‘বাংলার জয়ে’ বেঁচে থাকবেন কিংবদন্তি গাজী মাজহারুল

আগের সংবাদ

পানিবণ্টনে ভারতকে আরো উদার হওয়ার আহ্বান

পরের সংবাদ

বন্ধুত্ব সুসংহত করার প্রত্যয়

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২২ , ৬:০২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২২ , ৬:০২ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশে চীনা বলয় ঠেকাতে চায় দিল্লি > পানিসহ সীমান্ত সুরক্ষায় সমাধান চায় ঢাকা

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, অভিন্ন নদ-নদীর পানি ভাগাভাগি, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ-জ্বালানি, সীমান্ত সুরক্ষা, জনযোগাযোগ ও আঞ্চলিক সম্পর্ককে প্রাধান্য দিয়ে আজ সোমবার থেকে চারদিনের ভারত সফর শুরু করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সফরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি ও বিদ্যমান গতিশীল সম্পর্ককে আরো সুসংহত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে দুই দেশ। পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমঝোতা নতুন মাত্রায় যাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এই সফরে দুই দেশই উপকৃত হবে। পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঢাকা-দিল্লি একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে নানা পরিকল্পনা নেয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, সফরের দ্বিতীয় দিনে আগামীকাল মঙ্গলবার দুপুরে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একান্তে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওই বৈঠকে দুই নেতার মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, বাংলাদেশে চীনের বলয় ঠেকানো, কোয়াড, সংখ্যালঘু নির্যাতন, পানি ভাগাভাগি বিশেষ করে তিস্তা, সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে কথা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পরিবর্তিত ভূরাজনীতির প্রেক্ষাপট, চীন-তাইওয়ান-যুক্তরাষ্ট্র প্রসঙ্গও ঢুকে যতে পারে আলোচনায়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ। সংকট মোকাবিলায় ভারত থেকে জ্বালানি তেল আনার জন্য দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির কথা ভাবছে সরকার। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে রয়েছে সবুজ সংকেত। তবে ঠিক কী পরিমাণ বা কত দামে বাংলাদেশকে জ্বালানি দেবে দেশটি, সেটি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়াদিল্লি সফরে ভারতের কাছ থেকে এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

তবে দুই নেতার একান্ত আলোচনায় ঠিক কোনো বিষয় স্থান পেতে পারে তা নিয়ে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, প্রধানমন্ত্রী যখনই অন্য কোনো দেশের সরকার প্রধানের সঙ্গে আলাপ করেন, তখন মোটামুটিভাবে প্রত্যেক ক্ষেত্রে একান্ত আলোচনা হয়। ভারতের সঙ্গেও এটা হবে। দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বিষয়ের পাশাপাশি বহুপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, বহুপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনার বিষয়টি আমাদের এজেন্ডায় নেই। তবে ভারতের পক্ষ থেকে উত্থাপন করলে আলোচনা হবে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন দিল্লি সফরে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না বলে জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেছেন, বাংলাদেশের নির্বাচন অন্যকোনো দেশের রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকার প্রধানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়বস্তু নয়।

সফরের খুঁটিনাটি জানিয়ে গতকাল রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে বাংলাদেশের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন অনিষ্পন্ন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা অর্জন করা যাবে বলে প্রতীয়মান হয়। তিনি বলেন, এই সফরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ক গভীর হওয়াসহ সার্বিকভাবে এই সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে নতুন নতুন উদ্যোগ নেয়া হবে। এই সফর বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি ও বিদ্যমান গতিশীল সম্পর্ককে আরো সুসংহত করবে বলে আশা করা যায়। সফরের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে আব্দুল মোমেন বলেন, চলমান কোভিড মহামারি, ইউক্রেন সংকট এবং বিশ্বমন্দার প্রেক্ষাপটে এই সফর দুই দেশের পারস্পরিক সমঝোতা ও সাহায্যের মাধ্যমে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম বা নীতি নির্ধারণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে আজ সোমবার ভারতে রাষ্ট্রীয় সফরে যাবেন। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, রেলমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন।

বাণিজ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, পানিসহ অন্যান্য বিষয় এ সফরে বিশেষ গুরুত্ব পাবে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি যেমন- দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বাড়ানো, বিদ্যুৎ জ্বালানি খাতে সহযোগিতা, জনযোগাযোগ, অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন, নদীর অববাহিকাভিত্তিক পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, সীমান্ত সুরক্ষা, নিরাপত্তা সহযোগিতা, মাদক চোরাচালান ও মানবপাচার রোধ প্রভৃতি বেশি গুরুত্ব পাবে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সুসম্পর্ক বর্তমানে বিশেষ উচ্চতায় অবস্থান করছে বলেও জানান তিনি। ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরো বাড়াতে সফরে নানা উদ্যোগ নেয়া হতে পারে।

সাতটি চুক্তি : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবারের সফরে সাতটি চুক্তি নিয়ে কাজ চলছে এবং এ সংখ্যা বাড়তে পারে। আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চুক্তি বা সমঝোতা স্মারকগুলোর মধ্যে রয়েছে- পানি ব্যবস্থাপনা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, রেলওয়ে, আইন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রভৃতি ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্পর্কিত। অনুষ্ঠান শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এবারের সফরে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে যেসব ভারতীয় সেনাসদস্য শহীদ হয়েছেন বা আহত হয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যদের মাঝে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্টুডেন্ট স্কলারশিপ’ দেয়া হবে। উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক বা স্নাতকোত্তর এ দুটি পর্যায়ে স্কলারশিপ দেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী এ অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থেকে শহীদ ও আহত ভারতীয় সেনাসদস্যদের পরিবারের মাঝে এ স্কলারশিপ নিজ হাতে তুলে দেবেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে ভারতীয় সেনাসদস্যদের মহান আত্মত্যাগকে যথাযথ সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করা হবে। ড. মোমেন বলেন, আগামী ৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে একটি বিজনেস ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল ভারত সফর করবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারত ও বাংলাদেশের মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এই ইভেন্টে উপস্থিত থাকবেন। বিজনেস ইভেন্টের মাধ্যমে যেমন বাংলাদেশের ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের চিত্র ভারতীয় ব্যবসায়ীদের কাছে তুলে ধরা যাবে; তেমনি ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করা সম্ভব হবে।

ভারত থেকে জ্বালানি তেল কিনতে পারে বাংলাদেশ : ভারত থেকে জ্বালানি তেল কিনতে পারে বাংলাদেশ। এ মুহূর্তে তৃতীয় কোনো দেশের তেল ভারতের মাধ্যমে কেনার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে দেশটির সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাশিয়ার নয়, ভারতের তেল আমরা নিতে পারি। বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে নর্থইস্ট স্টেটের পথে একটা কানেক্টিভিটি পাইপ লাইনও করা হয়েছে। এটার বিষয়ে অনেক কিছু হতে পারে। তবে তৃতীয় কোনো দেশের তেল ভারতের মাধ্যমে কেনার কোনো পরিকল্পনা এ মুহূর্তে নেই। শাহরিয়ার আলম বলেন, ভারতের সঙ্গে এনার্জি, বিদ্যুৎ জ্বালানি, খাদ্য সহযোগিতার বিষয়ে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত বেশ কয়েক বছর আগে হয়েছে। ভারতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ আমরা নিয়ে আসছি এবং ভারতের একটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ প্রায় শেষের দিকে। এ বছরের কোনো একটা সময় উদ্বোধন হবে।

অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন নিয়ে সুখবর নেই : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে দুই দেশের অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন নিয়ে সুখবর নেই। বহুল আলোচিত তিস্তা চুক্তির বিষয়ে এবারো কোনো সুখবর নেই। অন্যান্য নদীর পানিবণ্টন নিয়েও তেমন সুখবর নেই বলে জানা গেছে। সফরকালে শুধু কুশিয়ারা নদীর পানিবণ্টন নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফর উপলক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকরা তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনে এই সফরকালে সুখবর আছে কী না জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সাংবাদিকদের প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে বলেন, ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন আপনারা সেটি দেখে নেবেন। এত বড় প্লাটফরমে এর বেশি বলা সম্ভব নয়। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে শাহরিয়ার আলম বলেন, নদী নিয়ে একটি আলোচনা হয়ে গেছে। যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) বৈঠক ইতোমধ্যে হয়ে গেছে। নদী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য জেআরসি-ই স্ট্রং প্লাটফর্ম। এ পর্যায়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, নদী বা সমুদ্রসীমা সবকিছুই আমরা ইতোমধ্যে ডায়ালাগের মাধ্যমে সমাধান করেছি। সামনেও তাই হবে। কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (সেপা) চুক্তি প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেপা চুক্তি বিশাল একটা বিষয়। আমরা এখনো সেরে উঠতে পারিনি।

বাংলাদেশে যৌথ সামরিক সরঞ্জাম তৈরির কারখানা করতে চায় ভারত : বাংলাদেশে যৌথ উদ্যোগে সামরিক সরঞ্জাম তৈরির কারখানা করতে চায় ভারত। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে চায় দিল্লি। একটি বিশেষ অর্থনৈতিক জোনে এ কারখানা করতে চায় দেশটি। সামরিক সহযোগিতা ও সরঞ্জাম সহায়তার বাইরে বাংলাদেশের কারখানায় উৎপাদিত সামরিক সরঞ্জাম ও যুদ্ধাস্ত্র নিজেরা আমদানি করবে ভারত। এর মাধ্যমে সামরিক সহযোগিতার বাইরে দুই দেশের বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতা কমাতে চায় দিল্লি।

যৌথ এই সহযোগিতা উদ্যোগে ভূমি থেকে আকাশে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, রাডার, মর্টার, হালকা যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার, টর্পেডো এবং সাঁজোয়া যানের মতো সরঞ্জাম তৈরি করতে চায় ভারত। একাধিক কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততাকে সামনে রেখে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন নয়াদিল্লি সফরের সময় ভারত যৌথ প্রতিরক্ষা উৎপাদনে একটি কাঠামো চুক্তির জন্য জোর দিচ্ছে। চীন সম্প্রতি কক্সবাজারের পেকুয়ায় একটি অতি-আধুনিক সাবমেরিন ঘাঁটি, বিএনএস শেখ হাসিনা নির্মাণসহ বেশ কয়েকটি মূল প্রতিরক্ষা প্রকল্প ত্বরান্বিত করা শুরু করেছে। দিল্লি মনে করে, ভারতীয় উপমহাদেশে চীন তার প্রভাব সম্প্রসারণের জন্য ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে দুটি সাবমেরিন দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, ভারতের প্রতিরক্ষা সচিব অজয় কুমার এবং বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের নেতৃত্বে চতুর্থ ভারত-বাংলাদেশ বার্ষিক প্রতিরক্ষা সংলাপের সময় একটি আপগ্রেডেড দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির গ্রাউন্ড ওয়ার্ক চূড়ান্ত করা হয়েছিল।

১১ আগস্ট নয়াদিল্লিতে লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে করা বৈঠকে যৌথ প্রতিরক্ষা উৎপাদনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বলা হয়, এটি প্রথমবারের মতো প্রতিরক্ষা হার্ডওয়্যার এবং সরঞ্জাম উৎপাদনে ভারত ও বাংলাদেশ হাত মেলাতে পারে। ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় দুই দেশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কাঠামোতে একটি এমওইউ স্বাক্ষর করেছিল, যা এ সফরের সময় আপগ্রেড করতে চায় দিল্লি। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রতিরক্ষা সামগ্রীর যৌথ উৎপাদন নিয়ে আলোচনাও এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সম্প্রতি ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারতীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের ক্ষেত্রে উভয় দেশেরই প্রতিরক্ষা বাণিজ্যসহ-উন্নয়ন এবং যৌথ উৎপাদন সহযোগিতার প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে।

এতে আরো বলা হয়, উভয় দেশের সশস্ত্র বাহিনী একাধিক ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং বর্ধিত সম্পৃক্ততা উভয় দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যতের জন্য একটি ইতিবাচক লক্ষণ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, সফরে ভারত থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

২০১৯ সালে এ-সংক্রান্ত চুক্তি করে বাংলাদেশ। সে অনুযায়ী সরঞ্জাম কিনতে ভারত ৫০ কোটি ডলার ঋণ দেবে। গত জুলাইয়ে ঢাকা সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন ভারতের সেনাপ্রধান। সাক্ষাতে সরঞ্জাম কেনার বিষয়টি উঠে আসে। সম্প্রতি বাংলাদেশের কর্মকর্তারাও ভারত গিয়ে সরঞ্জাম পরিদর্শন করে এসেছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়