গৃহকর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে

আগের সংবাদ

ফুটপাত দখলমুক্ত হোক হকারেরও পুনর্বাসন জরুরি

পরের সংবাদ

শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা রোধে সচেতনতা ও সহমর্মিতা

জুবায়ের আহমেদ

শিক্ষার্থী, বিজেম

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২২ , ৬:৩১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২২ , ৬:৩১ পূর্বাহ্ণ

আত্মহত্যা মহাপাপ, প্রত্যেকটি ধর্মমতেই আত্মহত্যাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে এবং আত্মহত্যাকারীর প্রতি মৃত্যু-পরবর্তী জীবনের জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। তথাপিও যুগে যুগে অসংখ্য মানুষ জাগতিক বিভিন্ন সমস্যায় হতাশ হয়ে জীবনের মায়া ত্যাগ করে, পরিবার-পরিজনের কথা না ভেবে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়, আত্মহত্যার মাধ্যমে কোনো কিছুর সমাধান হয়েছে বলে শুনিনি কখনো। উল্টো সমস্যা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। চলার পথে বহু সমস্যাকে সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে মৃত্যুর পথ বেছে নিলেও ইহকালীন-পরকালীন সমস্যা আরো বড় হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণার তথ্যানুযায়ী পৃথিবীজুড়ে প্রতি বছর আত্মহত্যা করে প্রায় ৮ লাখ মানুষ। দৈনিক এ হার ২ হাজার ১৯১ জন। গত ৫০ বছরের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে আত্মহত্যার হার বেড়েছে ৬০ শতাংশ। বাংলাদেশে আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে ২.৬০ শতাংশ। এটি সব বয়সের আত্মহত্যাকারীর পরিসংখ্যান হলেও বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার চিত্র অনেক ভয়াবহ। পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য মতে গত ৮ মাসে ৩৬৪ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। তন্মধ্যে স্কুলের শিক্ষার্থী ১৯৪ জন, কলেজের ৭৬ জন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০ জন ও মাদ্রাসার ৪৪ জন। জেলা হিসেবে আত্মহত্যার হার সবচেয়ে বেশি ঢাকায় ২৫.২৭ শতাংশ। চট্টগ্রামে ১৬.৪৮ শতাংশ। ৩৬৪ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সর্বনিম্ন আত্মহত্যার হার সিলেটে ৪ শতাংশ।
আত্মহত্যার কারণ হিসেবে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়, পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া, পড়াশোনার চাপ, সেশন জট, অভিমান, প্রেমঘটিত বিষয়, পরিবার থেকে কিছু চেয়ে না পাওয়া, পারিবারিক কলহ, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি, চুরি বা মিথ্যা অপবাদ, মানসিক সমস্যা ইত্যাদি। সমস্যা যতই বড় হোক আত্মহত্যা রাষ্ট্রীয় আইন কিংবা ধর্মীয় বিধান মতে বৈধ নয়। মানসিক সমস্যার ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের থেকে পর্যাপ্ত সাপোর্ট না পেলেই আত্মহত্যার মতো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।
উল্লেখিত রিপোর্ট অনুসারে স্কুলের শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ১৯৪ জন আত্মহত্যা করেছে অর্থাৎ এই শিক্ষার্থীরা অপ্রাপ্ত বয়স্ক এবং পিতা-মাতার ইচ্ছা-অনিচ্ছার দ্বারা প্রভাবিত হয়। ফলে পিতা-মাতার চাওয়া মতে জীবনযাপন ও পড়ালেখা করতে না পারলেই পিতা-মাতার শাসনের মুখোমুখি হওয়ার চেয়েও জীবন থেকে পালিয়ে যাওয়াকে তারা সহজ মনে করে। ফলে পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে লজ্জা কিংবা ভয়ে আত্মহত্যা করে ফেলে অনেক শিশু। এটি মূলত সন্তানের সামর্থ্য না বুঝে পিতা-মাতার উচ্চ আকাক্সক্ষা কিংবা অন্যরা ভালো রেজাল্ট করায় তোমাকেও ভালো রেজাল্ট করতে হবে, এমন মানসিকতার বলি হয় স্কুলের শিক্ষার্থীরা। স্কুলের শিক্ষার্থীদের চাপ দিয়ে লেখাপড়া করানো মোটেও কাম্য নয়। শিশুসন্তানকে জীবন উপভোগ করার মন্ত্রে উজ্জীবিত করতে হবে। সন্তানকে ভালো ছাত্র হওয়ার আগে ভালো মানুষ হওয়ার দীক্ষা দিতে হবে। ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে হবে।
জীবন সুন্দর, এই সুন্দর জীবনকে উপভোগ করতে হবে। আত্মহত্যা সমাধান নয়, সমস্যার সম্মুখীন হয়ে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। শিক্ষার্থীরা যেহেতু মানসিকভাবে পরিণত নয়, তাই তাদের মধ্যেই আত্মহত্যার সংখ্যাটা বেশি। শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার কারণগুলোকে আমলে নিয়ে পরিবার-পরিজন থেকে শুরু করে নিকটাত্মীয়, বন্ধুবান্ধব, সহপাঠী এবং শিক্ষকবৃন্দসহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীদের যে কোনো সমস্যায় পাশে দাঁড়াতে হবে। শ্রেণিকক্ষে আত্মহত্যাবিরোধী আলোচনা করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থার খোঁজ নিতে হবে। জীবনের চেয়ে পড়ালেখা বড় নয় ও সমস্যার চেয়েও জীবনে বেঁচে থেকে সমাধানের পথ খোঁজা জরুরি এবং সমস্যার তিক্ততার চেয়েও জীবনের মূল্য অনেক বেশি, এটি শিক্ষার্থীদের মনে গেঁথে দিতে হবে।

জুবায়ের আহমেদ
শিক্ষার্থী, বিজেম, কাঁটাবন, ঢাকা।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়