প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত ইউপি সদস্য, অভিযোগ স্বামীর

আগের সংবাদ

সাংবাদিক আবু আখলেহের হত্যাকাণ্ড ছিল ইচ্ছাকৃত

পরের সংবাদ

২২ মণ্ডপে হবে দুর্গোৎসব

শান্তিগঞ্জে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২২ , ১০:৪৭ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২২ , ১০:৪৮ অপরাহ্ণ

শান্তিগঞ্জ উপজেলায় এখন শারদীয় দুর্গাপূজার হাওয়া বইছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে উপজেলার ২২টি মণ্ডপে শুরু হওয়া প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় সম্পন্ন। শেষ সময়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পী ও আয়োজকেরা। উপজেলার বিভিন্ন মন্দির ঘুরে দেখা গেছে, শান্তিগঞ্জের বেশির ভাগ মন্দিরগুলোতে প্রতিমা তৈরির কাজ সম্পন্ন। বাকি শুধু রংতুলির কাজ। এবছর এক অক্টোবর মহাষষ্ঠীতে দেবী বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। চলবে আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত।

ইতোমধ্যে মন্দিরগুলোতে খড় ও মাটি দিয়ে পরম যত্নে গড়ে উঠছে প্রতিমা। এখন চলছে দোঁ-আঁশ মাটির কাজ। আর এসব প্রতিমা তৈরিতে দম ফেলার ফুসরত নেই প্রতিমা শিল্পীদের। এরপর রংতুলির টানে প্রতিমাগুলো ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন প্রতিমা শিল্পীরা। দেবী মা দুর্গা তার সাথে বিদ্যার দেবী স্বরসতী, ধন সম্পদের দেবী লক্ষ্মী এবং তার সাথে দেবতা কার্তিক ও গনেশসহ নানা দেব-দেবীর প্রতিমার রূপকে ফুটিয়ে তুলছেন নিপুণ হাতের ছোঁয়ায়।

এ বছর একেকজন প্রতিমা শিল্পীরা তিন থেকে ৪টি করে প্রতিমা তৈরি করেছেন। তবে করোনাকালীন সময়ে চাহিদার তুলনায় মজুরি কম পেলেও উৎসাহী হয়ে এ কাজ করছেন তারা।

প্রতিমা শিল্পী নিরধ আচার্য জানান, পূজা শুরুর দিন পর্যন্ত রংএর কাজ করতে হবে তাদের। এবার তিনি ৪টি মণ্ডপে প্রতিমা তৈরি করেছেন। এখন প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হলেও বাকি রংতুলির কাজ। প্রতিটি মণ্ডপে প্রতিমা তৈরীর জন্য ২২ হাজার টাকা নিচ্ছেন তিনি।

কথা হলে নগর পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নিতাই দাস বলেন, দুর্গোৎসব উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি আমরা। প্রতিমা তৈরির কাজ এখন শেষের দিকে।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুরঞ্জিত চৌধুরী টপ্পা বলেন, এ বছর শান্তিগঞ্জে ২২টি পূজা মণ্ডপে পূজা উদযাপন করা হবে। প্রতিটি মন্দিরে নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জ্যোতি ভূষণ তালুকদার ঝন্টু বলেন, এবার আড়ম্বরপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব হবে। আমরা সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। উপজেলার প্রত্যেকটি পূজা মণ্ডপে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আমাদের উপজেলা কমিটির পক্ষথেকেও একটি বিশেষ টিম কাজ করবে।

এদিকে পূজাকে সামনে রেখে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতে দফায় দফায় সমাবেশ করছে উপজেলা প্রশাসন৷ পূজা এলাকায় সকল ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে৷ পাশাপাশি পূজার সময় আইনশৃঙ্খলা জোরদার রাখতে এবং মাদকের ছড়াছড়ি রোধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা হবে বলেও থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

মুঠোফোনে কথা হলে শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদ চৌধুরী বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজায় যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য প্রশাসন সর্বদা সজাগ থাকবে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের উৎসব পালন করতে পারেন সে বিষয়ে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার উজ জামান বলেন, হিন্দু ধর্মালম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে আনন্দঘন পরিবেশে শারদীয়া দুর্গাপূজা উদযাপন কর‍তে পারেন তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পূজায় সকল মণ্ডপে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকবে।

এনজে

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়