সময়ের শুভ উদ্যোগ : তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী

আগের সংবাদ

পেসার আল আমিনের বিরুদ্ধে স্ত্রীর মামলা দায়ের

পরের সংবাদ

তাইওয়ান নিয়ে ঠেলাঠেলি উপমহাদেশের এক চীনে বিশ্বাস!

ড. এম এ মোমেন

সাবেক সরকারি চাকুরে, নন-ফিকশন ও কলাম লেখক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২২ , ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২২ , ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ

একটি পুরনো উপমহাদেশীয় কৌতুক দিয়ে শুরু করছি। পাকিস্তান ও ভারত উভয়েই নিজ অবস্থানের অনড় থাকায় কাশ্মির সমস্যার সমাধান সুদূরপরাহত হয়ে উঠেছে। কাশ্মিরের জনগণের চাওয়াটা কী তাও কোনো দেশই বিবেচনায় আনছে না। কাশ্মিরের কারণে দুই দেশেরই সামরিক বাজেটে ক্রমোস্ফিতি ঘটছে, মূলত কাশ্মিরকে কেন্দ্র করেই দুই দেশ জনগণকে উন্নততর জীবন থেকে বঞ্চিত রেখে পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দেখিয়েছে আমরাও পারি। শত্রæতা টিকিয়ে রাখতে উভয়েরই বাজেটে টানাটানি। এই অবস্থা থেকে রেহাই পেতে বিহারের মুখ্যমন্ত্রিত্বচ্যুত লালুপ্রসাদ যাদব প্রস্তাব করলেন তিনি পাকিস্তানের ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করে দেবেন। ভারত তাকে অনুমতি দিল। তিনি সামরিক প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হকের সঙ্গে এক দফা বৈঠক করে হাসিমুখে যখন বেরোলেন, সাংবাদিকরা ঘিরে ধরলেন। লালু বললেন, কেল্লা ফতে। নিগোসিয়েশন সাক্সেসফুল।
সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করলেন, আশ্চর্য! কীভাবে?
লালু : আমি বললাম, জম্মু-কাশ্মির আমাদের।
প্রেসিডেন্ট : প্রশ্নই আসে না, আমাদের।
লালু : বেশ দিয়ে দিলাম, আমাদের দরকার নেই। কিন্তু একটা শর্ত আছে।
প্রেসিডেন্ট : কোন শর্ত?
লালু : জম্মু-কাশ্মির নিলে সঙ্গে ফাও হিসেবে বিহারও নিতে হবে।
প্রেসিডেন্ট : প্রশ্নই আসে না, তাহলে আমাদের জম্মু-কাশ্মিরও চাই না।
সাংবাদিকরা হেসে উঠলেন। সমস্যাক্রান্ত বিহারভীতি পাকিস্তানকেও ভাবিয়েছে। নিলে বিপদে পড়বে।
তাইওয়ান দ্বীপের চারদিকে যুদ্ধ জাহাজ মোতায়েন করে বিশ্ববাণিজ্যের সাপ্লাই চেইন থেকে তাইওয়ানকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা অন্তত বর্তমান চীনের পক্ষে সম্ভব। কিন্তু তাতে চীনের বাণিজ্যিক ক্ষতি হবে অনেক। কারণ চীন ও তাইওয়ানের সম্পর্ক ভারত ও পাকিস্তানের মতো নয়। তাদের মধ্যে ঐতিহ্যগত পারস্পরিক নির্ভরতার বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তারপরও চীন যদি তাইওয়ানকে নিজের মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করে নেয় তার সহজ অর্থ দাঁড়াবে চীন একটি মহাসংকটকে আত্মীকরণ করল। তাইওয়ান তো উইঘুর মুসলমানদের আবাসনের অবস্থানে নেই যে ধমক শুনে, মার খেয়ে সয়ে নেবে, তাইওয়ান মার দিতেও পারবে এবং চীনের অসন্তুষ্ট ও তুলনামূলকভাবে পশ্চাদপদ প্রদেশগুলোতে সহজে বিদ্রোহ ও বিপ্লব রপ্তানিও করতে পারবে। কাজেই সেধে দিলেও ‘একচীন মানচিত্রে’ ঢুকে তাইওয়ান যে একটি কার্সিনোজেনিক (ক্যান্সারাক্রান্ত) টিউমারে পরিণত হয়ে উঠতে পারে সে হিসাব সব ধনতান্ত্রিক বৈশিষ্ট্য ধারণকারী ‘কমিউনিস্ট’ চীনের অবশ্যই থাকবে। কাজেই চীনকে সেধে তাইওয়ান দেয়া লালুর গল্পের বিহার সাধার মতো মনে হবে।
চীন-তাইওয়ান সংকট অব্যাহত থাকায় উভয় দেশই লাভবান হয়েছে, স্নায়ুযুদ্ধকালীন বাইপোলার ওয়ার্ল্ড এবং যুদ্ধোত্তর যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রিক ইউনিপোলার ওয়ার্ল্ড থেকে প্রাপ্য আদায় করে নিতে পেরেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র উভয় চীনের সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কথিত কমিউনিস্ট চীনের সখ্য চীনের জন্য বিশ্ববাণিজ্যের দরজা খুলে দিয়েছে এবং সহায়তার পরিণতি এতটাই বিপক্ষে গেছে যে চীনের আগ্রাসী বাণিজ্য যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকেই হটিয়ে দিয়েছে। মার্কিনিদের যত দেশপ্রেমই থাকুক একই ভোগ্যপণ্য যদি মেইড ইন চায়না হবার কারণে অর্ধেক দামে পাওয়া যায়, তারা মেইড ইন ইউএসএ পণ্য কোন দুঃখে কিনতে যাবে। একটি কটু কথাও না বলে, একটি বুলেটও খরচ না করে এত সফল বাণিজ্যিক সাম্রাজ্যবাদ বিস্তারের নজির চীন ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোনো দেশ সৃষ্টি করতে পারেনি। নীরবে, ঘুম না ভাঙিয়ে বাজার দখলের এই সংস্কৃতিটিই প্রকৃত চীনা সংস্কৃতি। এটি ঐতিহ্যগত, এটি কনফুসিয়ান দর্শনজাত; এটি মিথ্যে ও মেকি পাশ্চাত্য আস্ফালন নয়।
১৮৩৯ থেকে ১৯৪৯ ১১০ বছরে পৃথিবী অনেক এগিয়ে গেলেও এই সময়টিকে বলা যায় চীনের জন্য ‘সেঞ্চুরি অব হিউমিলিয়েশন’-অপমান ও অপদস্ততার শতক। পাশ্চাত্য শক্তি ও জাপানের পুনঃ পুনঃ হস্তক্ষেপ চীনের কিং রাজত্বের ভিত্তি নেড়ে দিয়েছিল। প্রথম ও দ্বিতীয় আফিম যুদ্ধে (১৮৩৯-১৮৪২) এবং (১৮৫৬-১৮৬৯) চীন পর্যদুস্ত হয়েছে, একাধিকবার জাপানের মাঞ্চুরিয়া আক্রমণ এবং দ্বিতীয় মহাযুদ্ধকালে মাঞ্চুরিয়া বিজয়, ভার্সাই চুক্তিতে চীনকে জাপানের হাতে হস্তান্তর (১৯১৯), তিব্বত ব্রিটিশ আগ্রাসন, ফ্রান্সের কাজে পরাজয় (১৮৮৪-১৮৮৫), বহু অসম চুক্তি ও শর্ত মেনে নেয়া- শেষ পর্যন্ত চীনকে একটি নিথর জাতিতে পরিণত করেছিল। বহু মার খাওয়া সেই চীনের কোনো প্রতিশোধ স্পৃহা থাকবে না মনে করা ঠিক হবে না।
চীন ও তাইওয়ানের জন্য কোন কোন পথ খোলা?
পথ খোলা মানে এই নয় যে চাইলেই হবে। বহু কাঠখড় পোড়াতে হবে। শেষ পর্যন্ত সেই খোলা পথে সাফল্য নাও আসতে পারে।
১. চলতি অবস্থা বা স্ট্যাটাস কুয়ো রিপাবলিক অব চায়না (আরওসি) এবং পিপলস রিপাবলিক অব চায়না (পিআরসি) বজায় রাখবে।
২. আরওসি কার্যত পৃথক (ডি ফ্যাক্টো সেপারেট) স্বশাসিত অস্তিত্ব হিসেবে টিকে থাকবে।
৩. ‘টু সিস্টেমস ফ্রেমওয়ার্ক’- দ্বৈত পদ্ধতির শাসন ব্যবস্থা মেনে নিয়ে আরওসি মেইনল্যান্ড পিআরসির অংশ হয়ে একই মানচিত্রে ঢুকে থাকে।
৪. আরওসি মেইনল্যান্ডের অংশ হয়ে একটি প্রদেশ হিসেবে একই আইনে শাসিত হবে।
৫. আনুষ্ঠানিকভাবে রিপাবলিক অব চায়নার বিলুপ্তি ঘটিয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম তাইওয়ান ঘোষণা ও প্রতিষ্ঠা করা।
৬. মেইনল্যান্ড চায়না-পিআরসিকে দখলে নিয়ে আরওসির অন্তর্ভুক্ত করে ফেলবে, চীন তাইওয়ান একই রাষ্ট্র বিপবলিক অব চায়না হয়ে যাবে।
অলৌকিক কিছু না ঘটলে ৬ নম্বর অপশনটির বাস্তবায়ন অসম্ভব। ৫ নম্বরটির বাস্তবায়নও কষ্টসাধ্য হবে কারণ তাইওয়ানের অভ্যন্তরেই স্বাধীনতাবিরোধী উল্লেখযোগ্য সংখ্য তাইওয়ানিজ/চাইনিজ রয়েছে।
সংক্ষেপে এভাবে বলা যায় আচরণগতভাবে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের মতো হলেও আইনগতভাবে তাইওয়ানের এই মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। দ্বিতীয়ত এই আইনি মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লড়াই ব্যর্থ হলে আচরণগত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব তাইওয়ান হারিয়ে ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং সব ন্যাটোভুক্ত দেশও যদি তাইওয়ানের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা তাইওয়ানের অবস্থাই বিপন্ন করে তুলবে। এই মুহূর্তে তাইওয়ান ঘিরে রাখা সমুদ্রের কৌশলগত অবস্থানগুলোতে সশস্ত্র জাপানি নৌবহর মহড়া দিয়ে বেড়াচ্ছে। চীনের ‘জিওপলিটিক্যাল মাসল ফ্রেক্সিং’- ভূরাজনৈতিক মাংসপেশি সঞ্চালন কেবল তাইওয়ান নয় আরো কিছু নিকটবর্তী প্রতিবেশী রাষ্ট্র দেখতে পাচ্ছে এবং অস্বস্তি বোধ করছে।
চীনের ঋণে নির্মিত শ্রীলঙ্কার মেগাপ্রকল্প হাম্বানটোটা সমুদ্রবন্দরে চীনের সামরিক জরিপ জাহাজ ইউয়ান ওয়াং ফাইভ ভারতের উদ্বেগ ও আপত্তি উপেক্ষা করে নোঙর করেছে। নবপ্রজন্মের স্পেস ট্রেকিং সামুদ্রিক জাহাজ এবং তার রাডারের ৭৫০ মাইল ব্যাসার্ধের এরিয়া কাভারেজ যুক্তিসঙ্গত কারণেই ভারতকে উদ্বিগ্ন করেছে। একই সঙ্গে আরো খবর প্রচারিত হয়েছে। হাম্বানটোটায় চীনা জরিপ জাহাজ উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারেনি। সতর্ক ভারতের যুক্তজাহাজে সংযুক্ত জ্যামার চীনা জাহাজের রাডার প্রযুক্তি সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে। চীন তো কিছু পায়ইনি বরং তাদের প্রযুক্তিগত তথ্য ভারতীয় রিসিভার ধারণ করে নিয়েছে। সুতরাং চীনের ওপর চাপ আরো বাড়ল।

আমার প্রথম চীনা এনকাউন্টার
সপ্তাহে সাড়ে সাঁইত্রিশ পাউন্ড ভাড়া মেনে নিয়ে সোয়ানসির সিঙ্গলটন পার্কের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি একরুম একোমোডেশনে উঠেছি। বাড়িতে এমন আটটি রুম। আমার দুই প্রতিবেশী লি এবং শি (দুজনেই চাইনিজ, তাদের নামের বাকি অংশ মনে নেই), প্রতি সন্ধ্যে বেলায় কিচেনেই দেখা হয়, তারা তাদের খাবার রান্না করে, আমি আমারটা। কিচেন লাগোয়া ডাইনিং স্পেস। আগ বাড়িয়ে কথা বলার বাঙালিসুলভ আচরণ আমি তখনো ছাড়তে পারিনি। সপ্তাহখানেক একথা সেকথা বলার পর আমার মনের ভেতরের একটি কথা বলেই ফেললাম : একাত্তরে আমরা যখন স্বাধীনতার লড়াই করছি তোমরা আমাদের সমর্থন করনি, করেছ পাকিস্তানি সামরিক সরকারকে। লি কিংবা শি কেউ একজন বলে ফেলল, ১৯৭১-এ আমি এত ছোট ছিলাম যে তোমাদের পক্ষে কিংবা বিপক্ষে লড়াই করা সম্ভব ছিল না। অন্যজন বলল, আমি একটু বড় হলেও পাকিস্তানের নামও শুনিনি। কিন্তু পরে বইপত্র পড়ে বেশ কিছুটা জেনেছি। সেটা ছিল পিংপং ডিপ্লোম্যাসির যুগ। কিসিঞ্জার চীন সফর করতে এসেছিলেন।
চুপচাপ অন্যজন হঠাৎ মুখ খুলল, বিশেষ কারণে চীনের পক্ষে যে কোনো দেশের ‘সেপারেটিস্ট ইন্ডিপেন্ডেট মুভমেন্ট’ সমর্থন করা তখন সম্ভব ছিল না, এখনো সম্ভব নয়।
আমি জিজ্ঞেস করি, সেটা কোন কারণ?
এক শব্দের উত্তর, তাইওয়ান।
অপরজন ব্যাখ্যা দিল, নিজেদের তাইওয়ানকে স্বাধীন হতে দিচ্ছে না, অথচ অন্য দেশের স্বাধীনতার জন্য ওকালতি করছে- এ নিয়ে চীনেই ভেতরেই অনেক সমালোচনা হতো। তাছাড়া তখন ‘ইউএসএ-চায়না এক্সিস’ গড়ে উঠছিল। যুক্তরাষ্ট্র তাইপেইকে ডাম্প করে পিকিংকে (বেইজিং) স্বীকৃতি দিয়েছে- এটা তখন আমাদের বড় অ্যাচিভমেন্ট। আর তাতে তোমরা কোনো সাহায্য করনি, করেছে পাকিস্তান, দ্য ওয়েস্ট ওয়ান। ’৭১-এ বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে চীনের সমর্থন না পাবার এই ‘তাইওয়ানিজ’ ব্যাখ্যা আগে কখনো শুনিনি, পড়িওনি। আমাদের রাতের খাবার যখন শেষ পর্যায়ে তাদের একজন বলল, চীনের জন্য এখনো তাইওয়ান জ¦লন্ত ইস্যু। তোমাদের এমন একটা তাইওয়ান থাকলে চীনের ভূমিকা ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করতে।
আমি বললাম, তোমরা তাইওয়ান ধরে রাখতে চাচ্ছ কেন?
দুজনই সমস্বরে বলল, কারণ তাইওয়ান আমাদেরই, এটা চীনের অংশ। পরদিন সকালে নাস্তার সময় অ্যান্থনি কেইনের লেখা ‘চায়না ব্রিফিং ১৯৯০’ নামের একটি বই উপহার দিয়ে বলল, ১৯৭১-এর অসহযোগিতার সামান্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে বইটা আমাকে উপহার দিচ্ছে। মুখে এটাও বলল, তোমরা তো তখন প্রো-ইন্ডিয়ান ছিলে, উই আর নট ইন গুড টার্মস উইথ ইন্ডিয়া’, তুমি দুই বিপরীত শক্তির কাছ থেকে একই রকম অভ্যর্থনা আশা করতে পার না।
আমি বললাম, আমাদের অর্ধেক বামপন্থি তো প্রো-চাইনিজ ছিল, মাও সে তুংয়ের লাল বই আমাদের হাতে হাতে ছিল, চৌ এন লাই তাদের বিট্রে করেছেন।

ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে বইটির পাতা উল্টাই, তাইওয়ান প্রসঙ্গ এতে পুরোপুরি উপেক্ষিত, কিন্তু একটি বড় অধ্যায়ের নাম ‘ওয়ান কান্ট্রি, টু সিস্টেমস : দ্য ফিউচার অব হংকং’ আরো একটি অধ্যায় ‘দ্য ড্রাগন এন্ড দ্য স্নো লায়ন : দ্য টিবেট (তিব্বত) কোয়েশেচন।
যাই হোক, বাংলাদেশ প্রশ্নে চীনের ভূমিকার একটি ভিন্নধর্মী জবাব পাই এবং তাদের বলি, চীন তো শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানকেও বিট্রে করেছে। বাংলাদেশে আটকা পড়া পাকিস্তানি সৈন্যদের বলা হয়েছিল সশস্ত্র চীন আসছে। চিন্তা নেই।
লি কিংবা শি বলল, চীন এমনই, আমরা অন্যের জন্য যুদ্ধে যাই না। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের মতো ভিয়েতনাম যুদ্ধ সৃষ্টি করি না।
আমাদের সেই নৈশভোজ ও নাস্তার কাহিনী ১৯৯২ সালের; তারপর ৩০ বছর পেরিয়ে গেছে, পৃথিবী অনেক বদলে গেছে আর চীনের বদলে যাওয়া গোটা পৃথিবীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।
লি কিংবা শি যে যুক্তিই দেখাক আমি যখন ১৯৭১-কে ফিরে দেখি সেখানে চীন আমাদের বন্ধু নয়, শত্রæর মিত্র। তারপরও এটাই সত্য ভূরাজনীতিতে স্থায়ী শত্রæ ও মিত্র নেই। শত্রæ ও মিত্রের অবস্থানের পরিবর্তন হামেশাই ঘটে থাকে। চীন আমাদের বন্ধু। ভারত একাত্তরের স্বাধীনতা সহায়ক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু, বন্ধুত্ব এখনো বহাল।
বাংলাদেশের জন্য এখনকার কৌশলটি হচ্ছে সম্পর্কের ভারসাম্য এবং লাভ-লোকসানের সঠিক হিসেবে।
তাইওয়ানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের উদ্যোগ নিয়ে ধমক খেয়ে বাংলাদেশ কিছুটা হলেও শিক্ষা পেয়েছে, সেই ইতিহাস মুছতে এখন আগ বাড়িয়ে বলতে হচ্ছে : আমরা এক চীনে বিশ্বাসী। মুখের কুলুপ ফেলে ভারতও বলছে এক চীনেই তাদের বিশ্বাস, আর পাকিস্তান তো মুখে বিশ্বাসের ফেনা তুলছে।

ড. এম এ মোমেন : সাবেক সরকারি চাকুরে, নন-ফিকশন ও কলাম লেখক।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়