সকালের নিউজ ফ্ল্যাশ

আগের সংবাদ

ছাতক পরিদর্শনে বিভাগীয় কমিশনার

পরের সংবাদ

তৌফিক-ই-ইলাহী বললেন

রাশিয়ার তেলে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি নয়

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১, ২০২২ , ১১:০১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১, ২০২২ , ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেছেন, তেল, খাদ্যপণ্য ও সার আমদানির ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিধিনিষেধ নেই।

বুধবার প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সম্প্রতি আমি যুক্তরাষ্ট্র সফর করে এসেছি। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের আন্ডার সেক্রেটারি হোসে ফার্নান্দেজের সঙ্গে আলাপে আমার ওই ‘উপলব্ধি’ হয়েছে। আমি তার কথা ধরে বলছি, বাংলাদেশ রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করলে ওয়াশিংটনের আপত্তি থাকার কথা নয়। আমরা তেল আমদানি করতে পারব। এ সময় জ্বালানি সচিব মো. মাহবুব হোসেনসহ বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার ফলে সারা বিশ্বে সার, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও খাবারের দাম বেড়ে গেছে। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর পাশাপাশি ইউরোপ-আমেরিকাতেও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে নাভিশ্বাস উঠে গেছে সাধারণ মানুষের। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ রাশিয়া থেকে তেল আমদানির উপায় খুঁজে দেখছে। এরই মধ্যে অপরিশোধিত তেলের নমুনাও বাংলাদেশে পৌঁছেছে।

তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে সেখানকার আন্ডার সেক্রেটারি হোসে ডাব্লিউ ফার্নান্দেজের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। বৈঠককালে তিনি আমাকে জানিয়েছেন, বিশ্বের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে সার, খাদ্যপণ্য ও জ্বালানির ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্যাংশন দেয়নি। এর অর্থ পজেটিভলি নিয়ে বলতে পারি, আমাদের রাশিয়া বা অন্যান্য দেশ থেকে জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়ে ওয়াশিংটনের আপত্তি থাকার কথা নয়। এক্ষেত্রে কিছু কূটনৈতিক শিষ্টাচার (ডিপ্লোমেটিক নর্মস) থাকে। কিন্তু সরলভাবে আমি যেটা বুঝি, একজন মন্ত্রী পর্যায়ের লোক যখন এটা বলল, তার একটি গুরুত্ব আছে।

জ্বালানির বাজার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজার এখন চরম অস্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। এই তেলের বাজার ভবিষ্যতে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, কত টাকা বাড়বে বা কমবে তা আল্লাহ ছাড়া কেউ বলতে পারবেন না। আবার রাশিয়া থেকে তেল আসলেই যে আমাদের জ্বালানি সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে- এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমে গেলে আমাদের কোনো সমস্যাই থাকত না। এতো সংকটের মধ্যে থেকেও এখন পর্যন্ত আমরা যেটা করতে পেরেছি, সেটাও কম না। দেশে ২০০৯ সালের তুলনায় এখন চার গুণ বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, একই সঙ্গে চাহিদাও বেড়েছে।

সেপ্টেম্বর মাসে বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরে না হলেও দুই-এক মাসের মধ্যে সংকট কাটবে। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনে আসতে কিছুটা সময় লাগবে। আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ আগামী বছরের আগে হবে না।

তেল-গ্যাস অনুসন্ধান প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, আমরা দেশের স্থলভাগে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছি। বাপেক্সের সহযোগিতা নিয়ে আমরা অনুসন্ধান কাজ চালাব। বাপেক্স ছাড়া আর কাউকে অনুসন্ধান কাজ করতে দিচ্ছি না। যদিও ভোলায় এই বিধিনিষেধের মধ্যেই গ্যাজপ্রমকে কাজ দেয়া হয়েছে। জ্বালানি সংকটের সমাধানের লক্ষ্যে আমরা দেশীয় জ্বালানির উৎপাদন বাড়াতে গত ৫ বছরে ৩৪টি কূপ খনন করেছি। গত বছরই আমরা চারটি কূপ খনন করেছি। বাংলাদেশে অনুসন্ধান হয়নি- এই যে কথা বলা হয় এটা ঠিক না। তবে আমরা আমাদের সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আইওসিকে কাজ দিচ্ছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত আশানুরূপ সারা পাচ্ছি না।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো প্রসঙ্গে তৌফিক-ই-ইলাহী বলেন, তেলের দাম না বাড়ালে ভর্তুকি দিতে হয়। এই ভর্তুকির টাকা তো বাজেট থেকেই দিতে হচ্ছে। এটা হলেও মূল্যস্ফীতি বাড়ে।

আইএমএফ ঋণের শর্ত প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরাও আইএমএফের শেয়ারহোল্ডার। তাই আমরা আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ নিতে পারি। তাছাড়া আগামী ৪-৫ মাসের খরচ চালানোর মতো টাকা আমাদের আছে।

জ্বালানি সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, আমাদের রিফাইনারির সক্ষমতা ১৫ লাখ মেট্রিক টন। এটাকে ৩০ লাখে উন্নীত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। পরামর্শক ফার্ম কাজ করছে। অল্প সময়ের মধ্যেই রিফাইনারি প্রস্তুত হবে। এছাড়া আমাদের জ্বালানি তেলের মজুদ ৪৫ দিনের রাখার মতো আমাদের সক্ষমতা রয়েছে। আমরা ৬০ দিনের মজুদ রাখার জন্য পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। রাশিয়া থেকে আসা স্যাম্পল তেল পরীক্ষাধীন রয়েছে। এখনো এ বিষয়ে কোনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়