জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠনে বিলম্ব নয়

আগের সংবাদ

ক্রিকেট খেলা ও ঘৃণার টেলিপ্যাথিক প্রভাব

পরের সংবাদ

সৈয়দ মহসিন আলীর প্রতি শ্রদ্ধা : মানুষই ছিল যার কাছে বড়

রজত কান্তি গোস্বামী

অধ্যক্ষ, রাজনগর সরকারি কলেজ

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২২ , ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২২ , ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

মৌলভীবাজারবাসীর একটি আবেগের নাম সৈয়দ মহসিন আলী। সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী। মন্ত্রিত্ব যার জীবনে নতুন অথবা ভিন্ন কোনো মাত্রা যোগ করতে পারেনি। আমার ব্যক্তিগত ধারণা, মন্ত্রী পদটি সৈয়দ মহসিন আলী নামের মানুষটিকে পেয়ে ধন্য হয়েছিল। বহুমাত্রিক গুণের অধিকারী সৈয়দ মহসিন আলী মন্ত্রী হওয়ার অনেক আগেই শুধু মৌলভীবাজার জেলায় নয়, রাজধানী ঢাকার জ্ঞানী-গুণী মানুষের প্রিয়পাত্র ছিলেন তিনি। একজন ব্যস্ততম রাজনৈতিক ব্যক্তি হয়েও তিনি দৃঢ়ভাবে রাজনৈতিক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠতে পেরেছিলেন। সৈয়দ মহসিন আলী একজন সম্মুখসারির মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ২৩ বছর। ১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল মৌলভীবাজার জেলার প্রধান নদীবন্দর শেরপুরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের সামনাসামনি যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এটাই ছিল সিলেট বিভাগে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ওপর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রথম আক্রমণ। এই যুদ্ধে পাকবাহিনীর কিছু সদস্য হতাহত হয়েছিল। বাকিরা পিছু হটে সিলেটের দিকে চলে যায় এবং তৎকালীন মৌলভীবাজার মহকুমা কিছুদিনের জন্য হানাদারমুক্ত থাকে। হবিগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতা কমান্ডেন্ট মানিক চৌধুরীর নেতৃত্বে শেরপুরের সেই ভয়াবহ যুদ্ধে তরুণ ছাত্রলীগ কর্মী সৈয়দ মহসিন আলী অংশ নেন এবং সামান্য আহত হন। এরপর মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা সময় তিনি রণাঙ্গনেই ছিলেন। সেক্টর কমান্ডার প্রয়াত মেজর জেনারেল চিত্তরঞ্জন দত্তের (সি আর দত্ত) নেতৃত্বে ৪নং সেক্টরের অধীনে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি প্লাটুনের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মুক্তিযুদ্ধের পরও কয়েক বছর তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ে আওয়ামী যুবলীগের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেন। এরপর থেকেই সৈয়দ মহসিন আলীর রাজনৈতিকভাবে এগিয়ে চলা। তিনি পর্যায়ক্রমে আওয়ামী যুবলীগের মৌলভীবাজার জেলা (তৎকালীন সাংগঠনিক জেলা) কমিটির সভাপতি ও পরে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। জাতীয় পার্টি ও বিএনপি শাসনামলে আওয়ামী লীগের নেতা হয়েও মৌলভীবাজার পৌরসভার তিন তিনবার মেয়র (তখনকার চেয়ারম্যান) নির্বাচিত হন। ১৯৯২ সালে তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কর্তৃক দেশের শ্রেষ্ঠ পৌর-চেয়ারম্যানের পুরস্কার লাভ করেন। ২০০৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজারের আরেক জননন্দিত নেতা সাবেক অর্থমন্ত্রী (বিএনপি প্রার্থী) মরহুম এম সাইফুর রহমানকে পরাজিত করে আওয়ামী লীগের টিকেটে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ লাভ করেন। ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। রাজনীতি ছাপিয়ে সৈয়দ মহসিন আলী প্রকৃত অর্থে গণমানুষের নেতা হয়ে উঠেছিলেন। যৌবন থেকেই যে কোনো বিপদে দুর্যোগে, দিনেই হোক কিংবা রাতেই হোক মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, সহযোগিতা ও সাহস জুগিয়েছেন। তার মূল কর্মক্ষেত্র ছিল রাজনীতি। কিন্তু তিনি কখনো রাজনৈতিকভাবে সংকীর্ণমনা ছিলেন না। তিনি মৌলভীবাজারের শীর্ষস্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হলেও মূলধারার সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখতেন। তাদের বিপদেও তিনি পাশে দাঁড়াতে কুণ্ঠিত হতেন না। এমনকি নির্বাচনে তার সরাসরি বিরুদ্ধে নির্বাচনী মাঠে কাজ করা ব্যক্তিটিকেও তিনি আপন করে কাছে টানতেন। তবে রাজাকার, আলবদর, প্রতিক্রিয়াশীল, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অবিশ্বাসী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের তিনি কখনো প্রশ্রয় দিতেন না।
সৈয়দ মহসিন আলী সাহিত্য সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। মৌলভীবাজারের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তার অবদান ছিল অনবদ্য। নিজে ছিলেন সংগীতপ্রিয় মানুষ। কয়েকশ গান তার মুখস্থ ছিল। সুযোগ পেলেই নিজ কণ্ঠের গান পরিবেশন করতেন। তিনি শিক্ষা ও শিক্ষক দরদি ছিলেন। শিক্ষা ও শিক্ষকদের প্রতি অনুরাগ তাকে ভিন্ন মাত্রা এনে দিয়েছিল। মনে পড়ে, স্বৈরাচারী জেনারেল এরশাদের শাসনামলের শেষদিকে দেশের বেসরকারি হাইস্কুলের শিক্ষকরা বেতন-ভাতা বৃদ্ধির জন্য আন্দোলনে নামেন। এই আন্দোলনকালীন সময়ে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়। অন্দোলনকারী শিক্ষকরা আন্দোলনের অংশ হিসেবে এসএসসি পরীক্ষায় দায়িত্ব পালন করতে অস্বীকার করেন। প্রশাসন ও পুলিশ শিক্ষকদের ওপর বলপ্রয়োগ শুরু করে। এ সময় মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় আন্দোলনকারী শিক্ষকদের সমাবেশে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। কমলগঞ্জের একজন শিক্ষক পুলিশের গুলিতে নিহত হলে শিক্ষকরা আরো প্রতিবাদী হয়ে উঠেন। সৈয়দ মহসিন আলী কমলগঞ্জের ঘটনার খবর পাওয়ামাত্র সেখানে শিক্ষক ও পুলিশের মাঝখানে দাঁড়িয়ে পুলিশের প্রতি নিজের বুক পেতে দেন, তাকে গুলি করার জন্য। শিক্ষকদের সমর্থনে তার এই অবস্থানের কারণে পুলিশকে পিছু হঠতে হয়। তিনি বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডির সভাপতি ছিলেন। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সরকারি অর্থ সহায়তার ব্যবস্থা ছাড়াও তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকেও সহায়তা প্রদান করতেন। বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস কিংবা জাতীয় শোক দিবস পালনে মৌলভীবাজার শহরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মহিলা শিক্ষকগণকে তিনি নিজ খরচে দিবসের তাৎপর্যের সঙ্গে মানানসই শাড়ি উপহার দিতেন, যাতে সব নারী শিক্ষক এক নকশার শাড়ি পরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতেন। বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে তিনি শহরের প্রাথমিক স্কুলগুলোকে সজ্জিত করতে সাজসজ্জার জিনিসপত্র নিজ খরচে উপহার দিতেন। প্রয়োজনে স্কুল-কলেজে আসবাবপত্র কিংবা তৈজস পত্র (কাপ প্লেট ইত্যাদি) উপহার দিতেন। এই মহান মানুষটি শহরের স্কুলে শিক্ষার্থীদের সংগীত শেখার জন্য সংগীতশিক্ষকসহ বাদ্যযন্ত্রের ব্যবস্থা করে দিতেন।
আরেকটি ঘটনার কথা উল্লেখ না করলেই নয়। ১৯৮৬ সালে জেনারেল এরশাদের শাসনামল। সৈয়দ মহসিন আলী তখন মৌলভীবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান। শহরের মূল বাণিজ্যিক এলাকা পশ্চিম বাজারের একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মালিক ও একজন কর্মচারীকে তুচ্ছ কারণে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। বাণিজ্যিক এলাকার অন্যান্য দোকান মালিক ও কর্মচারীরা এর প্রতিবাদে সড়কে নেমে আসেন। পুলিশ তখন শক্তি প্রয়োগ শুরু করে। খবর পাওয়ামাত্র পৌর চেয়ারম্যান সৈয়দ মহসিন আলী সেখানে ছুটে যান। বিস্তারিত ঘটনা জেনে তিনি পুলিশের বিপক্ষে অবস্থান নেন। পুলিশ তখন তাকে ধরে মৌলভীবাজার থানায় নিয়ে আটক করে রাখে। মহসিন আলীর পুলিশ কর্তৃক আটকের খবর শহরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তখন মৌলভীবাজার থানা ছিল আমার বাড়ির পাশে। আমি দেখলাম, শহরের বিভিন্ন দিক থেকে থানামুখী মানুষের ঢল। কয়েক হাজার মানুষ মহসিন আলীকে ছেড়ে দেয়ার দাবিতে থানা প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ শুরু করে। জনগণের প্রবল চাপে পুলিশ মহসিন আলী ও গ্রেপ্তারকৃত দোকান মালিক কর্মচারীকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধারক বাহক সৈয়দ মহসিন আলী সবসময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি নজর রাখতেন। তাদের যে কোনো দুর্যোগে পাশে গিয়ে দাঁড়াতেন। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করলে মফস্বলের কিছু অতি-উৎসাহী কর্মী জেলার বিভিন্ন গ্রামে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়ি ঘরে আক্রমণ শুরু করলে সব জায়গাতেই মহসিন আলী উপস্থিত হয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘরে আক্রমণ প্রতিরোধ করতে সশরীরে রুখে দাঁড়ান।
তিনি যখন মৌলভীবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন, তখন মৌলভীবাজার পৌরসভায় তার কক্ষের দরজা গরিব, শ্রমজীবী কিংবা ভিক্ষুকসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত রেখেছিলেন। তাদের জন্য কিংবা শহরের সামাজিক সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে পৌরসভার পৃষ্ঠপোষকতার কারণে পৌরসভাকে ঋণগ্রস্ত হতে হয়েছিল, যার কারণে একশ্রেণির মানুষের কাছে তিনি চরম সমালোচিত হয়েছিলেন। শহরের গোবিন্দ্রশ্রী আবাসিক এলাকায় তার বাসভবনটির প্রতিটি কক্ষ ছিল সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত। পরবর্তীতে সাংসদ এবং মন্ত্রী হওয়ার পরও সৈয়দ মহসিন আলী এমনধারা বজায় রাখেন। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে জীবনের শেষ দিনটিতেও তার বাসভবনটি সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। গরিব মানুষের চিকিৎসা, প্রয়োজনে ঢাকায় পাঠিয়ে চিকিৎসা বা অপারেশন করানোর ব্যয় তিনি নিজে বহন করতেন। মন্ত্রিত্ব গ্রহণের পরে ঢাকায় তার জন্য বরাদ্দকৃত ‘সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর বাসভবন’-এর দুটি কক্ষে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া দরিদ্র মানুষদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। মৌলভীবাজারের অনেক রিকশাচালক বা তাদের পরিবারের কোনো সদস্যের, কিংবা অনেক ভিক্ষুক বা তাদের পরিবারের কোনো সদস্যের জটিল চিকিৎসা তিনি নিজ খরচে ঢাকায় নিয়ে করাতেন। তিনি যেদিন সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন সে দিনও তার ঢাকার বাসায় (মন্ত্রীর বাসভবন) ২/৩ জন চিকিৎসাধীন হতদরিদ্র মানুষ বাস করছিলেন। গরিব মানুষের চিকিৎসা, মেয়ের বিয়ের খরচ ইত্যাদি বহন করতে গিয়ে তিনি ব্যাংক থেকে বিভিন্ন সময় ঋণ গ্রহণ করেছিলেন। ব্যাংক ঋণ পরিশোধের জন্য মন্ত্রী হয়েও মৌলভীবাজার জেলা শহরের পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত একটি জমি বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন। মহসিন আলী এমপি-মন্ত্রী সবই ছিলেন, কিন্তু কখনো টাকার লোভ করেননি। বরং মন্ত্রী হয়ে পৈতৃক জমি বিক্রি করে দেন। তার জীবন উৎসর্গ করে দেন অসহায় গরিব মানুষের জন্য।
অতিরিক্ত জনপ্রিয়তার যেমন বিভ্রাট থাকে, তেমনি সমাজের কিছু মানুষ তার কঠোর সমালোচক ছিলেন। তিনি যেহেতু মানুষ, তাই তার সামান্য ত্রæটি বিচ্যুতিও ছিল। সিলেট বিভাগীয় শহরে মন্ত্রীর এক সভায় কয়েকজন সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করে অহেতুক বিব্রত করেন, যা তখন দেশের গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার পায়। যারা ব্যক্তি মহসিন আলীকে জানতেন না, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাংবাদিকরা এ ঘটনার জন্য মন্ত্রী মহসিন আলীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিতে থাকেন। কিন্তু মৌলভীবাজারের সাংবাদিকরা মহসিন আলীকে জানতেন বলে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি। সমালোচকদের সমালোচনায় তিনি কষ্ট পেতেন কি না, অনেকবার সে প্রশ্ন করেও জবাব পাইনি, এ প্রসঙ্গ তিনি এড়িয়ে যেতেন সবসময়। একটা বিষয় অবশ্যই উল্লেখ করা প্রয়োজন। আমাদের সমাজে জ্ঞানী গুণী মানুষ, যারা সমাজকে অনেক কিছু দিয়ে গেছেন, প্রতিদানে সমাজ তাদের কিছু দেয়নি। এক্ষেত্রে আমার বিবেচনায় মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী ব্যতিক্রম। সৈয়দ মহসিন আলী সমাজকে যা দিয়ে গেছেন, এই সমাজ তাকে তার প্রতিদান দিতে ভুল করেনি। এই সমাজের মানুষ তাকে একাধিকবার পৌর চেয়ারম্যান ও সাংসদ বানিয়েছে। সরকার তার মতো তৃণমূল থেকে বেড়ে ওঠা, মফস্বলে বাস করা ব্যক্তিকে মন্ত্রী বানিয়েছেন, যা অকল্পনীয়। তার প্রয়াণের পর ২০১৭ সালে রাষ্ট্র তাকে সর্বোচ্চ সম্মান স্বাধীনতা পদকে (মরণোত্তর) ভূষিত করে। এই অবক্ষয়ের সময়ে সৈয়দ মহসিন আলীর মতো আরেকটা মানুষ পাওয়া যাবে কি না সন্দেহ। সৈয়দ মহসিন আলীর ৭ম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করছি।

রজত কান্তি গোস্বামী : অধ্যক্ষ, রাজনগর সরকারি কলেজ, মৌলভীবাজার।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়