জ্বালানি তেলের দাম কমানোর সুফল মানুষ কি পাবে?

আগের সংবাদ

কূটনীতির রকমফের

পরের সংবাদ

নতুন আতঙ্ক মোবাইল জুয়া

জুবায়ের আহমেদ

শিক্ষার্থী, বিজেম

প্রকাশিত: আগস্ট ৩১, ২০২২ , ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ৩১, ২০২২ , ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ

দেশীয় ও ধর্মীয় আইনে জুয়া স্পষ্টত নিষিদ্ধ। অপরদিকে নিষিদ্ধ কাজের প্রতিই মানুষের আগ্রহ থাকে সবচেয়ে বেশি। জুয়া মাদকের মতোই ভয়ংকর সর্বগ্রাসী নেশা। জুয়ার নেশায় আসক্তরা মা-বোন, স্ত্রী-কন্যার স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান সম্পদ বিক্রি করার মাধ্যমে জুয়া খেলে থাকেন। তাদের জুয়ার নেশা থেকে ফেরানো কঠিন থেকে কঠিনতর কাজ। জুয়ার মাধ্যমে সর্বস্ব হারানোর বহু নজির থাকলেও আমরা ভুল থেকে শিক্ষা নেই না। অপরজনের পরিণতি থেকে শিক্ষা নিতে না পারায় একসময় নিজেও চরম ক্ষতির শিকার হতে হয়। মানুষের নৈতিক অধঃপতন ঘটানোর অন্যতম মাধ্যম জুয়া। প্রশাসন থেকে মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না জুয়া। উল্টো জুয়া খেলার মাধ্যম বাড়ছেই। তরুণ প্রজন্ম ব্যাপকভাবে এই নেশারূপী জুয়ার আগ্রাসনে নিজেদের জড়িয়ে ফেলছে। যা পরিবার ও সমাজের জন্য এক ভয়ানক পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।
এক সময় ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন গ্রামীণ খেলাধুলা এবং ক্যাসিনোর মাধ্যমে জুয়া খেলার প্রচলন থাকলেও স্মার্টফোনের সহজলভ্যতার যুগে মোবাইলের মাধ্যমে জুয়া খেলার হিড়িক পড়েছে তরুণদের মাঝে, যা দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এন্ড্রয়েড ফোনে বিভিন্ন জুয়ার অ্যাপসগুলো অধিক লাভবান হওয়ার লোভ দেখিয়ে অ্যাপস ডাউনলোড করে খেলার আহ্বান জানানো হয়। বিভিন্ন নামে থাকা অ্যাপসগুলোর বিজ্ঞাপনে বাংলাদেশি ব্যাংক এবং বিকাশের মাধ্যমে পেমেন্টের সুযোগ দেখিয়ে টোপ দেয়ার ফলে তরুণরা মোবাইল জুয়ায় আকৃষ্ট হচ্ছে দিন দিন। ক্যাসিনোর আদলে অ্যাপসের মাধ্যমে জুয়ায় জড়িতদের অনেকেই ইতোমধ্যে কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনেছে। (জুয়ার ক্ষেত্রে প্রচারেই প্রসার নীতিকে অনুৎসাহিত করার লক্ষ্যে জুয়ার অ্যাপস ও ওয়েবসাইটগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়নি)।
মোবাইলের মাধ্যমে জুয়া খেলা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা বেশ কঠিন কাজ। কেননা অ্যাপসের মাধ্যমে কিংবা জুয়ার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এই জুয়া খেলার কারণে কারা জুয়া খেলছে কিংবা কারা সাধারণ গেমস কিংবা ফেসবুক ব্যবহার করছে তা সহজে বেঝা সম্ভব নয়। মোবাইলে জুয়াড়িদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চেয়েও বড় দায়িত্ব পরিবারের সদস্যদের। সন্তান কার সঙ্গে মিশছে, মোবাইলে সারাক্ষণ কী করছে তা পর্যবেক্ষণে রাখার মাধ্যমে সন্তান যেন স্মার্টফোনের অপব্যবহার করতে না পারে, তার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। জুয়া খেলা ব্যক্তিদেরও বুঝতে হবে এটি দেশীয় আইনে নিষিদ্ধ কাজ। ইসলাম ধর্মমতেও জুয়া খেলা হারাম। এর থেকে আয় করা অর্থও হারাম। হারাম আয়ে কখনোই উন্নতি সাধন করা যায় না। জুয়া থেকে নিজেদের বিরত রাখতে হবে। প্রয়োজনে যাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখলে কিংবা মেলামেশা করলে জুয়ায় আসক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সেসব অসৎ সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে। বেশিরভাগ তরুণই অসৎ সঙ্গে মিশে জুয়াসহ নানাবিধ অপরাধ কর্মে লিপ্ত হয়। আর বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহারের চেয়ে অপব্যবহারটাই বেশি হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে নৈতিকতা ও আত্মসংযম ও সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।
যেহেতু জুয়ায় আসক্ত ব্যক্তিরা মাদকাসক্তর মতোই হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে যায়, সেহেতু মোবাইল কিংবা অন্য কোনোভাবেই জুয়া খেলা হোক না কেন, তা বন্ধ করতে পরিবারের সদস্যদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। সামাজিক সংগঠনগুলোকে জুয়ার কুফল ও ভয়াবহতা সম্পর্কে এলাকায় সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। মোবাইলের মাধ্যমে কিংবা যে কোনো জুয়ার আসর ভেঙে দিয়ে মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। জুয়া যেহেতু দেশীয় আইনে নিষিদ্ধ, সেহেতু এন্ড্রয়েড প্লে স্টোরে থাকা সব প্রকার জুয়ার অ্যাপস এবং বাংলাদেশে দৃশ্যমান সব প্রকার জুয়ার ওয়েবসাইটের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণার মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করতে সরকারের আইটি সংস্থাকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। দেশব্যাপী মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জুয়ার যে ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়েছে, তা রোধ করতে সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সচেতনতা তৈরি করতে পারলে মোবাইল জুয়াসহ সর্ব প্রকার জুয়ার ভয়াবহতা থেকে মুক্ত হওয়া কঠিন হবে না।

জুবায়ের আহমেদ : শিক্ষার্থী, বিজেম, কাঁটাবন, ঢাকা।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়