কবি হেলাল হাফিজ বারডেমে ভর্তি

আগের সংবাদ

অবৈধ ফার্মেসির লাগাম টানুন

পরের সংবাদ

টিআইবির জরিপ : সেবা খাতে দুর্নীতি রোধে সুশাসন ও স্বচ্ছতা দরকার

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২, ২০২২ , ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২, ২০২২ , ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ

দেশের সেবা খাত যেন দুর্নীতির আঁতুড়ঘর। শুধু দুর্নীতি নয়, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও অব্যবস্থাপনা যেন সরকারি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর নিয়মে পরিণত হয়েছে। সাধারণ নাগরিকদের সরকারি সেবা পেতে হলে অনাকাক্সিক্ষত প্রতিবন্ধকতার ভেতর দিয়েই যেতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণের পথ কী? দেশের সেবা খাতের দুর্নীতি ও ঘুষের সার্বিক চিত্র দেখতে জরিপ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তারা বলছে, সেবা পেতে দেশের ৭০.৯ শতাংশ খানা বা পরিবারকে দুর্নীতির শিকার হতে হয়েছে। আর ৪০.১ শতাংশ পরিবারকে সেবা পেতে ঘুষ দিতে হয়েছে। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে। পাসপোর্ট অধিদপ্তরে সেবা গ্রহণ করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছে নাগরিকরা প্রতিনিয়ত। দেখা গেছে, এসব সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নানাভাবে সেবাগ্রহীতাকে হয়রানি করেন। এ জরিপ হেলাফেলা করে দেখার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্টদের গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনায় নিতে হবে। টিআইবির বিশ্লেষণে দেখা যায়, সর্বোচ্চ দুর্নীতিগ্রস্ত খাতটি হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা। এই সংস্থাগুলোর কাছ থেকে সেবা নিতে গিয়ে দুর্নীতির শিকার হয়েছে ৭৪.৪ শতাংশ পরিবার। আর ঘুষ দিতে হয়েছে ৫৫.৭ শতাংশ পরিবারকে। টাকার অঙ্কে তা গড়ে ছয় হাজার ৬৯৮। এই খাতে সেবা নিতে গিয়ে গ্রামাঞ্চলে ৫৮ শতাংশ খানাকে ঘুষ দিতে হয়েছে। শহরাঞ্চলে তা ৫৪.৬ শতাংশ। শহরে খানাপ্রতি ঘুষ দিতে হয়েছে সাত হাজার ১৭০ টাকা। গ্রামে পাঁচ হাজার ১৭৬ টাকা। ১১.৯ শতাংশ খানার মানুষ অসদাচরণের শিকার হয়েছেন। মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি পেয়েছেন ৫ শতাংশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুর্নীতিগ্রস্ত হওয়া রাষ্ট্রের আইনের শাসনের জন্য অশনিসংকেত। এর ফলে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ নাগরিক। মানুষ অনেক সময় হয়রানির আশঙ্কায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারস্ত হতে ভয় পায়। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে টিআইবি ১০টি সুপারিশও করেছে। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহি নেয়া, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) সক্রিয় ভূমিকা পালন করা, সব সেবা ডিজিটাইজ করা এবং ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করা, সেবা প্রদানকারীদের আচরণগত বিষয়গুলো জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রণয়ন ও কার্যকর করা, সেবাদানের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাগত মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে পুরস্কার ও শাস্তির ব্যবস্থা করা, দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শুদ্ধাচার পুরস্কার দেয়া বন্ধ করা এবং সব পর্যায়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছার কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা। তাদের প্রস্তাবগুলো প্রাসঙ্গিক মনে করছি। সর্বোপরি, সেবা খাতে দুর্নীতিরোধে স্বচ্ছতা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনতে হবে। দুর্নীতি ও অনিয়মের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নৈতিকভাবে তাদের নেতৃত্বের দায় এড়াতে পারেন না। এক্ষেত্রে তাদের জবাবদিহির কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। দুর্নীতি বন্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগের কোনো বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়