বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়েতে গণডাকাতি: ধাওয়া খেয়ে ডাকাতের মৃত্যু

আগের সংবাদ

পতন ঠেকাল ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও প্রকৌশল খাত

পরের সংবাদ

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন: সরকারি ব্যাংকে রেমিট্যান্সে ভাটা

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২২ , ৯:০৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২২ , ৯:০৬ পূর্বাহ্ণ

চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম আটদিনে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে ৫৯ কোটি ৫৯ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগের এক প্রতিবেদন থেকে গতকাল (১২ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী প্রবাসী আয়ের ৫৯ কোটির মধ্যে সরকারি ব্যাংকে মাত্র ৯ কোটি ডলার! বাকি ৫০ কোটি ডলারের বেশি আয় এসেছে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে।

সম্প্রতি সরকারি ব্যাংকের চেয়ে বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে বেশি প্রবাসী আয় আসার প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এই ৮ দিনে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছে ৯ কোটি ডলারের মতো। গত আগস্ট মাসে দেশে প্রবাসী আয় এসেছিল ২০৩ কোটি ৭৮ লাখ মার্কিন ডলার। তার আগে জুলাই মাসে এসেছিল ২০৯ কোটি ৬৩ লাখ ডলার। দেশে ডলার-সংকট কাটাতে এখন বিদেশ থেকে যে কোনো পরিমাণ আয় পাঠাতে আর নথিপত্র লাগছে না। আবার প্রবাসী আয়ের ওপর আড়াই শতাংশ হারে প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে।

জুলাই মাসে পবিত্র ঈদুল আজহার কারণে দেশে বিপুল পরিমাণ প্রবাসী আয় এসেছিল। আগস্ট মাসে দেশে বড় উৎসব ছিল না, তা সত্ত্বেও সেই সময় প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যায়। চলতি বছরের প্রথম আট মাসের মধ্যে যে তিন মাস প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ২০০ কোটি ডলারের বেশি ছিল, তার মধ্যে আগস্টও একটি। এর বাইরে গত এপ্রিল ও জুলাই মাসে ২০০ কোটি ডলারের বেশি প্রবাসী আয় এসেছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, হঠাৎ বেসরকারি খাতের অনেক ব্যাংক সরকারি ব্যাংকগুলোর চেয়ে বেশি প্রবাসী আয় আনছে। কারণ এসব ব্যাংক বেশি দামে বিদেশ থেকে ডলার কিনছে। এসব ব্যাংকের দ্বারস্থ হচ্ছেন প্রবাসীরাও। এদিকে নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এখন থেকে প্রতি ডলার সর্বোচ্চ ১০৮ টাকা হিসেবে প্রবাসী আয় রমিট্যান্স সংগ্রহ করতে পারবে। গতকাল সোমবার থেকে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ণ হয়েছে।

রেমিট্যান্স পাঠাতে কাগজপত্রের বাধ্যবাধকতা তুলে দেয়ার পাশাপাশি গত ২ জুলাই এক দিনে যে কোনো অঙ্কের অর্থ পাঠানোর সুযোগ দেয়া হয়। আর ব্যাংকগুলোকে বিদেশি মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করতে (ড্রইং এরেঞ্জমেন্ট) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদন নেয়ার বিধানও বাতিল করা হয়েছে। এরপর থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স আসা কিছুটা বাড়তে শুরু করে।

আর সরবরাহ সংকটে সম্প্রতি ডলারের দাম বাড়তে শুরু করে গত বছরের অগাস্ট থেকেই। সা¤প্রাতিক সময়ে যা দ্রুত বাড়ে। ব্যাংকিং চ্যানেলের পাশাপাশি খোলা বাজারেও ডলারের দাম বেড়ে ১২১ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। অন্যদিকে ব্যাংকগুলোর কাছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার বিক্রি করছে ৯৫ টাকায়। অন্যদিকে বিদেশি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ব্যাংকগুলো প্রতি ডলার ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত দরে কিনেছে।

ব্যাংক ও খোলা বাজারে ডলারের দর বাড়তি থাকায় প্রবাসীরাও আয়ের প্রায় পুরোটাই দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছেন স্থানীয় মুদ্রা টাকা বেশি পাওয়ায়। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা আশা করছেন, চলতি অর্থবছরের পুরোটা সময়ে রেমিট্যান্সে ইতিবাচক ধারা দেখা যাবে।

প্রণোদনা ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধির পরও ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে বড় পতন হয়। বিদায়ী অর্থবছরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বৈধ পথে ২ হাজার ১০৩ কোটি ডলার দেশে পাঠান, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৫ শতাংশ কম। এদিকে বৈধ পথে প্রবাসী আয় বাড়াতে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা ঘোষণা করে সরকার। কিন্তু গত বছরের শেষ দিকে টানা ৬ মাস রেমিট্যান্স প্রবাহ কমায় চলতি বছর থেকে এটি আরো বাড়িয়ে আড়াই শতাংশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ২ হাজার ১০৩ কোটি (২১ দশমিক ৩ বিলিয়ন) ডলার এসেছিল দেশে। যা গড়ে প্রতিদিন ৫ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। সবচেয়ে বেশি এসেছিল ২০২০-২১ অর্থবছরে। ওই অর্থবছরে ২ হাজার ৪৭৮ কোটি (২৪ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে যা প্রতিদিন গড়ে আসে ৬ কোটি ৭৯ ডলার। ২০২০ সালে বৈধ পথে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স আসে ২ হাজার ১৭৪ কোটি মার্কিন ডলার। ২০১৯ সালে আসে এক হাজার ৮৩৩ কোটি ডলার। এর আগে ২০১৮ সালে রেমিট্যান্স এসেছিল এক হাজার ৫৫৫ কোটি ডলার। ২০১৭ সালে এসেছিল ১ হাজার ৩৫৩ কোটি ডলার। ২০১৬ সালে ১ হাজার ৩৬১ কোটি ডলার। ২০১৫ সালে এসেছে ১ হাজার ৫৩১ কোটি ডলার। আর ২০১৪ সালে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল এক হাজার ৪৯২ কোটি ডলার।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়