এবার ইডির জেরার মুখে নোরা ফাতেহি

আগের সংবাদ

যুবরাজ ও মিতার জন্য এক সন্ধ্যা

পরের সংবাদ

বারুণী শরৎ মেলা

যেখানে ছড়িয়ে আছে অনেকের গল্প

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২২ , ১০:৪২ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২২ , ৯:৫২ অপরাহ্ণ

সুস্মিতা বসাক আর সঞ্জীব ঘোষ, দুই নৃত্য শিল্পী। সুস্মিতা ভরত নাট্যম আর সঞ্জীব আধুনিক নৃত্যশিল্পী। বারুণী এই শিল্পীত দুই মানুষেরই অনলাইনভিত্তিক সংগঠন। যে সংগঠনের উদ্যোগেই আগামী শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে এক ছাদের নীচে ৪১ নারী উদ্যোক্তা নিয়ে বারুণী শরৎ মেলার আয়োজন। যেখানে ছড়িয়ে আছে একেক নারীর দুঃখ বেদনার গল্পও।

শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি সাতাশ নম্বরে মাইডাস সেন্টারের ১২ তলায় শুরু হয়েছে দুই দিনের এ উদ্যোক্তা মেলা।

কথা হলো মেলায় অংশ নেয়া মনিপুরী নিয়ে কাজ করা উদ্যোক্তা হংস মিথুন’র স্বত্ত্বাধিকারী শান্তা ভৌমিকের সঙ্গে। ভোরের কাগজকে তিনি বলেন, মনিপুরী আমাদের দেশীয় পোশাক, যা মনিপুরীদের অনেক শ্রম ঘামে তৈরী। অথচ অনেকটাই বিলুপ্তপ্রায়। এই পোশাকের প্রতিনিধিত্ব করতেই আমি এ পেশায় এসেছি। বেশ সাড়াও পেয়েছি। মানুষের অনুপ্রেরণাই আমাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

একটু ভিন্নধর্মী কাজ নিয়ে নিজেই বিক্রেতার ভূমিকায় দাড়িয়েছেন খুলনা থেকে আসা অন্দর’র স্বত্ত্বাধিকারী স্থপতি ফৌজিয়া ডেইজি। তিনি শাড়ির মধ্যে তুলে ধরেছেন রূপলাল হাউজ, সমরেশ মজুমদারের অর্জুন সমগ্র-১, পানাম নগরসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাকে।

ফৌজিয়া ডেইজি বললেন, ৩০ নারী কর্মী নিয়ে ২০১৬ সাল থেকে কাজ শুরু করেন। শুরু থেকেই ভিন্নধর্মী কাজের প্রতিই ঝোঁক। যে কারণে শাড়ির মধ্যে ঐতিহাসিক স্থাপনাকে উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে বাংলার ইতিহাস ঐতিহ্যকে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি যশোরের হস্তশিল্প এবং খুলনার হ্যান্ড পেইন্ট নিয়েও কাজ করছি।

তিনি জানান, ২০১৬ সাল থেকে স্থাপত্যের নকশা করতে গিয়ে এ কাজের প্রতি আগ্রহ। পেশায় স্থপতি হলেও এখন তার নেশা হয়ে উঠেছে শাড়ির ডিজাইন করা। সাড়াও পাচ্ছেন বেশ।

ফৌজিয়া ডেইজির মতো মিথ আর্টস অ্যান্ড ক্র্যাফটস’র স্বত্ত্বাধিকারী প্রীতিলা শাহনেয়াজও প্রথা ভাঙা এক নারী। যিনি ছিলেন পেশায় প্রত্নতত্ত্ববিদ। কর্পোরেট সেক্টরে ৫ বছরের কর্মজীবনকে বিদায় জানিয়ে তিনি এখন স্বপ্ন দেখছেন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার। যার কাজগুলো ব্যতিক্রম। যার কাজের অংশ আদিবাসী ফোক মোটিফ, নকশী কাঁথার বুনন, গামছা।

প্রীতিলা শাহনেওয়াজ বলেন, সন্তান জন্মের সময় চাকরি ছেড়ে দিয়ে ঘটনাচক্রে উদ্যোক্তা হয়ে গেছি। তবে এখন এটা নিয়ে ব্রান্ড ভ্যালু তৈরীর মধ্য দিয়ে অনেক দূর যেতে চাই। অনলাইনে বন্ধু-স্বজন এবং নানা মানুষের অনুপ্রেরণায় উৎসাহ আরও দ্বিগুণ হলো। সঙ্গে ব্যাংকার স্বামী শাহনেওয়াজের সমর্থন মানসিক শক্তিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তবে প্রেরণাহীনতাকে প্রেরণা হিসেবেই নিয়েছে মেলায় ১৭ পদের রান্না নিয়ে আসা শায়ানের পাকশালা’র উদ্যোক্তা মাহবুবা আক্তার সুবর্ণা। যিনি এর পাশাপাশি মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনে চাকরি করছেন। ২০১৬ সালে প্রথমে শখের বশেই এক অফিসে ৮ জনের জন্য খাবার সাপ্লাই দিতে গিয়ে সোশাল ওয়েলফেয়ারে মাস্টার্স সুবর্ণা হয়ে উঠলেন রীতিমতো দক্ষ একজন উদ্যোক্তা। ২০১৭ সালে যার পাশ থেকে স্বামী নামক নির্ভরতার হাতটি সরে যাওয়ার পর সন্তানের দায়িত্ব নিয়ে চিন্তিত এই নারী একাকিই এগিয়ে যাচ্ছেন। তবে মায়ের সহযোগিতার হাতটি মাথার ওপর থাকায় বাধা বিপত্তি অতিক্রম করেই এগিয়ে যাচ্ছেন।

সুবর্ণা বলেন, পাশের মানুষটির ছোট ছোট আঘাতগুলো আমাকে এতো ভেঙে দিয়েছিল যে, আমি একাই দ্বিগুণ হয়ে উঠেছি। উঠব আরও। কারো শূন্যতায় আমার সন্তানের জীবন যেন থেমে না যায়। আমার লক্ষ্য আগামীতে ব্যবসাকে অনলাইনে সীমাবদ্ধ না রেখে আউটলেট খুলে বড় কিছু উপহার দেব।

বেনেবৌ’র স্বত্ত্বাধিকারী ফারহানা মুনমুনের স্বপ্ন অন্য রকম। পেশায় স্কলাসটিকার শিক্ষক এ উদ্যোক্তা বললেন, আমাদের জামদানি শিল্পকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই আমার এ উদ্যোগ। শুধু জামদানি শাড়ি নয়, জামদানি কোটি থেকে শুরু করে জামদানি নকশায় ওয়াল ফ্রেম, জুতোরও কালেকশান রয়েছে বেনেবৌ-এ। এছাড়া, জয়ীর অন্তরা জয়া, ব্যাঙাচি’র তাসনিয়া জামান মিম, ক তে কাপড়’র দুই উদ্যোক্তা ইফ্ফাত আরা আর স্নিগ্ধা রানি সরকার, পৌরাণিক’র লুবনা জাহানও জানালেন ভিন্ন রকম গল্প। যে গল্পের পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে স্বাধীনচেতা নারীরই ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন।

মেলার দুই আয়োজক সুস্মিতা ও সঞ্জীব জানান, বারুণীর পথচলা শুরু হয় ২০১৯ সালে। বারুণী একটি দেশীয় পণ্যের মেলা। বারুণী শব্দের অর্থ হিমালয়ের কন্যা। আমাদের মেলায় অংশগ্রহণকারী বেশির ভাগ উদ্যোক্তাই নারী। তাদের সৃজনশীল কাজের সফলতা যেন পর্বতের চূড়ায় পৌঁছাতে পারে, তার জন্যই আমাদের এই মেলার আয়োজন। তবে কিছু পুরুষ উদ্যোক্তাও অংশ নেন।

তারা আরও জানান, বারুণীতে অনলাইনভিত্তিক দেশীয় পণ্যের পেইজগুলোই বেশির ভাগ অংশ নিয়ে থাকে। বারুণী দেশীয় পণ্যের উদ্যোক্তাদের সৃষ্টি প্রদর্শন ও দেশীয় পণ্য কেনার জন্য বিভিন্ন উৎসবকে ঘিরে মেলার আসর বসায়। বারুণী কেবল দুর্গা পূজায় নয়, ঈদ, বৈশাখ এবং শীতকে ঘিরে হিম মেলারও আয়োজন করবে এবং বারুণীকে নিয়ে বিভিন্ন জেলায় আরও বেশি দেশীয় উদ্যোক্তাদের পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ সৃষ্টির প্রচেষ্টায় আছি আমরা। নবীন প্রবীণের অংশগ্রহণে দেশীয় উদ্যোগের এই মিলন মেলায় সবাইকে আমন্ত্রণ।

জানা গেছে, মেলায় থাকছে ২৮টি দেশীয় পণ্যের স্টল ও চারটি খাবার স্টল। সেখানে টিপের স্টল, জামদানি শাড়ির স্টল, জামদানির কাজ করা জুতার স্টল, মাটির এবং কাঠের গয়নার স্টল, মনিপুরী শাড়িসহ বিভিন্ন দেশীয় শাড়ির স্টল থাকছে। আজ শেষ হচ্ছে দুইদিনের এ মেলা। তবে অনলাইনে চলবে বিক্রি। মেলা চলবে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।

এনজে

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়