বিশ্বে বায়ুদূষণ পরিস্থিতি হবে আরো খারাপ

আগের সংবাদ

ইউএস ওপেন: সেমিফাইনালে সোয়াটেক

পরের সংবাদ

বার্সা-বায়ার্নের জয়ের রাতে লিভারপুলের হোঁচট

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২২ , ৯:৪৮ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২২ , ৯:৪৮ পূর্বাহ্ণ

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ভিক্টোরিয়া প্লাজেনকে ৫-১ গোল ব্যবধানে হারিয়ে শুভসূচনা করেছে বার্সেলোনা। অন্যদিকে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতেছে জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব লিভারপুলের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ৪-১ গোলের জয় পেয়েছে ইতালিয়ান ক্লাব ন্যাপোলি।

ন্যু-ক্যাম্পে গত বুধবার রাতে আক্রমণের পসরা মেলে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে বার্সেলোনা। পুরো ম্যাচে ক্লাবটির দাপটের চিত্র মেলে পরিসংখ্যানেও। ৭৬ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য তারা শট নেয় মোট ২০টি, যার ১১টিই ছিল লক্ষ্যে। ভিক্টোরিয়ার ৮ শটের একটি লক্ষ্যে ছিল। ম্যাচের ১৩তম মিনিটে প্রথম গোলের দেখা পায় বার্সেলোনা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অভিষেক ম্যাচেই গোল পান ফ্রাঙ্ক কেসি। কর্নার থেকে উড়ে আসা ক্রসে কুন্দের হেড থেকে বাতাসে ভেসে থাকা বলে আবার হেড দিয়ে কাছের পোস্টে লক্ষ্যভেদ করেন এই ফুটবলার। ২৩তম মিনিটে বার্সেলোনার ডি-বক্সে তাদের ডিফেন্ডার আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেনের চ্যালেঞ্জে প্রতিপক্ষের একজন পড়ে গেলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। তবে ভিআরের সাহায্যে সিদ্ধান্ত পাল্টান তিনি। বার্সেলোনার জার্সিতে ম্যাচের ৩৪তম মিনিটে নিজের প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ গোল পান পোলিশ ফরোয়ার্ড রবার্ট লেভানদোভস্কি। সার্জিও রবার্তোর অ্যাসিস্ট থেকে প্রতিপক্ষের বক্সের ঠিক উপর থেকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে বার্সেলানাকে ২-০ গোলে এগিয়ে দেন তিনি। এই গোলে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা করিম বেনজেমাকে (৮৬) ছাড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় এককভাবে তিন নম্বরে জায়গা করে নিলেন লেভানদোভস্কি (৮৭)। ওপরে কেবল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (১৪০) ও লিওনেল মেসি (১২৫)। ৪৪তম মিনিটে ব্যবধান কমায় সফরকারীরা। বাঁ-দিক থেকে সতীর্থের ক্রসে হেডে গোলটি করেন চেক রিপাবলিকের মিডফিল্ডার ইয়ান সিকোরা। বিরতিতে যাওয়ার আগে অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে ডান পাশ থেকে দেম্বেলের দারুণ ক্রসে বাম পাশে ফাঁকায় থাকা লেভানদোভস্কির মাথায় ছুঁয়ে বল ঢুকে যায় ভিক্টোরিয়ার জালে। ম্যাচে যেটা লেভার দ্বিতীয় গোল, আর বার্সেলোনা এগিয়ে যায় ৩-১ গোলে। ৬৮তম মিনিটে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন লেভানদোভস্কি। বদলি হিসেবে নামা তোরেসের ছোট পাস পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের গড়ানো শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এর আগে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে একবার ও বায়ার্নের জার্সিতে চারবার হ্যাটট্রিক করেছিলেন লেভা। বার্সেলোনা এগিয়ে যায় ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে। ৭১তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দলকে বড় জয়ের পথে এগিয়ে নেন তোরেস। দেম্বেলের ক্রসে বক্সে প্রথম স্পর্শে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ২২ বছর বয়সি স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। ম্যাচের বাকি সময়ে গোলের সুযোগ তৈরি হলেও কোন দলই আর লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। ফলে ৫-১ গোলের বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অন্য ম্যাচে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতেছে জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ। সান সিরোয় গত বুধবার রাতের ম্যাচে ৫৬ শতাংশ বল দখলে রেখে মোট ২১টি শট নেয় বায়ার্ন। এর মধ্যে ১১টিই ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে ৯ শটের মাত্র ২টি লক্ষ্যে রাখতে পারে ইন্টার। গতিময় ফুটবলে প্রথম ছয় মিনিটে উভয়পক্ষ দুটি ভালো আক্রমণ করে। তৃতীয় মিনিটে জসুয়া কিমিখের শট ইন্টার গোলরক্ষক ফেরানোর তিন মিনিট পর প্রতি-আক্রমণে লাউতারো মার্তিনেসের কোনাকুনি শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ম্যাচের ২৫ মিনিটে লেরয় সানের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে এগিয়ে যায় বায়ার্ন। কিমিখের উঁচু করে বাড়ানো দারুণ থ্রæ বল বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন সানে। গোলরক্ষক এগিয়ে এলে তাকে ঠাণ্ডা মাথায় কাটিয়ে ফাঁকা জালে বল পাঠান জার্মান উইঙ্গার (১-০)। ৬৬তম মিনিটে আত্মঘাতী গোল করে বসে ইন্টার। এর পেছনের পুরো কৃতিত্ব সানের। দারুণ নৈপুণ্যে বক্সে মানের সঙ্গে দুইবার ওয়ান-টু খেলে কোনাকুনি শট নেন সানে। ঠেকাতে গিয়ে উল্টো বল জালে পাঠান ইতালিয়ান ডিফেন্ডার দানিলো দি’আমব্রোসিও।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের আরেক ম্যাচে লিভারপুলের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ৪-১ গোলের জয় পেয়েছে ইতালিয়ান ক্লাব ন্যাপোলি। দিয়েগো আরমান্দো মারাদোনা স্টেডিয়ামে নাপোলির শুরুটা হয় দুর্দান্ত।

পঞ্চম মিনিটে সফল স্পট কিকে দলকে এগিয়ে নেন পিওতর জিলিনস্কি। জেমস মিলনারের হ্যান্ডবলের জন্য পেনাল্টি দেন রেফারি। ম্যাচের ৩১ মিনিটে ব্যবধান ২-০ করেন আন্দ্রে ফ্রাঙ্ক জাম্বো আনগিসা। জিলিনস্কির সঙ্গে ওয়ান অন ওয়ান খেলে জাল খুঁজে নেন ক্যামেরুনের এই মিডফিল্ডার। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে (৪৪ মিনিট) ব্যবধান ৩-০ করেন অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ কোচ ডিয়েগো সিমিওনের ছেলে জিওভান্নি সিমিওনে। দ্বিতীয়ার্ধের দ্বিতীয় মিনিটে ব্যবধান ৪-০ করেন জিলিনস্কি। তার প্রথম শট আলিসন ফিরিয়ে দিলেও দ্বিতীয় প্রচেষ্টা রুখতে পারেননি ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক। ৪৯তম মিনিটে অনেকটা খেলার ধারার বিপরীতে ব্যবধান কমান লুইস দিয়াস। ডি-বক্সের বাইরে থেকে বাঁকানো শটে দূরের পোস্ট ঘেঁষে বল ঠিকানায় পাঠান কলম্বিয়ান এই ফরোয়ার্ড।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়