকে বিএনপি সতর্কতা অবলম্বন করে আসছে। সেই কারণে গত দুই সমাবেশে লাঠিতে করে পতাকা টানিয়ে সমাবেশে এসেছে নেতাকর্মীরা। তারই ধারাবাহিকতায় এই সমাবেশেও নেতাকর্মীরা একইপন্থা অবলম্বন করেছে। তবে কেউ হামলা না করলে নেতাকর্মীদের আগ বাড়িয়ে বা কোনো উসকানিতে না দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বিএনপির পক্ষ থেকে। আর কেউ হামলা করতে এলে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলারও নির্দেশনা রয়েছে।

সমাবেশে যোগ দিতে মিরপুর দারুস সালাম থেকে আসা যুবদল কর্মী শামীম ভোরের কাগজকে বলেন, গত ১৫ সেপ্টেম্বর মিরপুরে সমাবেশ হওয়ার কথা থাকলেও আওয়ামী নেতাকর্মীরা হমালা চালায়। আজকেও যদি হামলা চালানো হয় তাই প্রতিরোধ করতেই তারা প্রস্তুতি হিসেবে হাতে বাঁশ নিয়ে এসেছি। তিনি বলেন, মার খেয়ে এবার আর ঘরে ফিরবো না।

নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির কর্মসূচিতে হামলার প্রতিবাদে ও খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঢাকা মহানগরের ১৬টি স্থানে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।

এমকে

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়