সোস্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ না হলে অপতৎপরতা কমবে না

আগের সংবাদ

১৬ ডিসেম্বর মুক্তি পাচ্ছে ‘আভাটার টু’

পরের সংবাদ

কলসিন্দুরের মেয়েদের নিয়ে এলাকাবাসীর উচ্ছ্বাস

‘আমরার মাইয়ারা বাংলাদেশরে জিতাইছে’

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২২ , ৯:১৫ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২২ , ৯:১৭ অপরাহ্ণ

নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলা শেষে ধোবাউড়া উপজেলায় যেন হোলিখেলা শুরু হয়েছে। এলাকাবাসীর উচ্ছ্বাসের যেন অন্ত নেই। এমনটাই মনে হচ্ছে এই এলাকায় এসে। শুধু এখানেই শেষ নয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দেখে মনে হচ্ছে, যেন ফেসবুকটা দখল করে নিয়েছে ধোবাউড়া উপজেলার কলসিন্দুরের মেয়েরা।

আর তা হবেইনা কেন, হওয়াটাই স্বাভাবিক কেননা আজকের এই খেলায় ধোবাউড়া উপজেলার কলসিন্দুর গ্রামের ৬ জন নারী খেলোয়াড় রয়েছেন। সানজিদা, মারিয়া মান্দা, শিউলি আজিম, মারজিয়া আক্তার, শামসুন্নাহার সিনিয়র, শামসুন্নাহার জুনিয়র। এছাড়াও এর আগের খেলায় সাজেদা, তহুরাও খেলেছে।

আজ থেকে প্রায় ১১ বছর আগে অপ্রতিরোধ্য এই ফুটবল কন্যাদের শুরুটা ২০১১ সালে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ফুটবল টুর্নামেন্ট দিয়ে। জেলার সীমান্তবর্তী এলাকার গারো পাহাড়ের পাদদেশ থেকে ধোবাউড়া উপজেলার কলসিন্দুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম থেকে উঠে আসে এই একদল কিশোরী ফুটবলার। যাদের পায়ের জাদুতে ধুঁকতে থাকা নারী ফুটবল ফিরে পায় আলো।

প্রথমে যদিও এলাকার কিছু কিছু মানুষ তাদেরকে ভিন্ন চোখে দেখতো, এখন আর সে অবস্থা নেই। ভিন্ন চোখে দেখার কিছু যৌক্তিকতাও ছিলো তাদের কাছে, কেননা যে মেয়েদের ঘরের কাজ আঞ্জাম দেয়ার কথা, তারাই ছেলেদের খেলা ফুটবল খেলছে। এই চিন্তা করে অনেক অভিভাবকতো নিজের মেয়েকে খেলতে নিষেধও করে দিয়েছেন।

কিন্তু হাঁটি হাঁটি পা পা করে সফলতা আসছে। তা দেখে সকলের মনেই পরিবর্তন আসতে শুরু করে। সকলেই তাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে পরে। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের জয় শুধু কলসিন্দুর নয়, উপজেলার প্রতিটি অঞ্চলে জয়জয়কার বইছে, যেন এক হোলিখেলা শুরু হয়েছে।

আজকের খেলা সম্পর্কে আব্দুল কদ্দুস নামের একজন বলেন, ‘আজ আমরা অনেক খুশি আমরার মাইয়ারা বাংলাদেশরে জিতাইছে। আমি ফুরা খেলা দেখছি, আমরার শামসুন্নাহার জুনিয়র মাঠে নাইম্মা পাঁচ মিনিটের মধ্যেই গোল দেয়, এটি আমার অন্তরডা জুড়াইয়া দিসে।’

এবিষয়ে কলসিন্দুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও কলসিন্দুর নারী ফুটবল টিমের টিম ম্যানেজার মালা রাণী সরকার বলেন, আজকে জয়ে আমরা অনেক অনেক আনন্দিত। এই জয় আমাদের মেয়ে এবং ছেলেদের জন্য আগামী দিনে বিশ্ব জয়ের জন্য অনুপ্রেরণা জোগাবে।

পাশাপাশি তিনি বলেন, আমরা আগামীর জন্য খেলোয়াড় তৈরি করার ক্ষেত্রে ছেলে এবং মেয়ে দুটি ফর্মেটেই চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। কিছুদিন আগে আমাদের কলসিন্দুর ছোট টিমের মেয়ে এবং ছেলেরা জাতীয় গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা (স্কুল এবং মাদ্রাসা) ২০২২ দুটি ফর্মেটেই জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়নের গৌরব অর্জন করেছে।

এমকে

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়