ঈশ্বরগঞ্জে দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ

আগের সংবাদ

অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়ি : জনভোগান্তি প্রশমনে গুরুত্ব দিতে হবে

পরের সংবাদ

ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে শ্রীলঙ্কা

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২২ , ১১:৪৬ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২২ , ১১:৫৩ অপরাহ্ণ

এশিয়া কাপে সুপার ফোরে টানা দুই ম্যাচ জিতে সবার আগে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে শ্রীলঙ্কা। দুবাইয়ে মঙ্গলবার ভারতের ১৭৩ রানের চ্যালেঞ্জের জবাবে খেলতে নেমে ১৯.৫ ওভারে ৪ উইকে হারিয়ে ১৭৪ রান সংগ্রহ করে দাসুন সানাকা বাহিনী। ফলে ৬ উইকেটে ম্যাচ জিতেছে নিশাঙ্কা- মেন্ডিসরা। লঙ্কান ব্যাটারদের মধ্যে পাথুম নিশাঙ্কা ৩৭ বলে ৫২, কুশল মেন্ডিস ৩৭ বলে ৫৭ রান করেন। এই দুই ওপেনার শ্রীলঙ্কার জয়ে অগ্রণী ভূমিক রাখেন। ভানুকা রাজাপাকসে ১৭ বলে ২৫ রান এবং দাসুন শানাকা ১৮ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে যুবেন্দ্র চাহাল ৩৪ রানে ৩ এবং রবিচন্দ্র অশি^ন ৩২ রানে ১ উইকেট লাভ করেন।

এর আগে সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচে আফগানদের ৪ উইকেটে হারায় সিংহলিজরা। ৯ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের বিপক্ষে সুপার ফোরের শেষ ম্যাচে মাঠে নামবে শ্রীলঙ্কা। বুধবার সুপার ফোরের চতুর্থ ম্যাচে আফগানিস্তান মোকাবিলা করবে পাকিস্তানের। এ ম্যাচে পাকিস্তান জিতলে তারাও শ্রীলঙ্কার মতো ফাইনাল নিশ্চিত করবে। হারলে অপেক্ষা বাড়বে। আফগানরা জিতলে তাদের ফাইনালের সম্ভাবনা তৈরি হবে। বৃহস্পতিবার সুপার ফোরের পঞ্চম ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হবে রোহিতরা। মঙ্গলবার শ্রীলঙ্কার দুই ওপেনার যেভাবে শুরু করেছিলেন তাতে ভারত পাত্তাই পাচ্ছিল না রোহিতরা। ৯৭ রানের উদ্বোধনী জুটিতে সহজ জয়ের ভিত গড়ে দেন তারা। কিন্তু সেখান থেকে দারুণভাবে লড়াইয়ে ফিরেছে টিম ইন্ডিয়া। ১৩ রানের মধ্যে তুলে নিয়েছে ৪ উইকেট।

ভারতের ১৭৪ রানের জবাবে প্রথম দুই ওভারে দেখেশুনে শুরু করেন লঙ্কান দুই ওপেনার কুশল মেন্ডিস আর পাথুম নিশাঙ্কা। তোলেন মাত্র ৮ রান। তবে কিছুটা সেট হয়েই তাণ্ডব শুরু করেন তারা। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে শ্রীলঙ্কা বিনা উইকেটে তোলে ৫৭ রান। জুটিটা টিকেছে ১১ ওভার পর্যন্ত। ১২তম ওভারে ভারতীয় সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটান যুববেন্দ্র চাহাল। জোড়া উইকেট তুলে নেন ৪ বলের মধ্যে। মেন্ডিস-নিশাঙ্কার ৬৭ বলে ৯৭ রানের ঝোড়ে জুটিটি ভাঙে ওভারের প্রথম বলেই। ফিফটি হাঁকানোর পরই রিভার্স সুইপ করতে যান নিশাঙ্কা, ধরা পড়েন রোহিতের হাতে। ৩৭ বলে ৪ চার আর ২ ছক্কায় নিশাঙ্কা করেন ৫২।

এর দুই বল পর সুইপ করতে গিয়ে টপএজ হন নতুন ব্যাটার চারিথা আসালাঙ্কা (০)। বিনা উইকেট থেকে ৯৭ রানে ২ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। এরপর দানুশকা গুনাথিলাকাও সুবিধা করতে পারেননি। ৬ বল খেলে মাত্র ১ রান করে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের শিকার হন তিনি। পরের ওভারে চাহাল ফেরান সেট ব্যাটার কুশল মেন্ডিসকে। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে তিনি এলবিডব্লিউ করেন কুশলকে। ৩৭ বলে ৪ বাউন্ডারি আর ৩ ছক্কায় ৫৭ রানে সাজঘরে ফেরেন লঙ্কান ওপেনার।

এশিয়া কাপের সুপার ফোরের তৃতীয় ম্যাচে মঙ্গলবার দুবাইয়ে শ্রীলঙ্কাকে ১৭৪ রানের টার্গেট দিয়েছে ভারত। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে রোহিতরা সংগ্রহ করেছে ১৭৩ রান। ভারতের ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪১ বলে ৭২ রানের ইনিংস খেলেন অধিনায়ক রোহিত শর্মা। এছাড়া সূর্যকুমার যাদব ৩৪, কে এল রাহুল ৬, হার্দিক পান্ডিয়া ১৭,ঋষভ পন্ত ১৭, দীপক হুদা ৩ ও রবিচন্দ্র অশি^ন ১৫ রান করেন। লঙ্কানদের বোলারদের মধ্যে দিলশান মাধুশঙ্কা ৪ ওভারে ২৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। দাসুন শানাকা ২৬ রানে এবং চামিকা করুনারত্নে ২৭ রানে ২টি করে উইকেট লাভ করেন। মাহেশ থিকসেনা অপর উইকেট তুলে নেন।

এ ম্যাচ জিতলে ফাইনালে খেলার আশা বেঁচে থাকবে ভারতের। আর হেরে গেলে ফাইনাল খেলার সুযোগ অনেকাংশেই শেষ হয়ে যাবে রোহিত শর্মা বাহিনীর। অন্যদিকে ভারতকে হারাতে পারলে ফাইনালে খেলা অনেকটাই নিশ্চিত হবে যাবে শ্রীলঙ্কাার। এ ম্যাচে ভারতের একাদশে এসেছে একটি পরিবর্তন। রবি বিষ্ণুর বদলে একাদশে এসেছেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। শ্রীলঙ্কার মিডল অর্ডারে আছেন তিন বাঁহাতি, চারিথ আসালঙ্কা, দানুশকা গুনাথিলাকা আর দাসুন শানাকা। তিন বাঁহাতির বিপক্ষে ডানহাতি অফ স্পিনার খেলানোর কৌশলটা মূলত কাজে লাগায় ভারত। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার দলে নেই কোনো পরিবর্তন। আফগানিস্তানের বিপক্ষে যে একাদশ খেলিয়েছিল, সেই একাদশই মাঠে নামিয়েছে তারা।

এর আগে দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় শ্রীলঙ্কা। শানাকার এই সিদ্ধান্ত যথার্থ প্রমাণ করেন লঙ্কান বোলাররা। ১৩ রান তুলতেই ২ উইকেট হারায় ভারত। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে থিকশানার ঘূর্ণিতে এলবিডব্লিউ হন লোকেশ রাহুল (৬)। রিভিউ করেও তিনি রক্ষা করতে পারেননি নিজের উইকেটটা। পরের ওভারে দিলশান মাদুশাঙ্কার বলে আড়াআড়ি ব্যাটে খেলতে গিয়ে নিজের সর্বনাশ ডেকে আনেন কোহলি। তার করা লেন্থ বলটাকে মিড উইকেট দিয়ে আছড়ে ফেলতে চেয়েছিলেন বাউন্ডারিতে, তবে কোহলি পুরোপুরি মিস করেন বলটা। ফলে বল গিয়ে আঘাত হেনেছে স্টাম্পে। আগের দুই ম্যাচে ফিফটি করা কোহলি ফিরে গেছেন রানের খাতা খোলার আগেই। এরপর সূর্যকুমার যাদবের সঙ্গে রোহিতের জুটি ভারতকে এগিয়ে নেয়। নবম ওভারেই অবশ্য ফিরতে পারতেন রোহিত। ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার বলে এক্সট্রা কভারে হাঁকাতে গেলে বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্যাচ নিতে যান শানাকা। কিন্তু এক হাতে বল পেলেও লঙ্কান অধিনায়ক কঠিন সে ক্যাচ রাখতে পারেননি। ব্যক্তিগত ৪১ রানে বেঁচে যান রোহিত। ৩২ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। ৪১ বলে ৭২ রান করে রোহিত আউট হলে দলীয় ১১০ রানে দুজনের জুটি ভাঙ্গে। দলের খাতায় ৯ রান যোগ করতেই সাজঘরে ফিরেন সূর্যকুমার।

এনজে

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়