বর্ণিল সাংস্কৃতিক উৎসবের পর্দা উঠল শিল্পকলায়

আগের সংবাদ

সড়কে দুর্ঘটনার নতুন উপদ্রব ‘মোটরসাইকেল’

পরের সংবাদ

তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়নের পথে একমাত্র বাধা মমতা

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২২ , ১০:১৪ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২২ , ১০:১৪ অপরাহ্ণ

অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন সমস্যা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অনেক পুরনো সমস্যাগুলোর মধ্যে একটি। দেশ দুটির মধ্যে ১৯৯৬ সালে একমাত্র গঙ্গা নদীর পানির বণ্টনের চুক্তি সই হয়েছিল। তবে তিস্তাসহ আলোচনায় থাকা ৮টি নদীর পানি ভাগাভাগির ব্যাপারে আজ অবধি কোনো সুরাহা হয়নি।

বাংলাদেশ এবং ভারতের দীর্ঘমেয়াদী অমিমাংসিত এই ইস্যু এবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে উঠে এসেছে।

এদিকে মানি কন্ট্রোল পোর্টালে তিস্তা চুক্তি নিয়ে এক বিশ্লেষণধর্মী মতামত প্রকাশ করেছেন প্রণয় শর্মা।

তার লেখনীতে তিনি বলেন, তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়নের পথে একমাত্র বাধা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। কারণ এই পদক্ষেপে কোনো রাজনৈতিক লাভ নেই।

মমতা যুক্তি দেখিয়ে বলেছিলেন, বছরের পর বছরে ধরে কমেছে তিস্তার পানির স্তর। যার কারণে বাংলাদেশকে পানি দেওয়া প্রকৃতপক্ষে সম্ভব হয়নি।

১৯৮৩ সালে ২৫তম জেআরসি’র বৈঠকে তিস্তার পানি বণ্টন বিষয়ে একটি এডহক চুক্তিতে দুই দেশ সম্মত হয়। এতে ২৫ শতাংশ অবণ্টন রেখে ৭৫ শতাংশ পানি বাংলাদেশ ৩৬, ভারত ৩৯ শতাংশ প্রাপ্তির বিষয়ে এই চুক্তি হয়। তবে এই বণ্টন কোথায় কী পদ্ধতিতে হবে তা বলা হয়নি।

প্রণয় শর্মার দাবি, এর সুযোগ নেয় ভারত। ভারত গজলডোবায় ১৯৮৭ সালে ব্যারেজ নির্মাণ করে ৯ লাখ ২৩ হাজার হেক্টর এলাকায় শুরু করে সেচ কাজ। ভারত নিজের ইচ্ছামত তিস্তার পানি প্রত্যাহার করতে থাকে বা করে যাচ্ছে। ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ লালমনিরহাটের দোয়ানিতে তিস্তা ব্যারেজ বা সেচ প্রকল্প চালু করলেও সেটি কোনো কাজে আসেনি।

২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরে তিস্তা চুক্তি হওয়ার কথা ছিল। তবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তির কারণে চুক্তি হয়নি।

এরপর ভারতের পক্ষ থেকে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশকে শুধু প্রতিশ্রুতিই দিয়ে আসা হচ্ছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের দ্বিতীয় দিন (৬ সেপ্টেম্বর) তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তিসহ ভারত ও বাংলাদেশের অন্য অমীমাংসিত বিষয়গুলোর দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, ‘ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং নিকটতম প্রতিবেশী। গত ৫০ বছরে একটি শক্তিশালী অংশীদারিত্ব তৈরির মাধ্যমে দুই দেশ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করছে’।

মঙ্গলবার দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউজে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি বছরের জুলাই মাসে মমতা ব্যানার্জিকে লেখা চিঠিতে সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লি সফরের সময় তাঁর সঙ্গে দেখা করার আশা প্রকাশ করেছিলেন।

১২ জুলাই লেখা ওই চিঠিতে তিনি বলেছিলেন, আমি আশা করি ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ভারত সফরের সময় আপনার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার চিঠিতে ‘দুই বাংলার’ ভাষা ও সংস্কৃতির অভিন্নতা এবং ‘আদর্শগত সম্পর্ক’ উল্লেখ করে বলেন, ‘বিদ্যমান সম্পর্ককে সুসংহত করতে একসঙ্গে কাজ করার বিকল্প নেই’।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ঢাকা সফর না করায় ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি ঝুলে রয়েছে। শেখ হাসিনার এবারের সফরে এই চুক্তি সই হতে হলে মমতাকে ভারতের প্রতিনিধিদলে থাকতে হবে।

জুলাইয়ে শেখ হাসিনা চিঠি পাঠালে এবারের সফরে মমতার সঙ্গে সাক্ষাৎ হতে পারে এবং আলোচনায় তিস্তা চুক্তি আসতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল।

সর্বশেষ ২০১৭ সালের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরের সময় মমতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। সে সময় মমতা ব্যানার্জি বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তার পানি বণ্টনের অসুবিধা ব্যাখ্যা করেছিলেন।

পশ্চিমবঙ্গ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবাহিত অন্যান্য ছোট নদীগুলোর পানি বণ্টন হতে পারে বলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা সে সময় শেখ হাসিনাকে জানিয়েছিলেন। দুই দেশের মধ্যে পানি বণ্টন নিয়ে সর্বশেষ চুক্তি হয়েছিল ১৯৯৬ সালে, যখন গঙ্গা নদী চুক্তি সই হয় ।

এদিকে নরেন্দ্র মোদি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে অভিন্ন নদী পানি বণ্টনের কথা উল্লেখ করলেও তিস্তা নিয়ে কোনো কথা বলেননি মোদি।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। যুগের পর যুগ এ নদীগুলো এখানকার মানুষের জীবিকার সঙ্গে সম্পর্কিত। এ নদীগুলো নিয়ে গল্প, লোকগীতি আমাদের অভিন্ন সংস্কৃতিরও সাক্ষী। আজ আমরা কুশিয়ারা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে একটি সমঝোতা করেছি। এতে ভারতের দক্ষিণ আসাম এবং বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চল উপকৃত হবে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহযোগিতা বাড়াতে আমরা আলোচনা করেছি। ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে পানিপ্রবাহের রিয়েল টাইম বা তাৎক্ষণিক তথ্য বিনিময় করে আসছে। বৈঠকে আমরা তথ্য বিনিময় বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছি’।

এমকে

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়