স্কুল ছাত্রকে মাঠে নামিয়ে দিল আর্সেনাল

আগের সংবাদ

আত্মহত্যা কোনো সমাধান নয়

পরের সংবাদ

সীমান্তে মিয়ানমারের গোলা : বাংলাদেশের অবস্থান কঠোর হোক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২২ , ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২২ , ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ

আকাশসীমা লঙ্ঘন করে সীমান্তে মিয়ানমারের মর্টারশেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটছে বারবার। প্রতিবারই ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কড়া প্রতিবাদ জানানোর পরও তারা যেন কর্ণপাত করছে না। এমতাবস্থায় বাংলাদেশের করণীয় কী- তা দ্রুত ঠিক করতে হবে। কূটনৈতিক তৎপরতার সঙ্গে সঙ্গে সামরিক জবাবের বিষয়টিও সামনে আসছে। বাংলাদেশ মিয়ানমারকে শক্ত মেসেজ দিতে হবে। না হয় বাংলাদেশকে দুর্বল ভেবে এমন ঘটনা ঘটার সুযোগ নেবে। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী প্রদেশ রাখাইনসহ মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে দেশটির সেনাবাহিনীর সঙ্গে স্থানীয় নৃগোষ্ঠীগুলোর তুমুল লড়াই চলছে। গণতন্ত্রপন্থিদের আক্রমণে দেশটির সামরিক বাহিনী এখন বেশ নাজুক অবস্থায় আছে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও বেশ শোচনীয়। রাজনৈতিকভাবে হতবিহ্বল হয়ে তাতমাদো এখন গায়ের জোরেই ক্ষমতা ধরে রেখেছে। আরাকান আর্মি ওখানে তাতমাদোর অনেক ঘাঁটি দখল করে নিয়েছে। সেই ঘাঁটিগুলোকে পুনরুদ্ধারের জন্য তারা জানপ্রাণ দিয়ে যুদ্ধ করছে। রাখাইন থেকে তারা যদি আরাকান আর্মিকে সরাতে না পারে তাহলে তা জান্তা সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। সে লড়াইয়েরই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আমাদের এখানে এসে পড়ছে। গত শুক্রবার রাতে তুমব্রু সীমান্তে মিয়ানমারের ছোড়া মর্টারশেল বিস্ফোরণে ইকবাল নামে এক রোহিঙ্গা যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো পাঁচজন আহত হয়েছেন। নিহত ইকবাল ও আহতরা তুমব্রু সীমান্তে নো ম্যান্স ল্যান্ডের বাসিন্দা। গত এক মাস ধরে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী তুমব্রু, ঘুমধুম, রেজু এবং আমতলিসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সঙ্গে দেশটির সেনাবাহিনী ও সীমান্তরক্ষী বিজিপির ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে। বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের আচারতলী, ঘুমধুুম ইউনিয়নের জলপাইতলী, তুমব্রু, বাইশপাড়ি, মগপাড়া, রেজু গর্জনবুনিয়া, বরইতলী, ফাত্তারঝিরি, উত্তরপাড়া, কোনারপাড়া, পশ্চিমপাড়া ও হিন্দুপাড়া গ্রামের মানুষের দিন-রাত কাটছে ভয়ের মধ্যে। এর মধ্যেই সীমান্তের কাছাকাছি এসব এলাকার মর্টারশেল বিস্ফোরণের পর থেকে আতঙ্কে থাকা ৩৫টি পরিবারকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করলেও বিষয়টিকে মিয়ানমার সব সময় এড়িয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে বারবার বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের অবস্থান এবং সমাধানের জন্য বক্তব্য তুলে ধরেছেন। অনেক দেশ রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নিলেও ভূরাজনীতির কারণে অনেক দেশ এ ব্যাপারে বিরত থেকেছে। এর মধ্যে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সঙ্গে দেশটির সেনাবাহিনী ও সীমান্তরক্ষী বিজিপির ব্যাপক সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বাংলাদেশের ভূখণ্ডে মর্টারশেল নিক্ষেপের ঘটনায় সীমান্তরেখায় জড়ো হচ্ছে লাখো রোহিঙ্গা। সীমান্তে মিয়ানমারের মর্টারশেল নিক্ষেপ, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা, যুদ্ধাবস্থার সৃষ্টি- এটাকে আগ্রাসন হিসেবেই দেখছে বাংলাদেশ। সীমান্ত দিয়ে আর একটি রোহিঙ্গাও যেন বাংলাদেশে প্রবেশ না করতে পারে তার জন্য নজরদারি বাড়াতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আন্তরিক ভূমিকাও জরুরি। বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতায় এখন চীন ও ভারতকে গুরুত্বের মধ্যে নিতে হবে। এই দুটি দেশকে কাজে লাগাতে পারলে মিয়ানমারের অবস্থার পরিবর্তন হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়