বিয়িং হিউম্যান ক্লোদিং ফ্র্যাঞ্চাইজি এখন ঢাকায়

আগের সংবাদ

রানির শেষকৃত্যে লন্ডনে পৌঁছেছেন বাইডেন

পরের সংবাদ

প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধের আট দফা দাবি

ফের অবস্থান কর্মসূচিতে ঢাবি শিক্ষার্থী

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২২ , ১:২৩ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২২ , ১:২৩ অপরাহ্ণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) প্রশাসনিক জটিলতায় সৃষ্ট নানা হয়রানি বন্ধে আট দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় পুনরায় অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ।

রবিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ের সামনে এ অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন হাসনাত। এর আগের অবস্থান কর্মসূচি থেকে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি এবং ১০ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন এই শিক্ষার্থী।

পুনরায় অবস্থান কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, এর আগে ভিসি স্যারকে যখন স্বারকলিপি দিয়েছিলাম, তখন তিনি দাবিগুলো যৌক্তিক বলে তা বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি কথা রাখেননি এবং রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ে আজ আমাকে বাধাও দেয়া হয়েছে। নয়টায় অফিস সময় হলেও নয়টা চল্লিশেও রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে অনুপস্থিত ছিলেন। সেই ছবি তুলতে গেলে আমি বাঁধার সম্মুখীন হই।

এরই মধ্যে তিনি প্রশাসনিক ভবনের সেবা সম্পর্কে জরিপ করেন। সেখানে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী মোট ৭০০ জন অংশগ্রহণ করেন।

তার জরিপের ফলে উঠে আসা তথ্যগুলো হলো-

  • ৮৯ দশমিক ২ শতাংশ শিক্ষার্থীর প্রশাসনিক ভবনের সেবার অভিজ্ঞতা ভয়াবহ ও অপ্রত্যাশিত।
  • সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো ৬৮ দশমিক ৩ শতাংশ শিক্ষার্থীর মতামত হলো প্রশাসনিক ভবনে ঘুষ লেনদেন ও স্বজনপ্রীতির চর্চা হয়।
  • সর্বোচ্চ সংখ্যক হয়রানি হয় ভর্তি শাখায়, বৃত্তি শাখায়, মার্কশিট শাখায় ও ট্রান্সক্রিপ্ট শাখায়(ক্রমানুযায়ী)
  • চার শতাধিক শিক্ষার্থীর শুনতে হয়েছে, ‘লাঞ্চের পরে আসুন’, ‘এটা এই রুমের কাজ না’, ‘কাগজ এখনো হল থেকে আসেনি’।
  • মোট ৮৬ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষার্থী মনে করে প্রশাসনিক ভবনের বর্তমান কাজ ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণার সম্পূর্ণ বিপরীত, বিপরীত বা শূন্য।
  • চার শতাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগ-সেবা দাতাদের কাছে সেবা গ্রহীতারা নিরুপায় ও সেবা গ্রহীতাদের সময়ের কোনো মূল্য নেই।
  • প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থীর মতে প্রশাসনিক ভবনের সেবার মান অপরিবর্তিত থাকার কারণ কর্মকর্তাদের সেচ্ছাচারিতা, স্বচ্ছতার অভাব।
  • ৭২ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষার্থী মনে করে সেবার মান উন্নয়নের জন্য প্রত্যক্ষ আন্দোলনের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করা উচিত।

সার্বিক বিষয়ে অবস্থানকারী হাসনাত আরও বলেন, বেঁধে দেওয়া ১০ কর্মদিবস শেষ হলেও রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ের সমস্যা সমাধানে ভিসি কোনো পদক্ষেপ নেননি। আমাদের আট দফা দাবির একটি দাবিও পূরণ করেননি, কিংবা দাবি পূরণে কোনো ধরনের দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেননি। রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ের অবস্থা যা ছিল, ঠিক তা-ই রয়েছে। রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ের কর্মচারীদের সময়মতো উপস্থিত না হওয়া, লাঞ্চের আগেই অফিস থেকে বেরিয়ে যাওয়া, অযথাই ছাত্র হয়রানি করা, দায়িত্বে অবহেলা, রুম নম্বর বিড়ম্বনা, সনাতন পদ্ধতি ও ছাত্র হয়রানি এখনো রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ের নিয়মিত ঘটনা।

এর আগে আট দফা দাবিতে তিনি রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে সংবাদ সম্মেলন করেন। তার আট দফা হলো-

  • শিক্ষার্থীদের হয়রানি বন্ধে শিক্ষক ও ছাত্র প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে অভিযোগ সেল গঠন করা।
  • প্রশাসনিক সব কার্যক্রম অনতিবিলম্বে ডিজিটাইজড করা।
  • নিরাপত্তা ও হারিয়ে যাওয়া কাগজপত্র তদন্তের স্বার্থে অফিস সমূহের অভ্যন্তরে প্রতিটি রুমে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা।
  • প্রশাসনিক ভবনে অফিস সমূহের প্রবেশদ্বারে ডিজিটাল ডিসপ্লে স্থাপন করা।
  • কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যকর ও সুন্দর কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করা।
  • কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আধুনিক সাচিবিক বিদ্যা, পেশাদারিত্ব, মানুষিক ও আচরণগত প্রশিক্ষণ আইন করে বাধ্যতমূলক করা।
  • প্রশাসনিক ভবনের অভ্যন্তরে অবস্থিত কর্মচারী ইউনিয়ন অফিস বাধ্যতামূলকভাবে তাদের ক্লাবসমূহে স্থানান্তর নিশ্চিত করা এবং
  • কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচনকালীন প্রচারণা পরিবেশবান্ধব করা।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়