শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা রোধে সচেতনতা ও সহমর্মিতা

আগের সংবাদ

বিশ্ব সম্প্রদায়ের জোরাল ভূমিকা চাইছে বাংলাদেশ

পরের সংবাদ

ফুটপাত দখলমুক্ত হোক হকারেরও পুনর্বাসন জরুরি

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২২ , ৬:৩১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২২ , ৬:৩১ পূর্বাহ্ণ

হকার বসানো ও উচ্ছেদ নিয়ে রাজনীতি বন্ধ না হলে অভিযান চালিয়ে কোনো সুফল আসবে না। অতীতে সিটি করপোরেশন বহুবার উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে। নতুন করে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ফুটপাত মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। উচ্ছেদে কিছু পরিকল্পনা নিয়ে তিনি মাঠে নেমেছেন। ফুটপাত এলাকাকে ৩ ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো ‘রেড জোন’, ‘হলুদ জোন’ আর ‘সবুজ জোন’। ‘রেড জোনে’ কোনোভাবে হকার বসার সুযোগ পাবে না। মেয়রের এ উদ্যোগ কতটা বাস্তবায়ন হয় তা দেখার বিষয়। আমরা মনে করি, হকারদের পুনর্বাসন না করে তাদের উচ্ছেদ করলে এই অবস্থার পরিবর্তন হবে না। কেননা এতে অনেকের স্বার্থ জড়িত। তাদের মদদেই হকাররা ফুটপাতে ব্যবসা করার সুযোগ পান। আগে এ চক্রকে ভাঙতে হবে। এটা সবাই অবগত যে, রাজধানীর ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে পসরা সাজানো হকারদের কাছ থেকে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজি হচ্ছে। গুলিস্তান, পল্টন ও মতিঝিল এলাকায় দিন দিন বাড়ছে হকারের সংখ্যা, বাড়ছে চাঁদার হারও। আর এই চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করছে কয়েকটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। হকাররা রোদ, বৃষ্টিতে ভিজে ফুটপাতে ব্যবসা করলেও তাদের আয়ের একটি বড় অংশ চাঁদাবাজদের পকেটে চলে যায়। এটা খুবই দুঃখজনক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এদিকে নজরদারি দরকার। দুই সিটি করপোরেশনের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজধানীতে ১৬৩ কিলোমিটার ফুটপাতের মধ্যে ১০৮ দশমিক ৬০ কিলোমিটার ফুটপাতই রয়েছে প্রভাবশালীদের অবৈধ দখলে। এ ছাড়া নগরীর ২ হাজার ২৮৯ দশমিক ৬৯ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ৫৭২ দশমিক ৪২ কিলোমিটার রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় বসেছে পণ্যের পসরা। পথচারীরা বিড়ম্বনায় পড়ছেন পদে পদে। ফুটপাত নিয়ে চলছে বড় অঙ্কের বাণিজ্য। জানা গেছে, রাজধানীর ফুটপাতে পসরা সাজানো হকারদের কাছ থেকে প্রতি মাসে কয়েক কোটি টাকার চাঁদাবাজি হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে ক্ষমতাসীন দল ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতা পরিচয়ে ফুটপাতের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নানা ধরনের পণ্যসামগ্রীর দোকান থেকে তোলা হচ্ছে এই বিপুল অঙ্কের চাঁদা। এই চাঁদার ভাগ পাচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসাধু কর্মকর্তা। গুলিস্তান ও এর আশপাশ এলাকায় ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে প্রায় ১২শর বেশি দোকান রয়েছে। এসব দোকান থেকে সর্বনিম্ন ১০০ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়। মাসে প্রায় ১ কোটি টাকা শুধু গুলিস্তান ও আশপাশ এলাকা থেকেই চাঁদা আদায় করা হয়। তবে এই এলাকার সবচেয়ে দামি ফুটপাত হচ্ছে বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনের ফুটপাত। এখানে ৩-৫ ফুটের একটি দোকান নিতে হলে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত এককালীন জামানত দিতে হয়। এর সঙ্গে মাসিক ভাড়া গুনতে হয় ৮-১০ হাজার টাকা। শুধু গুলিস্তান, মতিঝিল, পল্টন এলাকাই নয়; রাজধানীর নিউমার্কেট, যাত্রাবাড়ী, ফার্মগেট, মিরপুর-১, মিরপুর-১০, উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় রমজানকে ঘিরে রমরমা ফুটপাত বাণিজ্য চলছে। একাধিকবার সিটি করপোরেশনের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও পরে আবারো ফুটপাত চলে যাচ্ছে হকারদের দখলে। রাজনীতিক নেতাদের মদদেই হকাররা ফুটপাতে ব্যবসা করার সুযোগ পান। এ চক্র ভাঙতে আইনের কঠোর প্রয়োগ দরকার। সেইসঙ্গে সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়ানো ও হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থার বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়