হংকংকে লজ্জায় ডুবিয়ে সুপার ফোরে পাকিস্তান

আগের সংবাদ

সময়ের শুভ উদ্যোগ : তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী

পরের সংবাদ

ঝুমন দাশরা বারবার বলি হচ্ছে!

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২২ , ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২২ , ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ

বিনা বিচারে সাড়ে ছয় মাস ঝুমন দাশের মতো একজন নিরীহ মানুষ কারাভোগ করছেন। আবারো ফেসবুকে ধর্ম অবমাননাকর পোস্ট দিয়েছেন, এমন অভিযোগে গত মঙ্গলবার ১২ ঘণ্টার বেশি থানায় আটকে রাখার পর সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁওয়ের ঝুমন দাশ আপনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দিয়েছে পুলিশ। তার স্ত্রী সুইটি দাশ বলেন, ঝুমন ধর্ম অবমাননাকর কোনো পোস্ট দেননি। তাকে হয়রানি করতেই আবারো পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এমন ঘটনা অমানবিক। ঝুমন দাশ মামুনুল হকের ঘটনায় জেল থেকে মুক্তি পেয়ে বলেছিলেন, আমি কোনো ব্যক্তি বা ধর্মের বিরুদ্ধে কখনো লিখেছি, এটা কেউ দেখাতে পারবে না। আমি সব ধর্মকে সম্মান করি। আমি জেলে থাকার সময় আমার নামে ১৭টি ফেসবুক আইডি সচল ছিল। এসব তো আমি করিনি। আমার নাম ব্যবহার করে কেউ এসব করেছে। প্রশাসনকে এ বিষয়ে নজর দেয়া দরকার। নতুন পোস্টে সাম্প্রদায়িক উসকানির যে অভিযোগ আনা হয়েছে- সেটি আসলে কার আইডি? গত বছর ১৬ মার্চ ঝুমন দাশ ধর্ম ব্যবসায়ী মামুনুল গংয়ের সন্ত্রাস নৈরাজ্য নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। এর ফলে মামুনুলের উগ্রবাদী ভক্তরা হবিবপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে হামলার পরিকল্পনা করে, যা স্থানীয় পুলিশের আগে থেকেই জানা ছিল। সম্ভাব্য হামলা থেকে বাঁচতে গ্রামবাসীই ঝুমন দাশকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। আগাম সব তথ্য থাকার পরও হামলা ঠেকানোর ব্যবস্থা না নিলেও পুলিশ ঝুমন দাশকে প্রথমে ৫৪ ধারায় আটক দেখায়। তারপরও নোয়াগাঁও গ্রামের সংখ্যালঘুদের ঘর-বাড়িতে মামুনুলের ভক্তরা হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ করে। এ হামলার ঘটনায় প্রমাণিত হয় ঝুমন দাশের ফেসবুক পোস্ট সঠিক ছিল। তবুও পরবর্তীতে পুলিশই ঝুমন দাশের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে ৫ দিন পর। সাড়ে ছয় মাস জেল খেটে ওই বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি। ঝুমন দাশকে গ্রেপ্তারের পর থেকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে কথা উঠছে। ঝুমন দাশের মতো এমন ঘটনাগুলো প্রমাণ করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পুনর্বিবেচনার সময় এসেছে বলে আমরা মনে করি। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আইনের কয়েকটি ধারার অপপ্রয়োগ চলছে। যার অন্যতম নজির ঝুমন দাশ কিংবা লেখক মুশতাকের মৃত্যু। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি জাতীয় সংসদে ২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর পাস হয়। তখন সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন এবং মানবাধিকার সংস্থা আশঙ্কা প্রকাশ করে যে, এই আইনের এমন কিছু ধারা আছে, যা বাকস্বাধীনতার জন্য হুমকিস্বরূপ। আইনের অপব্যবহারের আশঙ্কা ব্যক্ত করা হয় এবং ২৫ ও ২৯-সহ চিহ্নিত ধারাগুলো সংশোধনের দাবি জানানো হয়। সে সময় সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়, আইনের কোনো অপব্যবহার হবে না। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ঝুমন দাশের কী অপরাধ? বিনা অপরাধে তাকে জেল খাটতে হয়েছে। এর পেছনে জড়িতদের শাস্তির দাবি করছি। নতুন করে ঝুমন দাশের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এমতাবস্থায় তার পরিবারকে নিরাপত্তা দেয়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব। আমরা এটাও দাবি করছি ঝুমন দাশকে নিঃশর্তভাবে মুক্তি দেয়া হোক।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়