নতুন রিফাইনারি স্থাপনের উদ্যোগ

আগের সংবাদ

নবজাগরণে জীবনের নবযাত্রা

পরের সংবাদ

বাংলাদেশ রেলওয়ে

কেলোকায় জনবল সংকট উৎপাদন বন্ধের আশঙ্কা

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২২ , ৯:২৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২২ , ৯:২৫ পূর্বাহ্ণ

তীব্র জনবল সংকটে রেলের ‘কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানায় (কেলোকা-সিএলডাব্লিউ) উৎপাদন বন্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারখানার প্রাণ মেকানিক্যাল সেকশনে ৬৭ শতাংশ পদ শূন্য। ৩৩ শতাংশ জনবল দিয়ে কোনো রকমে কাজ চলছে। দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এ সেকশনে জনবল নিয়োগ না দেয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, কেলোকার মূল লক্ষ্য হচ্ছে ৬ বছর পর পর প্রতিটি লোকোমোটিভ (রেল ইঞ্জিন) জেনারেল ওভার হলিং (জিওএইচ) করে কার্যক্ষম করে তোলা। দেশে বর্তমানে বিভিন্ন অশ্বশক্তির ১৬-১৭ ধরনের রেলইঞ্জিন রয়েছে। একটি রেলইঞ্জিনে ৩৪ হাজারের বেশি যন্ত্রাংশ রয়েছে। এসব ইঞ্জিন মেরামতের জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে খুচরা যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করতে হয়। জেনারেল ওভারহলিং এ প্রতিটি যন্ত্রাংশ খুলে আলাদা করা হয়। ক্রটিপূর্ণ যন্ত্রাংশগুলো পরিবর্তন করে নতুন যন্ত্রাংশ সংযোজন ও অকেজো অংশ মেরামত করে সচল করা হয়। রেল ইঞ্জিনের স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ২০ বছর। আয়ুষ্কাল পেরিয়ে যাওয়া প্রতিটি ইঞ্জিনকে ছয় বছর অন্তর জিওএইচ এর জন্য কেলোকায় পাঠানো হয়।

সূত্র মতে, বাংলাদেশ রেলওয়েতে লোকোমোটিভ রয়েছে ২৯৪টি (ব্রডগেজ ১০৮টি, মিটারগেজ ১৮৬টি)। ইতোমধ্যে ১১৯টি ইঞ্জিনের আয়ুষ্কাল পেরিয়ে গেছে। এরমধ্যে ব্রডগেজ ৫৫টি ও মিটারগেজ ৬৪টি। রেল বহরে ৬৭ বছর পুরনো ৬টি মিটারগেজ লোকোমোটিভও চালু অবস্থায় রয়েছে। আয়ুষ্কাল পেরিয়ে যাওয়া লোকোমোটিভগুলোকে বছরের পর বছর ধরে জেনারেল ওভারহলিং করে সচল রাখা হয়েছে।

সূত্র জানায়, কেলোকা চালুর পর থেকে একের পর এক সংকট লেগেই আছে। এক সময় দক্ষ জনবল, তীব্র অর্থ ও যন্ত্রাংশ সংকটে পড়ে উৎপাদন ব্যাহত হত। এখন অর্থ ও যন্ত্রাংশ সংকট কিছুটা কমলেও জনবল সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। কেলোকার অত্যাধুনিক মেকানিক্যাল (কারিগরি) সেকশনে ৫৫৯টি পদের বিপরীতে এক সময় কর্মরত ছিল প্রায় সাড়ে চারশ শ্রমিক-কর্মচারী। গত ৮-১০ বছরে অনেকেই অবসরে গেছেন। কেউ বা পদন্নতি পেয়ে উপরের গ্রেডে চলে গেছেন। বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৮৩ জন যা চাহিদার ৩৩ শতাংশ। এই ১৮৩ দক্ষ জনবলের মধ্যে আগামী ১-৩ বছরে অধিকাংশ অবসরে চলে যাবেন। কিন্তু দক্ষ জনবল গড়ে তোলার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি রেল কর্তৃপক্ষ। ফলে কিছুদিনের মধ্যেই কারখানাটি উৎপাদন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে।

মেকানিক্যাল সেকশনে নিয়োগ পাওয়া একজন কর্মচারীর ইঞ্জিনের হাজার হাজার যন্ত্রাংশ চিনতে এবং তা খোলা ও মেরামতের কৌশল শিখতে ১০-১২ বছর লেগে যায়। এরপর এই কর্মচারীরাই দক্ষ হিসেবে বিভিন্ন ট্রেডে পদোন্নতি পেয়ে উপরের পদে চলে যায়। মেকানিক্যাল সেকশনই হলো কেলোকার প্রাণ। এখন নিয়োগ দিলেও দক্ষ জনবল গড়ে উঠতে অন্তত ৮ বছর সময় লাগবে। সর্বশেষ ২০১৩ সালে মেকানিক্যাল সেকশনে খালাসি (চতুর্থ শ্রেণি) পদে কিছু জনবল নিয়োগ দেয়া হয় বলে সূত্র জানায়।

কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানার প্রধান নির্বাহী (সিইএক্স) প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরের কাগজকে জানান, লোকজন নেই, কারখানা চলে না। জনবল সংকটের কারণে কারখানায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ইঞ্জিন মেরামত কাজ পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। ৫৫৯ জন শ্রমিক-কর্মচারীর বিপরীতে রয়েছে ১৮৩ জন। ৬৭ শতাংশ পদ শূন্য। এর আগে ১৮৩ জনের সঙ্গে ৯৩ জন টিএলআর (অস্থায়ী শ্রমিক) দিয়ে কোনো রকমে কাজ চালানো হত। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে অনুমোদন না পাওয়ায় টিএলআর নিয়োগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে জনবল সংকট থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটসহ বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের কারিগরি প্রশিক্ষণ চলমান রয়েছে বলে তিনি জানান।

ডিজেলচালিত রেল ইঞ্জিনের জিওএইচ করে কার্যক্ষম করার লক্ষ্যে ১৯৯২ সালে সৌদি অর্থায়নে ২০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ১১১ একর জমির ওপর বাংলাদেশ রেলওয়ের কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা স্থাপন করা হয়।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়