দুই দেশের ব্যবসায়ীরা ‘সেপা’র অপেক্ষায়

আগের সংবাদ

কর্ণফুলী ইপিজেডে ৬০ লাখ ডলার বিনিয়োগ

পরের সংবাদ

রপ্তানি আয়ে উল্লম্ফন শীর্ষে পোশাক খাত

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২২ , ৬:০৮ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২২ , ৬:০৮ পূর্বাহ্ণ

দেশের রপ্তানি আয়ের পালে হাওয়া লেগেছে। সদ্য সমাপ্ত আগস্ট মাসে বিশ্ববাজারে পণ্য রপ্তানি করে ৪৬০ কোটি ৭০ লাখ (৪.৬০ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছেন বাংলাদেশ। যা গত বছরের আগস্টের চেয়ে ৩৬ দশমিক ১৮ শতাংশ বেশি। আর লক্ষ্যমাত্রার বেশি ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ। মূলত তৈরি পোশাক রপ্তানির ওপর ভর করেই গত অর্থবছরের মতো রপ্তানি আয়ে সুবাতাস বইছে। তবে বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতায় ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় আগামী ২-৩ মাসের মধ্যেই বিপরীত চিত্র দেখা যাবে বলে আশঙ্কা করছেন পোশাক মালিকরা।

গতকাল সোমবার প্রকাশিত রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে এসেছে ৭১১ কোটি ২৬ লাখ (৭.১১ বিলিয়ন) ডলার- যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৬ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। লক্ষ্যের চেয়ে বেশি আয় হয়েছে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ।

অর্থাৎ জুলাই-আগস্টে মোট রপ্তানি আয়ের ৮২ দশমিক ৭৮ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক থেকে। যার মধ্যে নিট পোশাক থেকে এসেছে ৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০ দশমিক ১৫ শতাংশ। লক্ষ্যের চেয়ে বেশি এসেছে প্রায় ৮ শতাংশ। ওভেন পোশাক থেকে এসেছে ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৪ দশমিক ২৩ শতাংশ। লক্ষ্যের চেয়ে বেশি আয় হয়েছে ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ। জুলাই-আগস্ট সময়ে পোশাক খাত থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা ছিল ৬ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার।

এ ব্যাপারে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের প্রতিষ্ঠান বিজিএমইর পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল ভোরের কাগজকে বলেন, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে দেশের অর্থনীতির জন্য স্বস্তির কারণ। দুই মাসে সার্বিক রপ্তানিতে ২৫ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এর মধ্যে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ২৬ শতাংশের বেশি। তবে বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আর্থিক খাতে সৃষ্ট অস্থিরতা রপ্তানিকে প্রভাবিত করছে। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি, পশ্চিমের বাজারে ভোক্তা চাহিদা হ্রাস রপ্তানিতে প্রতিফলিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, জুন থেকে আরএমজি রপ্তানি বৃদ্ধি হ্রাস পাচ্ছে। অতিরিক্ত ওভারস্টকের কারণে কিছু প্রধান ব্র্যান্ড স¤প্রতি তাদের অর্ডার ধরে রাখছে বলে আসন্ন মাসগুলো অন্ধকারাচ্ছন্ন দেখাচ্ছে। তাই আমরা আত্মতুষ্টির চেয়ে বেশি সতর্ক ও সজাগ হচ্ছি। ইপিবির তথ্য মতে, গত ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২২-২৩ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টে ৪৬০ কোটি ৭০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছেন দেশের রপ্তানিকারকরা। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৩০ কোটি ডলার। গত বছরের আগস্টে রপ্তানি হয়েছিল ৩৩৮ কোটি ৩১ লাখ ডলারের পণ্য। এ হিসাবেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ। আর প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৬ দশমিক ১৮ শতাংশ। জুলাই মাসে ৩৯৮ কোটি ৪৮ লাখ ২০ হাজার (প্রায় ৪ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রপ্তানি করছে বাংলাদেশ।

গত ২০২১-২২ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি করে ৫২ দশমিক শূন্য আট বিলিয়ন ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ। আগের অর্থবছরের (২০২০-২১) চেয়ে বেশি আয় হয়েছিল ৩৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫৮ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য ধরেছে সরকার। এই অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই-আগস্টে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স এসেছে ৪১৩ কোটি ৪০ লাখ (৪.১৩ বিলিয়ন) ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৩০ শতাংশ। এদিকে গত ২০২১-২২ অর্থবছরে সার্বিক রপ্তানিতে ৩৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে ছিল হতাশার চিত্র। আগের অর্থবছরের চেয়ে এ খাত থেকে ৩ শতাংশের মতো কম বিদেশি মুদ্রা দেশে এসেছিল।

কিন্তু চলতি অর্থবছরে পাট খাতও আশা দেখাচ্ছে। ইপিবির তথ্যে দেখা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি থেকে ১৫ কোটি ৬৬ লাখ ডলার দেশে এসেছে। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২২ দশমিক ৬৭ শতাংশ। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ কম এসেছে। জুলাই-আগস্ট সময়ে এই খাত থেকে আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ১৮ কোটি ১৪ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ১২ কোটি ৭৬ লাখ ডলার।

এছাড়া অন্য খাতের মধ্যে জুলাই-আগস্ট মাসে হোম টেক্সটাইল রপ্তানি থেকে ২৬ কোটি ৮৫ লাখ ২০ হাজার ডলার এসেছে; প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫৩ দশমিক ৪০ শতাংশ। ২২ কোটি ৩২ লাখ ৩০ হাজার ডলার এসেছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি থেকে, বেড়েছে ২৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

এছাড়া এই দুই মাসে স্পেশালাইজড টেক্সটাইল রপ্তানি থেকে ৩ কোটি ৯৩ লাখ ১০ হাজার ডলার, বাইসাইকেল থেকে ২ কোটি ৪৯ লাখ ২০ হাজার ডলার, ক্যাপ বা টুপি থেকে ৬ কোটি ৯৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার, প্লাস্ট্রিক পণ্য থেকে ৩ কোটি ৩৩ লাখ ৭০ হাজার ডলার এবং হ্যান্ডিক্যাফট রপ্তানি থেকে ৫২ লাখ ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। তবে জুলাই-আগস্ট সময়ে রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান খাত হিমায়িত মাছ ও কৃষিপণ্য থেকে রপ্তানি আয় কমেছে। ওষুধ রপ্তানি থেকেও আয় কমেছে।

এছাড়া হিমায়িত মাছ রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৮ কোটি ১৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার, কমেছে ৭ দশমিক ২১ শতাংশ। কৃষিপণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ১৭ কোটি ৮২ লাখ ২০ হাজার ডলার; কমেছে ১৪ শতাংশ। ওষুধ রপ্তানি থেকে ২ কোটি ৭৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার আয় হয়েছে। যা গত বছরের জুলাই-আগস্টের চেয়ে ২৫ শতাংশ কম।

এদিকে দেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের একাধিক উদ্যোক্তা জানিয়েছেন, রপ্তানির গতি আগামী মাস থেকে কমবে। করোনা থেকে উত্তরণের পর প্রচুর ক্রয়াদেশ ছিল। কিন্তু ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় আবার ক্রয় কমিয়ে দেয় ভোক্তারা। ফলে কমছে অর্ডার, যার প্রতিফলন আগামী দুই তিন মাসের মধ্যেই দেখা যাবে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. শহীদুল্লাহ আজিম বলেন, গত বছরের আগস্টে কোভিডের কারণে কিছু বিধিনিষেধ ছিল, যার কারণে রপ্তানির পরিমাণ ছিল কম। এ কারণে ইয়ার-অন-ইয়ার রপ্তানি প্রবৃদ্ধির হার বেশি দেখা যাচ্ছে। কিন্তু যদি মাস হিসেব করা হয় তাহলে জুলাইয়ের তুলনায় রপ্তানির পরিমাণ কমেছে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে অর্ডার কমতে শুরু করেছে। এর প্রভাব দেখা যাবে আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়