তিস্তা নদী নিয়ে অপেক্ষার প্রহর কবে শেষ হবে রাশেদুজ্জামান রাশেদ

আগের সংবাদ

ভারতীয় ব্যবসায়ীদের পাশে পেল বাংলাদেশ

পরের সংবাদ

ভারতের সঙ্গে সাত সমঝোতা চুক্তি সই : অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধান হোক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২২ , ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২২ , ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ ও ভারত আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একমত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত মঙ্গলবার নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক আগামী দিনে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। এ সম্পর্ক আরো এগিয়ে নিতে দুই প্রধানমন্ত্রীর সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়েছে বলে মনে করি। বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন এসেছে। গত ১০ বছরেরও বেশি সময়ে দুদেশের মধ্যে বহুল প্রত্যাশিত বিভিন্ন চুক্তির ফলে সম্পর্কের উচ্চতা ক্রমাগত বেড়েছে। ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধান, নতুন আরো চুক্তি স্বাক্ষরসহ ঢাকা-দিল্লির ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আমরা প্রত্যাশা রাখছি। দুই শীর্ষ নেতা দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বিষয়ে আলোচনার সময় ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে নতুন পথনকশা তৈরিতে জোর দেন। বিশেষ করে গত ৫০ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে অংশীদারিত্ব নতুন স্তরে নেয়ার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে উঠে আসে বৈঠকে। দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতি দেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। তার আগে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাতটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। দুদেশের মধ্যে একটি সমস্যা অমীমাংসিত রয়ে গেছে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে। খুব স্বাভাবিকভাবেই তিস্তা নদীর পানিবণ্টন নিয়ে প্রশ্ন আসে। ভারতের চাওয়াগুলোর বেশির ভাগ পূরণ হলেও বাংলাদেশের কিছু অপ্রাপ্তি রয়ে গেছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পানির গুরুত্বপূর্ণ উৎস তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তির অনিশ্চয়তা দূর হয়নি। এক দীর্ঘসূত্রতার পাকে পড়ে গেছে এটি। আন্তর্জাতিক নদী হিসেবে ন্যায্য হিস্যা পাওয়ার অধিকার থাকলেও শুকনো মৌসুমে তিস্তার পুরো পানিই ব্যবহার করছে ভারত। তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তিসহ ভারত ও বাংলাদেশের অন্যান্য অমীমাংসিত বিষয়গুলোর দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি নদী প্রবাহিত হয় এবং উভয় দেশের মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে এসব নদী যুক্ত। আমরা কুশিয়ারা নদীর পানিবণ্টন-সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছি। দ্রুত আমরা তিস্তার জটও খুলতে পারব। আমরা আশাবাদী মোদির বক্তব্যে। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ এবং কূটনীতিকরা। ভারতের সহযোগিতা আমাদের প্রয়োজন। তবে এ ক্ষেত্রে উভয় দেশের নেতৃত্বেরই সদিচ্ছা থাকতে হবে। ছিটমহল সমস্যা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতামূলক চুক্তির প্রেক্ষাপটে দুদেশের জনগণের প্রত্যাশা, তিস্তা চুক্তি সম্পাদনসহ অমীমাংসিত অন্য বিষয়গুলোরও দ্রুত সমাধান হবে। পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে দেশ দুটির মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট থাকুক। দুদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক তথা সব ধরনের যোগাযোগ ও সহযোগিতা ক্রমেই জোরদার হোক- এমন প্রত্যাশা করছি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়