হঠাৎ ‘হিজরত’ আর ‘বিদেশি পোশাক’ নিয়ে নেপথ্যের রহস্য কী?

আগের সংবাদ

দুই সংকটে তৈরি পোশাক খাত

পরের সংবাদ

সাম্প্রদায়িক সহিংসতা : বিচার প্রক্রিয়ার গতি বাড়াতে হবে

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২২ , ১:৪১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২২ , ১:৪১ পূর্বাহ্ণ

সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও সংখ্যালঘু নির্যাতন এ দেশে নতুন কোনো ঘটনা নয়। সংখ্যালঘুদের ওপর একের পর এক নির্যাতন ও নিপীড়ন চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে বরাবরের মতো এসব ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আশ্বাস দেয়া হলেও অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ায় ন্যক্কারজনক এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখতে হচ্ছে। এছাড়া ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে দেশে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনাও প্রায়ই ঘটছে। ২০১২ সালে কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধদের বাড়িঘর ও বৌদ্ধবিহারে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। ২০১৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালানো হয়। গত বছর মার্চ মাসে সুনামগঞ্জেও এমন ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ গত ২৫ আগস্ট মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় একটি মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাগুলো দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। দোষীদের আইনের আওতায় আনতে না পারা উদ্বেগজনক। গতকাল ভোরের কাগজে প্রকাশ, শুধু চট্টগ্রামে গত এক বছরে সাম্প্রদায়িক হামলার ২০টির বেশি মামলা হলেও একটিরও বিচার কাজ শুরু হয়নি। বিচার প্রক্রিয়ার এই শ্লথগতি মোটেও কাম্য নয়। আমরা দেখেছি, হামলার ঘটনার পরপর তাৎক্ষণিকভাবে তোড়জোড় দেখা গেলেও দিনে দিনে তা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। তদন্ত প্রক্রিয়ায় দুর্বলতা, ভয়ভীতির কারণে সাক্ষীদের অনাগ্রহসহ নানা কারণে বছরের পর বছর এসব মামলার বিচার প্রক্রিয়া থমকে থাকে। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা বেড়েই চলেছে। অপরাধীদের বিচার না হওয়ার দায় প্রশাসন কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। গত বছর হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার সময় যেভাবে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, তাতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। হামলার শিকার ভুক্তভোগীরা পুনরায় হামলার ভয়ে এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে মামলা করতে ভয় পান। হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলা। দেশের সাধারণ মানুষের জীবনে উন্নতি ঘটেছে; সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এসবকেই ধ্বংস করতে চায় মৌলবাদী জনগোষ্ঠী। আসলে মুসলিমদের সঙ্গে হিন্দু ও বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে ফায়দা লুটছে কেউ কেউ। সত্যি সত্যি ধর্মের অবমাননা হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে না অথবা হলেও প্রকৃত অপরাধীর পরিবর্তে টার্গেট হয়ে পড়ছে সামগ্রিকভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। এ প্রবণতা বিপজ্জনক। এ ধরনের সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্পকে প্রতিহত না করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের শৈথিল্য এবং বিচারের দীর্ঘসূত্রতার দায় রয়েছে। সংখ্যালঘু নির্যাতনের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতির প্রয়োগ না থাকা, আইনের সঠিক প্রয়োগ না হওয়া এবং আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে অপরাধীরা জামিনে বেরিয়ে যাওয়ার কারণে এমন ঘটনা বারবার ঘটছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে না পারলে বাংলাদেশে মিলেমিশে বসবাসের যে সংস্কৃতি তা বাধাগ্রস্ত হবে এবং মানুষের জীবনযাপনের স্বাভাবিকতা হারাবে। আমরা চাই রামু, নাসিরনগর, মালোপাড়া, সাঁওতালপল্লি, মানিকগঞ্জ ও চট্টগ্রামের ঘটনার মামলাগুলো গতি পাক। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে অবিলম্বে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। ১ অক্টোবর থেকে দেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। গত বছর দুর্গাপূজার সময় দেশে ব্যাপক সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে আসন্ন পূজায় এবার প্রতিটি পূজামণ্ডপ ও আশপাশে সিসি ক্যামেরা লাগানোর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি সতর্কতার বিকল্প নেই। পূজা যেন শঙ্কাহীন হয় সে বিষয়ে সরকার ও প্রশাসনকে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়