কৌশল নির্ধারণে বিএনপি পিছিয়ে

আগের সংবাদ

ইসির পরিকল্পনায় দশ করণীয়

পরের সংবাদ

বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ : সাধারণ মানুষ সুফল পাবে তো?

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১, ২০২২ , ৭:০৩ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১, ২০২২ , ৭:০৩ পূর্বাহ্ণ

বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি নতুন নয়। বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে কারসাজি যেন আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকার নানাভাবে চেষ্টা করছে বাজার নিয়ন্ত্রণে। এ নিয়ে জনগণের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। অস্থিরতা কমাতে জ্বালানি তেলের দাম কমানো, বিভিন্ন নিত্যপণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার, বেসরকারি উদ্যোগে চাল আমদানির সুফল জনগণকে দিতে চায় সরকার। এ সুফল পেতে হলে আগে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। সিন্ডিকেট, নৈরাজ্য, একচেটিয়া ব্যবসায় আর বরদাশত করবে না বলে সরকার ঘোষণা দিয়েছে। এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, এখন থেকে আটটি নিত্যপণ্যের দাম নির্ধারণ করে দেবে সরকার। নির্ধারিত দামের চেয়ে কেউ বেশি নিলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলেও জানান তিনি। সরকারের এ উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। তবে দ্রুত সময়ে বাস্তবায়ন করতে হবে। এটা স্পষ্ট যে, করোনা-দুর্যোগে অনেকের আয়-রোজগার কমে গেছে, অনেকেই হয়েছেন কর্মহীন। এখনো বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে যাতে বাজারকে অস্থিতিশীল করতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখার কথা জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন কর্মকর্তারা। অবশ্য এসব তৎপরতায় তেমন কোনো সাফল্য আমরা দেখি না। চাল আমাদের প্রধান খাদ্যপণ্য। অথচ এই চাল নিয়ে প্রায় ধারাবাহিকভাবে চলছে চালবাজি। চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে সরকার অনেকবার চাল আমদানি করেছে। আমদানি শুল্কও কমিয়েছে কিন্তু ভোক্তারা এর যথাযথ সুফল কখনই কাক্সিক্ষত মাত্রায় পাননি। চালের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে গত তিনটি বছর দেশের চালের বাজার অস্থির করে রেখেছে মিলমালিকরা। শুধু তাই নয়, বোরো এবং আমনের ভরা মৌসুমেও চালের দাম বেড়েছে গত দুই বছর, যা অতীতে খুব একটি দেখা যায়নি। ভোজ্যতেলের বাজারে চলছে লুটপাট। ব্যবসায়ীরা ভোজ্যতেলের বাজার চালাচ্ছেন খেয়াল-খুশিমতো। মিলমালিকরা সিন্ডিকেট করে উৎপাদন কমিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। আবার যখন তাদের দাম বাড়ানোর খায়েশ হয়, তখন বাজারে সরবরাহ কমিয়েও সংকট তৈরি করে। ডিম নিয়েও কম হয়নি। এর পেছনেও ছিল সিন্ডিকেটের হাত। এর আগে পেঁয়াজের বাজারের সিন্ডিকেটের কারণে এক কেজি পেঁয়াজ ৩০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। কাঁচামরিচের কেজি ২৫০-৩০০ টাকায় ঠেকেছিল। যেই ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হলো অমনি দাম পড়ে গেল। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে কয়েকটি ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। তার প্রভাবে হয়তো সেই গুটিকয়েক পণ্যেরই দাম বাড়তে পারে দেশের বাজারে। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে দেশে উৎপাদিত ও আমদানি করা সব ধরনের পণ্যের দাম এত পরিমাণে বেড়েছে, যা ক্রেতা-সাধারণের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, এটার বাস্তবায়ন দেখতে চাই। টিসিবির মাধ্যমে খোলাবাজারে পণ্য বিপণন, বাজার মনিটরিং ইত্যাদি যেসব পরিকল্পনা আছে তাও যেন যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়। এর বাইরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বাজার পরিস্থিতি তদারকি অব্যাহত রাখতে হবে। আমরা এও মনে করি, কেন্দ্র থেকে স্থানীয় উৎপাদন ক্ষেত্র পর্যন্ত ব্যবস্থাপনাও নজরদারির আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে আমদানিকৃত ও দেশজ উৎপাদিত- এই দুই ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন ও নির্বিঘœ রাখার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়